প্রধানমন্ত্রীকে দেয়ালের ভাষা পড়ার পরামর্শ রিজভীর

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়ালের ভাষা পড়ার পরামর্শ রিজভীর

প্রকাশিত: ১০-০২-২০১৯, সময়: ১৩:২৩ |
Share This

ফাইল ফটো

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়ালের ভাষা পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, দেয়ালের ভাষা পড়ুন। চারদিকের মানুষ চোখে-মুখে কী বলছে বোঝার চেষ্টা করুন। পৃথিবীটা ক্ষণিকের, কিন্তু কর্মফল অনন্তকালের। এখনও সময় আছে। এক বছরে বহু নির্যাতন বহু কষ্ট দিয়েছেন বেগম জিয়াকে, চিকিৎসার সুযোগটুকুও দেননি। এবার তাকে মুক্তি দিন।’

রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজানো মিথ্যা মামলায় এক বছর ধরে পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাকে আদালত নামের কারাগারের আলো-বাতাসহীন ছোট্ট একটি রুমে এনে এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। তার অসুস্থতা দিনে দিনে বাড়লেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।’

রিজভী বলেন, ‘৭৩ বছর বয়সী এই নেত্রী প্রচণ্ড অসুস্থ শরীরে একা চলতে পারেন না। আদালতে বা হাসপাতালে আনতে গেলে হুইল চেয়ারই ভরসা। তারপরও টেনেহিঁচড়ে জবরদস্তি করে আনা হচ্ছে শেখ হাসিনার নির্দেশিত ক্যাঙ্গারু কোর্টে।’

খালেদা জিয়ার পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা, পা ফুলে গেছে। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার পূর্বের অসুস্থতা এখন আরও গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালের সুবিধা ও ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের দিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকেও বঞ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা। তার আর্থারাইটিসের ব্যথা বেড়ে গেচে, ফ্রোজেন শোল্ডার, হাত নড়াচড়া করতে পারেন না।’

রিজভীর অভিযোগ, অসুস্থতার মধ্যেও খালেদা জিয়াকে অমানবিকভাবে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অপরিসর কক্ষের ক্যাঙ্গারু আদালতে ঘন ঘন হাজির করানো হচ্ছে। মূলত তাকে আদালতে হাজির করানোর নামে টানাহেঁচড়া করে নির্যাতন করা হচ্ছে। চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার জিঘাংসা চরিতার্থ করে চলেছে সরকার।’

রিজভী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে চাই, দুই কোটি টাকার সাজানো মিথ্যা মামলা, যার সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। তাকে জেলখানা নামের ইঁদুর-তেলাপোকা ও পোকামাকড়ে উপদ্রুত স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে আর আটকে রাখবেন না। ওই দুই কোটি টাকা তো সরকারের ছিল না, ছিল ব্যক্তিগত ট্রাস্টের। সেই দুই কোটি টাকা ব্যাংকে জমা আছে। তা এখন তিনগুণ বেড়েছে।’

উপরে