অর্থনীতির চাকা সচল, থমকে রাজনীতি

অর্থনীতির চাকা সচল, থমকে রাজনীতি

প্রকাশিত: ১২-০১-২০১৮, সময়: ১২:০৬ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : টানা নয় বছর ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। আর দীর্ঘ সময় ধরে একই সরকারের শাসন চালু থাকায় সরকারের রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী বাধাহীনভাবে চলছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। এরশাদ সরকারের পতনের পর কোনো দলের টানা পাঁচ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকার উদাহরণ এই প্রথম সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ। আর ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যেসব উদ্যোগ সমাপ্ত করা যায়নি, সেগুলোও এখন এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর উদ্যোগ নেয়া বিদ্যুৎ, অবকাঠামো খাতের বেশ কিছু মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বা গতি পেয়েছে সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে। অর্থাৎ গত চার বছরে। আর এই সময়ে অর্থনীতি আগের চেয়ে বড় হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ, দেশে, বিদেশে কর্মসংস্থান, শিক্ষার হার, বিনিয়োগ থেকে শুরু করে অর্থনীতির প্রায় সব চাকাই এখন গতিশীল।

দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ছয় এর ঘর পেরিয়ে এখন সাত এর ঘরে পৌঁছেছে, সেটি আট এর ঘরে নেয়ার চেষ্টাও চলছে। মাথাপিছু আয় ছাড়িয়েছে এক হাজার ছয়শ ডলার। বেড়েছে গড় আয়ুও। আর এই সামগ্রিক বিবেচনায় চার বছরের শাসনামলকে সফল দাবি করে আগামী নির্বাচনেও জনরায়ের প্রত্যাশা করছে আওয়ামী লীগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি স্বীকার করছেন। তবে তারা বলছেন, রাজনীতির দিক থেকে অনিশ্চয়তা দূর করতে পারেনি সরকার। ময়দানে দৃশ্যত আওয়ামী লীগের একাধিপত্য আছে। আর বিরোধীপক্ষ অভিযোগ করছে নিষ্পেষণের।

দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি মন্তব্য করে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছে, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অতীব জরুরি।

গত চার বছরে সরকারের সাফল্য হিসেবে আওয়োমী লীগ ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়, বিভিন্ন মহাসড়কে চার লেনে উন্নীত করা, নতুন নতুন সড়ক তৈরি, প্রবৃদ্ধি হার বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, শিল্পায়নিআর নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেড়িয়ে মধ্যম আয়ের দেশের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উন্নয়ন হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। অবকাঠামো, সামাজিক ক্ষেত্রে এবং প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। দারিদ্র্যে কমে এসেছে, সব মিলিয়ে একটা অভূতপূর্ব উন্নয়ন।’ ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে। সন্ত্রাস নেই, জঙ্গিদেরকে দমন করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে।’

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘ইশতেহারে যা ঘোষণা করা হয়েছিলো, তার সবগুলোই পূরণ করার পথে। আমাদের সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ ছিল নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়া। এটা আমাদের জন্য একটা বড় অর্জন।’

‘আমাদের রপ্তানি, রিজার্ভ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এগিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। দ্বি-পাক্ষিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে।’

হানিফ বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা যাত্রা করেছিলাম, সে স্বপ্ন ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। ই-গভর্নেন্স চালুর পথে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবো, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সৌদি আরবের শ্রম বাজারকে সুসংহত রাখার কথা ছিল, আমরা করতে পেরেছি। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন, ভারতের সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পেরেছি।’ ‘আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে শক্তিশাল হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী, খেলাধুলার ক্ষেত্রেও আমাদের অভূতপূর্ব অর্জন।’

‘ভেবে দেখুন আজকে বাংলাদেশের কতগুলো অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলছে। নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা, স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গড়ে উঠছে এই সরকারের আমলে।’ বিরোধী ‘ধ্বংসাত্মক রাজনীতি’ থেকে দেশকে একটা স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে আসার কথাও বলেন খালিদ। বলেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সরকারের অর্থনৈতিক দিক থেকে সফলতা আছে, গণতন্ত্রের দিক থেকে আমরা পেছনে পড়েছি। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের বিস্তার ঘটেছে, গুম-খুন হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিপযস্ত। জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছে। এটা সুখকর পরিস্থিতি নয় ‘

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষা গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘চার বছরে সরকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মর্যাদার জায়গায় অনেক সফল হয়েছে। সমাজিক বিভিন্ন সূচকেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের প্রচেষ্টায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলক কম।’

‘জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাফল্যের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয় দিয়েছে সরকার। তবে এ বছর সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন।’

সরকার এই চার বছরে বিরোধী দলকে সেভাবে ‘স্পেস’ দেয়নি বলে মনে করেন এই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। তিনি বলেন, ‘আগামীতে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিজানুর রহমান শেলী মনে করেন রাজনীতি থমকে গেছে। তিনি বলেন, ‘সর্বজন বিদিত যে বিভিন্ন দিকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সাফল্য এসেছে। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যর্থতা মর্মান্তিক অবস্থার মধ্যে রয়েছে।’

‘রাজনৈতিক উন্নয়ন একটা স্লোগান আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন হয়, তেমনি রাজনীতিরও একটা উন্নয়ন আছে। রাজনৈতিক উন্নয়ন মানে যে বহুদলীয় গণতন্ত্র, দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা এবং দলের বাইরে গণতন্ত্র চর্চা। এই দিক দিয়ে সরকার পিছিয়ে আছে বলে আমি মনে করি।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় নিয় উচ্চ আদালতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে ভারসাম্যের অভাবও দেখছেন জনাব শেলী। এই পর্যবেক্ষকের মতে, শুধু ক্ষমতাসীন দলই নয়, অন্যান্য দলের মাঝে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ দেখা যাচ্ছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোতে মাঠ পর্যায় থেকে নেতৃত্ব উঠে আসছে না। আর এর প্রতিক্রিয়ায় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে অন্য পেশাজীবীদের হাতে।

দলগুলোর মধ্যে পারস্পারিক সমঝোতা, সম্মান, সহনশীলতা অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন শেলী। বলেন, ‘টাকার মাধ্যমে ক্ষমতা, ক্ষমতার মাধ্যমে টাকা-এভাবে একটা রাজনীতির বিস্তৃতি ঘটছে।’

আরও খবর

  • নওগাঁয় একই গর্ভে ছয় বাচ্চার মৃত্যু
  • ৩৪ জনকে নিয়োগ দেবে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
  • গোদাগাড়ীতে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
  • সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • মঞ্চ পুড়লেও বাকৃবিতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
  • রাজশাহীতে তিন এমপির বিরুদ্ধে আচারণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ
  • তাড়াশে পবিএস‘র ভুতুরে বিল, দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা
  • গোদাগাড়ীতে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেলো যুবকের
  • নগরীতে খায়রুজ্জামান লিটনের গণসংযোগ
  • পাবনায় মা-ছেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
  • বুলবুল প্রতিহিংসার শিকার নয় : রেনী
  • বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২
  • রাসিক নির্বাচনে নৌকার পক্ষে জেলা যুবলীগের র‌্যালি ও পথসভা
  • হরতাল ডাকার হুমকি বুলবুলের
  • এনায়েতপুরে এমপি মজিদ মন্ডলকে যুবলীগের অবাঞ্ছিত ঘোষণা


  • উপরে