রাজশাহীতে এবার ঈদ রাজনীতির উল্টো চিত্র

রাজশাহীতে এবার ঈদ রাজনীতির উল্টো চিত্র

প্রকাশিত: ০৯-০৬-২০১৯, সময়: ১৪:৪১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনে আগের ঈদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর ছিল রাজশাহীর ছয়টি আসনের অজপাড়াগাঁ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তৃণমূলের যেসব নেতাকর্মী-সমর্থক দলীয় প্রার্থীর পক্ষে থেকেছেন বা নির্বাচন করেছেন এবারের ঈদে তাদের পাশে কেউই দাঁড়াননি। ভোটের পর কয়েক মাসেই পাল্টে গেছে সেই চিত্র।

এবারের ঈদে তৃণমূলের খোঁজখবর নেননি রাজশাহীর সংসদ সদস্য ও নেতারা। অনেকেই পরিবারকে সময় দেয়া নিয়ে ঈদ পার করেছেন। নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলতে অনেক নেতা এমপি ঈদের আগেই ফোন বন্ধ রাখেন। কেউ আবার ওমরাহ হজ করতে গেছেন সৌদি আরব। অনেকে পুরো পরিবার নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন বিদেশে।

দেশের প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চিত্রও প্রায় একই। অথচ ঈদের আগে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াতে দলগুলোর হাইকমান্ড থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল। কিন্তু বেশির ভাগ নেতাই এলাকায় গিয়ে হাইকমান্ডের সেই নির্দেশ পালন করেননি। জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী প্রথম ঈদে তৃণমূলের পাশে ছিলেন না তারা। তাদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভিড় জমে। রাজশাহীর ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শতাধিক নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। নির্বাচনের আগে মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতারা নিয়মিত তাদের নির্বাচনী এলাকা সফর করেন। খোঁজ নেন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। কোনো নেতাকর্মী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকলে সেখানেই ছুটে গেছেন। অনেকেই নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। কারও কোনো সমস্যা থাকলে তাৎক্ষণিক তা সমাধান করে দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটের আগে গত ঈদুল আজহায় তৃণমূলে তাদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। সে সময় ভোট সামনে রেখে অনেকেই দীর্ঘদিন পর এলাকায় গেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অধিকাংশই ঈদ উদযাপন করেছেন গ্রামে। তাদের পদচারণায় জমে উঠেছিল ঈদ রাজনীতি। ঈদ বকশিশের নামে অনেককেই নগদ টাকা দিয়েছেন। তৃণমূলের নেতাদের কাছে টানতে তাদের বকশিশের পরিমাণও ছিল বেশি। কিন্তু এবার ঈদের চিত্র পুরো উল্টো। নির্বাচনের পর রাজশাহীর অনেক এমপি, মন্ত্রী এবং মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা ও প্রার্থীদের অধিকাংশই এলাকায় যাননি।

বিগত সময়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে এমনকি মোবাইলেও এসএমএস পাঠিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দিলেও এবার তা দেখা যায়নি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করেন না। নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচনের সময় ভোট পাওয়ার আশায় নেতাকর্মীদের কাছে ছুটে আসেন। কিন্তু এখন তো নির্বাচন নেই তাই আমাদের আর প্রয়োজন নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ পড়লেও ঈদের আগের দিন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাননি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ঈদের তিন-চারদিন আগে থেকে সাংসদের মোবাইল ফোন বন্ধ থেকেছে বেশীর ভাগ সময়। মাঝে মধ্যে মোবাইল খোলা থাকলেও রিসিভ হয়নি। আর এ আসনে যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তাদের তো টিকির নাগাল পাননি নেতাকর্মীরা। এতে চরম হতাশ হয়েছেন তারা। এছাড়াও বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ছায়ার লাগালও পায়নি তাদের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের। যারা আগে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তাদের সঙ্গে।

রাজশাহী-২ আসনের ১৪ দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ঈদের দুদিন আগে এলাকায় আসলেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে হয়নি তেমন যোগাযোগ। বিশেষ করে ১৪ দলের নেতাকর্মীদের কোনই খোঁজ খবর নেননি এই সাংসদ। ফলে হতাশ হয়েছেন অনেকই। এছাড়াও এ আসনে যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তারা খবর নেননি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। এ আসনে একই অবস্থা ছিল বিএনপিতেও। তবে এর প্রভাব ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ব্যবসায়িক নেতাদের উপর।

রাজশাহী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন ঈদের দুইদিন আগে এলাকায় আসলেও খোঁজ খবর রাখেনি নেতাকর্মীদের। বাড়িতে ঈদ করলেও দেখা পাননি অনেকেই। দেখা করতে গিয়েও হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের। গত ঈদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পদচারণায় এ আসনটি মুখরিত থাকলেও এবার এলাকায় দেখা যায়নি কাউকে। ফলে হতাশ হয়েছেন তাদের কর্মী সমর্থকরা। এছাড়াও এ আসনে প্রার্থী বা মনোনয়নপ্রত্যাশী কারও টিকির নাগাল পাননি বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এতে চরম ক্ষুদ্ধ তারাও।

রাজশাহী-৪ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি প্রকৌশলী এনামুল হক ওমরাহ হজ করতে যান সৌদি আরব। ঈদের আগে দেশে ফিরলেও আসেননি নির্বাচনী এলাকায়। ফলে হতাশ হয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। তবে মাঝ রমজানে তিনি প্রতিবছরের মত এলাকার দুস্থ মানুষ ও কর্মী সমর্থকদের ঈদ উপহার হিসেবে নতুন কাপড় দিয়ে গেছেন। এছাড়াও নেতাকর্মীদের কোনই খোঁজ খবর নেননি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। আর দেশের বাহিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেছেন এ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু হেনা।

রাজশাহী-৫ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি ডাঃ মনসুর রহমান এলাকায় থাকলেও তার সঙ্গে দেখা করে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। তবে নেতাকর্মীরা টিকির নাগাল পাননি এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ডজন খানেক নেতার। ফলে তাদের উপর চরম ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

রাজশাহী-৬ আসনের আওয়ামী লীগের এমপির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ঈদ করেছে দেশের বাহিরে। ফলে ঈদ আনন্দ পাশে না পেয়ে চরম ক্ষুদ্ধ হয়েছেন সেখানকার আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ঈদের আগে ও পরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেননি এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা।

Leave a comment

আরও খবর

  • পবার ভাইস চেয়ারম্যান হলেন ওয়াজেদ ও আরজিয়া
  • রাসিকের মাস্টারপ্ল্যান হবে দেশের রোল মডেল : মেয়র
  • দেশে প্রথম লোহার খনির সন্ধান
  • মান্দায় মাকে হত্যা করে মেয়েকে ধর্ষণ
  • লিবিয়ায় জিম্মি রাজশাহীর ৪ যুবকের পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা
  • পবায় চার ঘন্টায় ৪০০ ভোট
  • পবাতেও ভোটার উপস্থিতি কম
  • পাবলিক পরীক্ষার সময়সহ বেশ কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
  • চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ভূমিকম্পে নিহত ১২
  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়
  • ‘বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল’
  • ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে
  • মন্ত্রিসভার রদবদলে যা জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
  • বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টে অস্থিরতা
  • সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী



  • উপরে