ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে যা বললেন দুদক চেয়ারম্যান

ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে যা বললেন দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ০৭-১০-২০১৯, সময়: ১৭:৪৮ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। তার দেশত্যাগেও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে জুয়া ও অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার মাধ্যমে অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে এমন অন্তত ২০ জনের নামের তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে এসেছে। ইতোমধ্যে এদের সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর সেগুন বাচিগায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করে কেউ পার পাবে না। শিগগিরই আইনের আওতায় তাদের আনা হবে।’ তবে যে ২০ জনের তালিকা এসেছে তাদের নাম প্রকাশ করেননি দুদক চেয়ারম্যান। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।

প্রসঙ্গত যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার ক্ষোভ প্রকাশের চার দিনের মাথায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র্যা ব। ওই দিনই গুলশানের বাসা থেকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র আইন, অবৈধভাবে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা করা হয়।

এর পর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে হলুদ রঙের বিশেষ ধরনের ইয়াবা ট্যাবলেট ও অস্ত্রসহ কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে ক্যাসিনো চালানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও জুয়া খেলার বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই নিকেতনের ১১৩ নম্বর বাসা থেকে যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীমকে আটক করে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়।

শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় জিকে শামীম ও খালেদের অবৈধ আয়ের ভাগিদার ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদকে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতার করে র্যা ব। এ সময় তার ক্যাসিনো ব্যবসার ভাগিদার এনামুল হক আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্লাবপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর ও ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এ দুজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতারের পর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি যাতে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য সীমান্তে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনের ওসি মহসিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মহসিন খান বলেন, ঢাকা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও নেপালের নাগরিকরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে। ৩ দিনের মধ্যে তার এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বৃহস্পতিবার বিএফআইইউ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তবে আগে থেকেই মৌখিকভাবে তার ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়। ফলে তার হিসাব থেকে টাকা তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। তার নামে দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সোনালী ব্যাংকে তার দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে সাড়ে ১১ কোটি টাকা ঋণও রয়েছে। ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানে যুবলীগের পদস্থ কয়েকজন নেতাকর্মী আটক হয়েছেন।

এর মধ্যে জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ আরও অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, অস্ত্র ও মদ আটক করেছে র‌্যাব। আটকরা তাদের কর্মকাণ্ডের অংশীদার, সুবিধাভোগী ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

Leave a comment

উপরে