আ.লীগের শোকজের তালিকায় রাজশাহীর তিন নেতা

আ.লীগের শোকজের তালিকায় রাজশাহীর তিন নেতা

প্রকাশিত: ১০-০৯-২০১৯, সময়: ১৩:৩৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠিকানা বরাবর শোকজ চিঠি পাঠানো শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। সোমবার রাজশাহীসহ পাঁচ বিভাগে শতাধিক নেতার স্থায়ী ঠিকানা বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হয়। এ তালিকার রাজশাহীর তিনজন নেতার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সরকারি ছুটি থাকায় আগামীকাল বাকি তিন বিভাগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠিকানায় শোকজের চিঠি পাঠানো হবে। শোকজ তালিকায় আপাতত নৌকা বিরোধী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদদাতা মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের নাম নেই। পরে তাদের নামেও শোকজ চিঠি পাঠানো হবে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোমবার সারা দিন এসব চিঠি পাঠানো হয়েছে। আপাতত আমরা ৫ বিভাগে উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে শোকজ চিঠি পাঠিয়েছি। বুধবার বাকি বিভাগগুলোতেও চিঠি পাঠানো হবে।’

সূত্র জানায়, সোমবার শোকজ চিঠি ইস্যু করা পাঁচ বিভাগের। এগুলো হল- রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট। তবে এই শোকজের তালিকায় মদদদাতাদের নাম নেই। মদদদাতা ছাড়াই শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। জবাব দেয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দিয়ে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ‘কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না’ তা জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। জবাব সন্তোষজনক না হলে দলীয় পদসহ স্থায়ী বহিষ্কার হবেন অভিযুক্ত নেতারা।

রাজশাহী আওয়ামী লীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শোকজের তালিকার রাজশাহী জেলার তিনজন নেতার নাম রয়েছে বলে জানান গেছে। এরা হলেন, গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ ও চারঘাটের আওয়ামী লীগ নেতা টিপু সুলতান। এদের মধ্যে বদিউজ্জামান গোদাগাড়ী, আব্দুল মজিদ দুর্গাপুর ও টিপু সুলতার চারঘাট উপজেলার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন- গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের কথা উঠে আসে সে আলোচনায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ ও জুনে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আট বিভাগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। এর বাইরে দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল শতাধিক। আর মদদদাতা মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী শতাধিক নেতার নাম ওঠে আসে আলোচনায়।

Leave a comment

উপরে