রাজশাহী জেলা আ.লীগে নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় যারা

রাজশাহী জেলা আ.লীগে নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: ১৫-১১-২০১৯, সময়: ১৪:০৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করতে নির্দেশনা রয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৪ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী নগর সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সমন্বয়ে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে সম্মেলনের দিন ঘোষণার পর মাঠে নেমে পড়েছেন পদ প্রত্যাশীরাও।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। গত ৮ নভেম্বর রাজশাহী আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব নিরসনে কেন্দ্রের বৈঠকে সম্মেলনের দিন ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সম্মেলন আয়োজনের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে। তবে সম্মেলনের দিন ঘোষণার পর অনেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন শীর্ষ পদগুলাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। যাদের অধিকাংশই শুরু করে দিয়েছেন প্রচার প্রচারণা। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রার্থীতা জানান দেয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের অফিসগুলোতে বায়োডাটা দিয়েও অনেকেই জানান দিয়েছেন শীর্ষ পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সূত্রমতে, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আর পুর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হয় এক বছর পর। ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ৭১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেন। তবে অনুমোদিত কমিটি জেলায় পাঠানো হয় ৭ ডিসেম্বর। এর আগে সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। সম্মেলন অনুযায়ী এ কমিটির মেয়দ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে।

পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণার বছর খানেক পর থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী দলীয় প্রার্থী এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এর পর সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন কেন্দ্র করে তাদের বিরোধ প্রকাশ্যে রুপ নেয়। এর পর থেকে প্রতিনিয়তই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বক্তব্য দেন। অভিযোগ উঠে দলের হাইকমান্ডেও। এ নিয়ে কেন্দ্র সালিশ ডাকা হয়। গত ৮ নভেম্বর সালিশ শেষে ঘোষণা দেয়া হয় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন। আর এবারের এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাজশাহী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছে নতুন চমক। এমনটাই মনে করছেন রাজশাহীর রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রমতে, এবারের সম্মেলনে ওমর ফারুক চৌধুরী ছাড়াও সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন আরও তিনজন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এদের দুইজন বর্তমান সংসদ সদস্য রয়েছেন। এরা হলেন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের তিনবারের সাংসদ প্রকৌশলী এনামুল হক ও রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের তিনবারের এমপি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এছাড়াও এবার সভাপতি পদে লড়বেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপুর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি রাজশাহী-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে এবার ডজন খানেক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বি করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যাদের অধিকাংশই সাবেক ছাত্রনেতা। এদের মধ্যে যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তারা হলেন, রাজশাহী-৫ আসনের দুইবারের সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, জেলা কমিটির বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দীন লাভলু এবং বাগমারা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু। এদের মধ্যে দারা, আয়েন ও লাভলু রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা। আর সান্টু জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা।

এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে এবার প্রার্থী হতে চান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান, আলফোর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক, জেলার দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু।

উপরে