শেখ হাসিনার কাছে সামরিক জান্তার প্রথম পরাজয়

শেখ হাসিনার কাছে সামরিক জান্তার প্রথম পরাজয়

প্রকাশিত: ০৪-০৫-২০১৯, সময়: ০৫:৫৩ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ৩ মে ১৯৮১। দিল্লীতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ৩ মে রোববার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত আবদুল মালেক উকিল, বেগম সাহেদা চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ। দিল্লীতে শেখ হাসিনার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ১৭ মে রোববার তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এই সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নড়েচড়ে বসেন। ৩ মে ছিলো রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির দেশে ফেরার খবরে ছুটির দিনেও মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন জিয়া। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান বলেন,‘ শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে আমরা দেশে বিশৃংখলার আশংকা করছি। এনিয়ে কোন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার জন্য সরকার আহ্বান জানাচ্ছে।’ পরদিন ৪ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এস. এম মোস্তাফিজুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন ‘জননিরাপত্তার স্বার্থে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন,‘ শেখ হাসিনা যে দেশে আছেন, সেখানেই তার থাকা উচিত।’ তিনি আরো বলেন,‘ আইন অমান্য করে যদি শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চান তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিয়া সরকারের এই ঘোষণা দিল্লি পৌছতে সময় লাগেনি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে দিল্লীতে। বাংলাদেশে কোন দৈনিকে এই সংবাদ সম্মেলনের সংবাদ প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার সহ ভারতের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সের সংবাদটি ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয় যে, ‘গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দলের সভাপতি নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরতে অনড়। আজ দিল্লীতে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে হত্যা করা হলেও আমি মাতৃভূমিতে ফিরবো।‘ শেখ হাসিনা আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘মাতৃভূমিতে ফেরা আমার জন্মগত অধিকার।

এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতা পারবে না। শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আজ যারা আমাকে দেশে ফিরতে বাধা দিচ্ছে একদিন জনরোষে তাঁরাই হয়তো দেশ ছেড়ে পালাবে।
শেখ হাসিনার এই দৃঢ় অবস্থানের পর জিয়া শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অনুমতি দেয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দেন। চার সদস্যের এই কমিটির সদস্য ছিলেন তৎকালীন সিনিয়র ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, তৎকালীন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, তৎকালীন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান।

এই কমিটি ৭ মে জিয়াউর রহমানকে লিখিত প্রতিবেদন দিয়ে বলেন যে, ‘শেখ হাসিনাকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বাধা দেওয়া সমীচীন হবে না। জিয়া আসলে এই রিপোর্টও গ্রহণ করেননি। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থা যখন তাকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলে তখন ৮ মে ১৯৮১, সরকারের পক্ষ থেকে আনু্ষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আপত্তি প্রত্যাহার করা হয়। ৯ মে ১৯৮১ তে আনন্দবাজার পত্রিকায় চতুর্থ পাতায় এক খবরে বলা হয়, ‘সামরিক জান্তার প্রথম পরাজয়। (আজ ৩৮ বছর পর আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনীতির কাছে লণ্ডভণ্ড জিয়ার বিএনপি। এখন জিয়ার ছেলে লন্ডনে ফেরারী। তাকে দেশে ফেরাতে সরকার মরিয়া। অথচ তারেক দেশে ফিরতে চায় না। এটাই ইতিহাসের পরিহাস, আজ সত্যি জিয়ার পুত্র দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ৩৮ বছর আগে শেখ হাসিনার উক্তিই আজ সত্য হয়েছে।

Leave a comment

আরও খবর

  • অকার্যকর বিএনপির স্থায়ী কমিটি
  • আত্মহত্যাচেষ্টার আগে শোভন-রাব্বানীর উদ্দেশে ফেসবুকে যা লিখলেন দিয়া
  • বহিষ্কৃত হওয়ায় ছাত্রলীগ নেত্রী দিয়ার আত্মহত্যার চেষ্টা
  • ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার
  • কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন : কাদের
  • কেন্দ্রীয় কমিটিতে বরাবরই ‘পদ বঞ্চিত’ রাবি ছাত্রলীগ
  • রূপপুর আণবিক প্রকল্পে মহাদুর্নীতির খবরেও দুদকের তৎপরতা নেই : রিজভী
  • মধ্যরাতে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত
  • বগুড়া-৬ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন নিকেতা
  • ছাত্রলীগে সমস্যার জন্য যাদের দুষছেন রাব্বানী
  • ‘এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তির’
  • আড়াই মাস পর সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদের
  • ফখরুলের আসনে মান্নাকে উপ-নির্বাচন করার প্রস্তাব
  • রাজশাহীতে ইউপি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে শিবির কর্মী
  • জেল-জুলুম যাই হোক খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব: গয়েশ্বর



  • উপরে