বিএনপির দুই মত

বিএনপির দুই মত

প্রকাশিত: ০৮-১১-২০১৮, সময়: ১৩:৩৪ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকের পর দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে ধারাবাহিক বৈঠকে মিলিত হয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত প্রায় ৭ ঘণ্টায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানরা, সিনিয়র নেতারা এবং সবশেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এত লম্বা সময় বৈঠকের পরও নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি স্পষ্টতই দ্বিধাবিভক্ত মত দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির একটি বড় অংশ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছে। তবে ২০১৪ সালের সঙ্গে এবারের পার্থক্য হচ্ছে, গতবার নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে দলটিতে ঐক্যমত ছিল। কিন্তু দলটির একটি প্রভাবশালী অংশ এবার নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। তারা মনে করছেন, কারান্তরীণ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দলের অস্তিত্ব প্রশ্নে নির্বাচনে যাওয়া উচিত।

বিএনপির যারা নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তাঁরা সংসদে ছিলেন আর তখন জাতীয় সরকারে যাওয়ার একটি প্রস্তাব ছিল। কিন্তু এখন বিএনপি এই সুবিধাজনক অবস্থানটিও হারিয়ে ফেলেছে। কাজেই গতবারই যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে যায়নি, এবার নির্বাচনে গিয়ে বিএনপির কী লাভ হবে?

আর বিএনপির নির্বাচনে যাতে ইচ্ছুক অংশটি মনে করছে, এবার নির্বাচনে না গেলে বিএনপি অস্তিত্বের সংকটে পড়বে। কারণ ইতিমধ্যেই বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার জন্য ইসিকে নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এমন অবস্থায় বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায় তাহলে দলটি ধানের শীষ প্রতীক হারাবে, এমনকি নিবন্ধনও বাতিল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া দলের এই অংশটি মনে করছে, নির্বাচনে অংশ নিয়ে অন্তত বিরোধী দলেও যদি যাওয়া যায় তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা-হয়রানি থেকে মুক্তির পথ বের হবে। সংসদে থাকলে বিএনপির নেতারা সরকারে সমালোচনা করার সুযোগ পাবে কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তাদের আর কোনো অবস্থানই থাকবে না।

এছাড়া ২০১৪ সালের নির্বাচনের সঙ্গে এবারের নির্বাচনের মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে, গতবার বেশিরভাগ দল নির্বাচন বয়কট করলেও এবার অনেকগুলো দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কাজেই সরকার চাইছে বিএনপিকে বাদ দিয়েই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের নজির সৃষ্টি করতে। আর সরকার যদি এমনটা করে দেখাতে পারে তাহলে বিএনপি সংকটে পড়ে যাবে। এই কারণগুলো ছাড়াও আরেকটি কারণের কথা বলছেন বিএনপির নির্বাচনে যেতে ইচ্ছুক অংশটি। তারা মনে করছেন, দলের কর্মীরা ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা একাদশ নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এখন যদি বিএনপি নির্বাচনে না যায় তাহলে কর্মীরা হতাশ হবেন এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিকল্পধারা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করবেন। ফলে বিএনপির সংকট গভীর থেকে গভীরতর হবে।

বুধবারের বৈঠকে বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় বৈঠকের পরও নির্বাচন প্রশ্নে তাঁরা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। নির্বাচন প্রশ্নে দলে দুটি ভিন্ন মত সৃষ্টি হওয়ায় বিএনপি নেতারা এখন সিদ্ধান্তের জন্য তাকিয়ে আছেন লন্ডনের দিকে।

Leave a comment

আরও খবর

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি আসনে নৌকা চান ৪৪ জন
  • রাজশাহীতে নৌকায় চড়তে চাইছেন ৪৫ জন
  • ৩০০ আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ ইসির
  • পুঠিয়ায় দুইটি পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার
  • আ.লীগের কাছে ১০০ আসন চায় জাপা
  • ২০ আসনের জন্য অলির আল্টিমেটাম
  • প্রথম দিনে বিএনপির ৭৫০ ফরম বিক্রি
  • রাজশাহী-১ আসনের মনোনয়ন তুললেন ব্যারিষ্টার আমিনুল
  • প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী না দেওয়ার প্রস্তাব ড. কামালের
  • নৌকা প্রতীক নিয়ে বাবা-মেয়ের লড়াই
  • খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যা বললেন নেতারা
  • পদ্মার চরে সবজির বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
  • নওগাঁ-৪ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বকুল
  • দাম না থাকায় মাথায় হাত মরিচ চাষিদের
  • রাজশাহী-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হতে চান ১০ নেতা


  • উপরে