শর্তে রাজি নন মিনু, নগরেও আসছে নতুন মুখ

শর্তে রাজি নন মিনু, নগরেও আসছে নতুন মুখ

প্রকাশিত: ১০-০৮-২০১৯, সময়: ১৪:৫৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির মোট ৮২টি সাংগঠনিক জেলা শাখার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলার নতুন কমিটি গঠন করছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই ৩৩ জেলার আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিগুলো ঈদের পর ঘোষণা করা হবে।

নেতারা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটির মধ্যে অধিকাংশ কমিটি ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ঈদের পর পরই সেগুলোর আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। এটি দল পুনর্গঠনে একটি চলমান প্রক্রিয়া।

তবে এবার কমিটি নিয়ে কিছুটা কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলা-নগরের নতুন কমিটি গঠনে শর্ত দেয়া হয়েছে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব- পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটির শীর্ষ পদে থাকতে পারবেন না। যদিও এ নিয়ে রয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ। এছাড়াও নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি চাপিয়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

রাজশাহীতে রয়েছে বিএনপির দুইটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি। এর মধ্যে জেলার ৪১ সদস্য আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে। এর আহবায়ক করা হয়েছে কেন্দ্রের সদস্য ও চারঘাট উপজেলার সভাপতি আবু সাঈদ চাঁদকে। সদস্য সচিব হয়েছেন জেলা সহসভাপতি তানোরের বিশ্বনাথ সরকারকে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখনো রাজশাহী মহানগরের কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

রাজশাহী বিএনপির একাধিক সূত্রমতে, মহানগরের আহবায়ক হওয়ার জন্য দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুকে কেন্দ্র থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এ কারণে মহানগরের আহবায়ক কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে।

সূত্রমতে, জেলা কমিটি গঠনে বলা হয়েছে শুধু আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব- পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটির শীর্ষ পদে থাকতে পারবেন না; এমন শর্তে মিজানুর রহমান মিনু নগরের আহবায়ক হতে রাজি নন। ফলে এবার রাজশাহী নগরের আহবায়ক হিসেবে নতুন মুখ আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আহবায়ক হিসেবে সিনিয়র নেতা হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির হোসেন, কামরুল মনি ও দলটির আরেক প্রবীণ নেতা এনামুল হকের নাম আলোচনায় এসেছে। যে আহবায়ক হবেন তিনি পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক মন্ত্রী কবির হোসেন, সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা পন্থীতে তিনভাবে বিভক্ত রাজশাহী বিএনপি। জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির শীর্ষ দুই পদে স্থান পেয়েছেন মিনুপন্থীরা। এ নিয়ে রাজশাহীর নেতাদের মধ্যে রয়েছে অসন্তস। বিশেষ করে রাজশাহী জেলা কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে বিশ্বনাথ সরকারকে। যাকে স্থানীয় নেতারা অনেকেই চেনেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য বলেন, আবু সাঈদ চাঁদকে আহ্বায়ক করেছে ঠিক আছে। তিনি কর্মীবান্ধব ও রাজপথের নেতা। কিন্তু যাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে আমার রাজনীতির ১৪ বছরে তাকে মিছিল মিটিংয়ে খুব একটা দেখিনি। তিনি নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত নন।

অপরদিকে, বড় দুইটি ইউনিটের পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটির শীর্ষ পদ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজশাহী বিএনপিতে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। কে কে কোন পদে প্রার্থী হচ্ছেন এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই শীর্ষ পদে প্রার্থী হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

জেলা বিএনপির একাধিক সূত্রমতে, এবারও জেলার সভাপতি পদের জন্য প্রার্থী হবেন সদ্য সাবেক সভাপতি তোফাজ্জাল হোসেন তপু। এছাড়াও এ পদে জন্য প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা, সাবেক সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মন্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু। আর সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক যুগ্ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল হক রায়হান, আনোয়ার হোসেন উজ্জল, সংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা মামুনের নাম শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে, মেয়াদোত্তীণ রাজশাহী মহানগর কমিটি এখনো ভেঙ্গে দেয়া না হলেও পরবর্তী কমিটির শীর্ষ পদ নিয়ে রয়েছে গুঞ্জন। এবারো সভাপতি পদে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রার্থী থাকবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও মিজানুর রহমান মিনু যদি সভাপতি পদ না চান তবে এ পদে লড়বেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে এবার প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলের নির্যাতিত নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, বিএনপি নেতা ওয়ালিউর রহমান রানা, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু নাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর বিএনপির এক নেতা বলেন, মিজানুর রহমান মিনুকে আমরা বিএনপির স্থাীয় কমিটিতে দেখতে চাই। কারণ সেই পদের জন্য তিনি যোগ্য। ইতোমধ্যেই রাজশাহী বিএনপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রে এ দাবি তোলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে হলে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুনদের জায়গা দিতে হবে। এর পর জেলা ও মহানগরের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করতে হবে। তবেই রাজশাহীতে বিএনপিকে শক্তিশালী করা সম্ভাব বলে মনে করেন দলটি ওই নেতা।

উপরে