পাবনা সদরে আ.লীগে প্রিন্স, বিএনপিতে শিমুল

প্রকাশিত: ১১-১০-২০১৭, সময়: ১৮:১১ |
Share This

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা : কোন পদ্ধতিতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এমন আলোচনা মধ্যেই সারা দেশে চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি। এতে পিছিয়ে নেই পাবনার আসনগুলোও। তবে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন একটা তৎপরতা নাই। যারা সম্ভাভ্য প্রার্থীর তালিকায় আছে তারা বুঝে শুনে একটু ধীর গতিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কোথায় নেই সম্ভাব্য প্রার্থীদর পোষ্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড। তবে নির্বাচনের পদ্ধতি নিশ্চিত না হলেও ভোটাররা আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব স্থানে বইছে আগাম নির্বাচনের উষ্ণ উত্তাপ। কে হচ্ছেন কোন দলের প্রার্থী। কে পাচ্ছেন দল থেকে মনোনয়ন এমন আলোচনা চলছে নগর জুড়ে।

সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৫ আসন। পাবনার রাজনীতিতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনটি আওয়ামী লীগ, বিএনপির ও জামায়াত তিন দলই নিজেদের ভোট ব্যাংক হিসেবে দাবি করেন। ৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম বকুল ও বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল আহসানকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন জামায়াতের মাও. আব্দুস সোবহান। ৯৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেন রফিকুল ইসলাম বকুল। পরে ৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ কে খন্দকার ও জামায়াতের মাও. সোবহানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির রফিকুল ইসলাম বকুল। ২০০১ সালের র্বিাচনে বিএনপির রফিকুল ইসলাম বকুল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ১৪ দল থেকে জামায়াতের মাও. আব্দুস সোবহানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে সাংসদ হন। ২০০৮ সালে মাওলানা আব্দুস সোবহানকে হারিয়ে চমক দেখান আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক প্রিন্স। ২০১৪ সালে তিনি আবারও বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হন।

বকুলের মৃত্যুর পর এ পর্যন্ত প্রায় সকল নির্বাচনেই প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বীতা হয়েছে জোটগত জামায়াত প্রার্থী আর আওয়ামী লীগের মধ্যে। এ আসন থেকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদÐপ্রাপ্ত কারাবন্দী জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবহান নিজদল ও জোটথেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে জামায়াত মনে করে এই আসনটি সারা দেশের মধ্যে জামায়াতের অন্যতম দূর্গ। ফলে জোটগত হোক আর একক ভাবে হোক; আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী আশা করেন তারা। মাও. সোবহান নির্বাচন করতে না পারলে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ক্লিন ইমেজের কোনো নেতাকে প্রার্থী করতে চান তারা। তাদের দাবী গত উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতার মাধ্যমে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইকবাল হুসাইনের পরিচিতি পেয়েছে অনেক। তাকে প্রার্থী করার ব্যাপারে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এদিকে বিএনপির কোন নেতা প্রার্থী হিসেবে আতœপ্রকাশ করেন নাই বা নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন নাই। তবে ২০ দলীয় জোটে ও এলাকার মানুষের মুখে মুখে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এর নাম। দলে প্রকাশ্য কোনো কোন্দল না থাকায় এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ বা দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আশংকা নেই বলেই মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। দলের অনেক নেতা কর্মি ও জোটের কতিপয় নেতা কর্মিরা নিজেদের উদ্যগে জোটের প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে শিমুল বিশ্বাসের নামে। অনেক সাধারন মানুষও তাকে নিয়ে ভাবছেন। পাবনা পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম লালু জানান, পাবনায় বিএনপি দলের মধ্যে কোন কোন্দল নাই। শিমুল বিশ্বাসের অবদান শুধু দলের মানুষই না সারা পাবনা বাসী জানে। তার সততা আর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পাবনার উন্নয়নে অনেক ভুমিকা রাখবে। তাই স্থানীয় ভাবে আমরা শিমুলের বিকল্প দেখছিনা। অন্যান্য সংসদীয় আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা শোনা গেলেও সদর আসনে তেমন কারো নাম এখন পর্যন্ত মাঠে নেই। কোনো নেতা কর্মীর বিলেবোর্ড বা পোষ্টার এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

এদিকে জেলা কাউন্সিল হওয়ার পর থেকে সদর আসনে আওয়ামীলীগের আসন অনেকখানি শক্ত হয়ে গেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন। দলে প্রকাশ্য কোনো দলাদলি নাই। দলটির সিনিয়র নেতারা মনে করেন প্রকশ্য দলাদলি বা কোন্দল না থাকায় এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ বা দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আশংকা নেই । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের মনোনয়ন প্রাপ্তিকে একরকম নিশ্চিতই ধরে রেখেছেন তারা।

তবে প্রিন্সকে খালি মাঠে গোল দিতে নারাজ দলের কিছু তরুণ ও প্রবীণ নেতা। প্রিন্সকে উপেক্ষা করে নৌকার মাঝি হতে চেষ্টা করছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন, খ ম হাসান কবির আরিফ, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিমের ভায়রা সাইদুল হক চুন্নু, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা ফজলুল হক মন্টু ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন। তবে সাধারন নেতা কর্মিরা প্রিন্সের বিকল্প কাউকে ভাবছেনা।

এ ব্যাপারে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নাই। দলীয় সভানেত্রী যাকে প্রার্থী করবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। জেলা আওয়ামী লীগে কোন দ্বন্দ নাই, পাবনা আওয়ামী লীগের ঘাটি, সারা দেশের ধারাবাহিকতায় পাবনাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, আশা করি ভোটারা সেটা মূল্যায়ন করবেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, জোটগত ভাবে ম্যাডাম (খালেদ জিয়া) কি করবেন আর কি করবেন না সেটা জানি না। তবে আমরা এ আসনে ম্যাডামের বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে প্রার্থী হিসেবে চাই। এর বাইরে কোনও কথা নয়।

পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মা. ইশবাল হুসাইন বলেন, জোটগত ভাবে হোক আর এককভাবে হোক আগামী নির্বাচনে পাবনা-৫ ও পাবনা-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থীতা নিশ্চিত। সারাদেশের মধ্যে যদি জামায়াত দুইটি আসনও পায় সেটিও হবে পাবনা সদর ও সাঁথিয়া। তবে প্রার্থীর ব্যাপারে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তিনিই নির্বাচন করবেন।

Leave a comment

আরও খবর

  • আওয়ামী লীগ সরকার দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছে : এমপি রাব্বানী
  • আ.লীগ ছুটছে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে
  • একক প্রার্থীর বিষয়ে জোর দিলেন তৃণমূলের নেতারা
  • নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতিতে জাপা
  • আওয়ামী লীগের সহসম্পাদকের তালিকায় ৯৩ জন
  • নলডাঙ্গার মাধনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক বহিস্কার
  • সিরাজগঞ্জে বিএনপির নেতার গাড়ি বহরে হামলা : হরতালের ডাক
  • বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক সোমবার
  • উন্নত বাংলাদেশের জন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখুন : জয়
  • দলীয় শৃংখলা রক্ষা করে ঐক্যবন্ধ থাকার শপথ তৃণমূলের
  • ‘আওয়ামী লীগের টার্গেট নারী ও নতুন ভোটার’
  • যেসব গুণে মিলবে নৌকার মনোনয়ন
  • মোহনপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
  • বাঘায় বিএনপির ইউনিয়ন কমিটি অবৈধ ঘোষণা
  • ‘খালেদা জিয়া আদালতকে হেনস্থা করেছেন’
  • উপরে