বুয়েট ছাত্রলীগের চারনেতা গ্রেপ্তার

বুয়েট ছাত্রলীগের চারনেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ০৭-১০-২০১৯, সময়: ১৯:৪৭ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চার ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। সোমবার বিকেলে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে গ্রেপ্তার চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেফতাহুল ইসলাম জিয়নকে আটক করা হয়।

ওই হলের শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন। পরে শিক্ষার্থীরা রাত ২টার দিকে হলের দ্বিতীয়তলার সিঁড়িতে তার লাশ পায়। সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, “ভোঁতা কিছু দিয়ে মারা হয়েছে। ফরেনসিকের ভাষায় বলে- ব্লান্ট ফোর্সেস ইনজুরি। বাংলা কথায়, ওকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।”

ওই তরুণের হাতে, পায়ে ও পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, “ইন্টার্নাল রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।” ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সহপাঠীদের বরাতে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশ কর্মকর্তারা।

হলের যে কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই ২০১১ নম্বর কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষ সকালে ঘুরে দেখেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সেসব কক্ষ থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান। তিনি বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রত্যেকটা অপরাধীকে খুঁজে বের করব।” একই সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু বুঝি এখানে ভিন্ন মতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার নেই। এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারা দোষী সাবস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারসোনালি আমার কোনো ভিন্নমত নেই।”

Leave a comment

উপরে