গুরুর পথেই কি শীষ্যও?

গুরুর পথেই কি শীষ্যও?

প্রকাশিত: ১১-০১-২০১৮, সময়: ১৯:০৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর রাজনীতিতে আবারো আলোচনা এসেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পর রাজনীতির অন্তরালে থাকা এই দলটি নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা রাজশাহীর রাজনীতিতে এখন ‘টক অব দা রাজনীতি’।

বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা সমালচনা ছিল সবচেয়ে বেশী। তাদের অনেককেই বিভিন্নভাবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে দেখা গেছে। যাদের অনেকেই এটিকে গুরুর মতই শীষ্যকে মারার ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী নগর বিএনপির এক নেতা বলেন, বিএনপিকে কলঙ্কমুক্ত করতে জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করা প্রয়োজন। কারণ অতীতে জামায়াত ছাড়াই বিএনপির বিজয়ী হওয়ার একাধিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সময় এসেছে বলে মনে করেন বিএনপির ওই নেতা।

তবে নগর বিএনপির আরেক নেতা বিষয়টি অন্যভাবে বিশ্লেষণ করেন। জোটের সিদ্ধান্ত ছাড়াই হটাৎ করে শুধুমাত্র রাজশাহী সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা গুরুর মতই শীষ্যকে মারার ষড়যন্ত্র দেখছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর বিএনপির ওই নেতা বলেন, রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে শীষ্য গুরুকে আবার গুরু শীষ্যকে ‘ল্যাং’ মারার ইতিহাস পুরাতন। জামায়াতকে ব্যবহার করে গুরুকে শহর থেকে ছিটকে ফেলার ইতিহাসও সবার জানা। একই পদ্ধতিতে শীষ্যকে নগর থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রও কিছুদিন থেকে চলছিল। এর অংশ হিসেবেই হটাৎ করেই জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা বলে মনে করছেন বিএনপির ওই নেতা।

নগর বিএনপির একাধিক সূত্রমতে, ৯০ দশক থেকে রাজশাহী নগর বিএনপির রাজনীতির ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে সামনে এসেছেন সাবেক মন্ত্রী কবীর হোসেন, সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এদের মধ্যে রাজশাহীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত কবীর হোসেনের শীষ্য ছিলেন মিনু। আর মিনুর শীষ্য বুলবুল। তবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এই তিন গুরু শীষ্যের লড়াই চলেছে, কখনো প্রকাশ্যে কখনো গোপনে। আর এ লড়াইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের প্রধান শরীক দল জামায়াতকে। বিশেষ করে মিনুর বিরুদ্ধে জামায়াতকে পৃষ্টপোষকতা দেয়া অভিযোগও পুরাতন।

সূত্রমতে, বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা (১১ নম্বর) কবীর হোসেন ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে দুইবার ও রাজশাহী-৬ আসন থেকে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়াও কবীর হোসেন ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমাবায় এবং পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

একাধিক সূত্রমতে, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর কবীর হোসেন তার রাজনৈতিক শীষ্য মিজানুর রহমান মিনুকে রাসিকের মনোনিত মেয়রের দায়িত্ব দেন। ৯৪ সালে রাসিকের প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মিনু। এর পর মিনু তারই রাজনৈতিক গুরু কবীর হোসেনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। নিজের অবস্থান শক্ত করতে মিনু রাজশাহীর রাজনীতিতে জামায়াতকে সামনে আসার সুযোগ করে দেন। তার পৃষ্টপোষকতায় রাজশাহীতে নিজের অবস্থান তৈরী করে জামায়াত।

সূত্রমতে, ৯৬ সালের নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসন থেকে প্রথম কবীর হোসেনকে সরানোর চেষ্টা করেন মিনু। সে বার ব্যর্থ হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সহযোগিতায় সদর থেকে কবীর হোসেন ছিটকে ফেলেন। তিনি মনোনয়ন পান রাজশাহী-৬ আসনে। ওই নির্বাচনে মেয়র থাকা অবস্থায় সদর আসনে মনোনয়ন নিয়ে এমপি হন মিনু।

এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কবীর হোসেন মনোনয়ন পান রাজশাহী-৩ আসনে। এ নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটগত নির্বাচন করলেও শুধুমাত্র এই আসনে প্রার্থী দেয় জামায়াত। এর জন্য সে সময় মিনুকে দায়ি করা হয়েছিল।

এদিকে, ১৬ সালের ডিসেম্বরে মিনুকে ছিটকে ফেলে নগর সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়ে আসেন তারই শীষ্য মেয়র বুলবুল। এতে তার উপর ক্ষুদ্ধ হন মিনু। যদিও এর আগেই ২০০৮ সালে রাজনৈতিক মিনুর কথা না শুনে সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনীতির সামনের সাড়িতে চলে আসেন তিনি। সে সময় মিনু কারাগারে থেকে বুলবুলকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিষেধ করেছিলেন।

Leave a comment

আরও খবর

  • কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভাংচুর
  • সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনা, বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
  • ইজতেমা ফেরত বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৪
  • থাইল্যান্ডে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩
  • শিক্ষামন্ত্রীর পিও নিখোঁজ
  • আলমারিতে মিললো শিশুর লাশ, আটক ৪
  • রাজশাহীর আদালতে দুই এমপির মানহানির মামলা
  • শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
  • জয়পুরহাটে অস্ত্র-বোমাসহ ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার
  • শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দম্পত্তি নিহত
  • লিটনের উন্নয়নের আরেক মাইলফলক ফ্লাইওভার
  • হাথুরুর শ্রীলঙ্কাকে লজ্জাই দিল বাংলাদেশ
  • বাগমারার বিলে খাল খনন নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ
  • এই বিএনপি দেখলে জিয়া আত্মহত্যা করতেন : জাফর উল্লাহ
  • কোন্দলের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে শেখ হাসিনা
  • উপরে