বিএনপিতে অপাংক্তেয় হয়ে উঠছেন তারেক!

বিএনপিতে অপাংক্তেয় হয়ে উঠছেন তারেক!

প্রকাশিত: ১৩-০৩-২০১৮, সময়: ১৪:১৮ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বেগম জিয়া জেলে যাবার কারণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবার মাত্র এক মাসের মধ্যে দল থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তারেক জিয়া। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেই তারেকের কথায় চলছেন না। সিনিয়র নেতারা তাকে নিয়ে বিরক্ত। বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা তাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করেছেন। দলের তৃণমূলের মধ্যে তাকে নিয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ বাড়ছে।

জানা যায়, বেগম জিয়া কারাগারে যাবার পর তারেক চেয়েছিলেন কর্মসূচিকে আস্তে আস্তে কঠিন আন্দোলনের দিকে নিয়ে যেতে। কিন্তু মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা আসন্ন নির্বাচন ও কঠিন আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতির অভাব এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তাতে সায় না দেয়ার পর হতেই তারেক রহমানের সাথে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়।

সিনিয়র নেতাদের সাথে দূরত্ব তৈরি হলেও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রিজভীও তারেক রহমানের নির্দেশনায় চলছেন এবং তার ইশারাতেই আন্দোলনের কথা বলছেন। সে কারণেই মহাসচিবের সাথে রিজভীর কথার কোনো মিল পাওয়া যায় না। দুজন ভিন্ন সুরেই কথা বলে চলেছেন। মহাসচিবের অনুমতি ছাড়াই রিজভী সব সময় নিজের ইচ্ছেমতো আলাদাভাবে প্রেস কনফারেন্স করেন। যদিও তার কথা এখন দলে কেউ খুব একটা গুরুত্ব দেন না।

জানা যায়, গত ১০ মার্চ খুলনায় জনসভার আয়োজন করে বিএনপি। জনসভার আগের দিন টেলিফোনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেন তারেক জিয়া। তারেক টেলিফোনে ওই জনসভায় ভাষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল তার প্রস্তাবে সম্মত হননি। মির্জা ফখরুল তারেক জিয়াকে জানান যে, হাইকোর্ট তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। জনসভায় তার ভাষণ প্রচার হলে পুলিশ জনসভাই করতে দেবে না। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, তারেক এনিয়ে দলের মহাসচিবের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলেও মির্জা ফখরুল তার অবস্থানে অনড় থাকেন।

বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কারণে মহাসচিব প্রথমে তাকে সামনে রেখেই দল পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, তারেকের রূঢ়, অশোভন এবং কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণ। ওই নেতা বলেন, রাজনৈতিক দল চলে নেতা-কর্মীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সমঝোতার ভিত্তিতে। কিন্তু তারেক রহমান ঠিক তার বিপরীত। দলকে তিনি তার পৈতৃক সম্পত্তি বলেই মনে করেন।

মির্জা ফখরুলের ঘনিষ্ঠ একজন নেতা বলেন, তারেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হবার পর আমরা দলের বাইরে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে সমালোচিত হয়েছি। আইনের চোখে তিনি ফেরারি আসামিও বটে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি দারুণ সমালোচিত। এ কারণেই তারেক জিয়াকে আমরা সামনে আনতে চাইছি না।’

বেগম জিয়া গ্রেফতার হবার আগ পর্যন্ত তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে তারেক জিয়া ছিলেন বিপুল জনপ্রিয়। কিন্তু বেগম জিয়া গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় কৌশলী ভূমিকার কারণে গত এক মাসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত তৃণমূলের আস্থা অর্জন করেছেন এবং অন্যদিকে দলে তারেক রহমানের প্রয়োজনীয়তাও বোধ করছেন না কেউ। এভাবে আস্তে আস্তে বিএনপিতেই অপাংক্তেয় হয়ে উঠছেন তারেক জিয়া।

আরও খবর

  • ড. কামালের পাকিস্তানি ভাষা ব্যবহার কিসের ইঙ্গিত?
  • নির্বাচন কমিশন এখন ঠুঁটো জগন্নাথ
  • ক্ষমা চাইলেন ড. কামাল
  • সোনামসজিদে শ্রমিক লীগ নেতার উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
  • রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি
  • গোদাগাড়ীতে বিএনপি নেতাকে আটকের পর ছেড়ে দিলো পুলিশ
  • ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জিডি
  • নৌকা জিতলে প্রতিটি গ্রাম হবে শহর : ডা তৃষা
  • পুঠিয়াতে নৌকা পক্ষে গনসংযোগে গিয়ে চিকিৎসা দিলেন: ডা প্রত্যয়
  • নৌকার পক্ষে রাজশাহী রেলওয়ে শ্রমীক লীগের গনসংযোগ
  • ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি’
  • ‘চুপ করো, খামোশ’
  • ড. কামাল তত্ত্বে বিএনপিতে তোলপাড়
  • নৌকার গণজোয়ার আছড়ে পড়ছে : কাদের
  • আলোর পথে যেতে নৌকায় ভোট চাই : শেখ হাসিনা


  • উপরে