রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বনাম জয় হিন্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বনাম জয় হিন্দ

প্রকাশিত: ৩০-০৯-২০১৯, সময়: ১৬:৪৬ |
খবর > মতামত
Share This

আসলাম আহমেদ : রাবির বর্তমান ভিসি আমার রক্তের কেউ না। তার সাথে আমার কোন ধরনের লেনদেনও নেই। আমি চাকুরীর জন্য কখনো যাইনি এবং যাবোও না। তিনি আমাকে কখনো একমুঠ দানাও খেতে দেননি এবং কখনো খাওয়ার আশাও করি না। আগে আমার কথাগুলো ভালো করে বুঝবেন তারপর যুক্তি উপস্থাপন করবেন।

তিনি কিছু দিন আগে কোন এক প্রোগ্রামে ভাষনের শেষে জয় হিন্দ বলেছেন। বিশাল বড় একটা অপরাধ করে ফেলেছেন তিনি। কোন কোন পত্রিকায়তে তার রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচারও চেয়ে বসেছেন। হ্যাঁ আমিও চাই তার বিচার হোক কারন তিনি জয় হিন্দ বলে ফেলেছেন।

এখন আমার প্রশ্ন জয় হিন্দ শব্দ দিয়ে আপনি কি বুঝেছেন। ভিসি স্যার যদি জয় হিন্দ বলে অপরাধ করে থাকেন তাহলে তো আপনি ফাঁসির অপরাধ যোগ্য অপরাধ করে ফেলেছেন।

ভিন দেশের পতাকা যখন বাড়ীর ছাদে পৎ পৎ করে উড়ান তখন আপনার দেশ প্রেম কি চাঁদে চলে যায়?

নিজ দেশে বসে যখন ভারত আর পাকিস্তানের খেলা নিয়ে গন্ডগোল করেন তখন আপনার দেশ প্রেম কোথায় যায়?

একটা শার্ট আর কসমেটিকস কিনতে গেলে যখন বিদেশী ছাড়া কিনেন না তখন আপনার দেশ প্রেম কোথায় যায়?

শহরের পুরো দেয়াল যখন বিভিন্ন দেশের পতাকা আর খেলোয়াড়ের নাম দিয়ে রঙিয়ে তুলেন তখন আপনার দেশ প্রেম কোথায় যায়?

টাকা দিয়ে কোশ্চেন কিনে আর টাকা দিয়ে যখন চাকুরী নেন তখন আপনার নৈতিকতা কোথায় যায়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডার যখন আহ্বান করা হয় তখন তো ঠিকি কমিশনের জন্য চলে আসেন,তখন আপনার দেশপ্রেম আর নৈতিকতা কোথায় যায়?

সেদিন সম্ভবত একটি সেমিনার ছিলো।সেখানে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বানিজ্যিক ভালো একটা সম্পর্ক আছে। ভালো সম্পর্কের খাতিরে অনেক দেশের কূটনৈতিক রা সম্পর্ক বুঝানোর জন্য এসব বলে থাকেন। এটা হলো এক ধরনের কুটনৈতিক শিষ্টাচার। খাঁটি বাংলায় যাকে বলে পাম্প দেয়া।

অনেক দেশের প্রধানমন্ত্রীও তো আমাদের মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী কে বক্তব্যের শেষে বলে থাকেন ‘বাংলাদেশ ভালো থাকুক, প্রধানমন্ত্রী অনেক দিন বেঁচে থাকুন,আমরা আপনাদের সাথে আছি’। তাহলে তো ঐসব দেশের কুটনৈতিকরা অপরাধ করে ফেলেছেন। কারন তারা কেন বাংলাদেশে দীর্ঘজীবী হোক বললো? তারাও বিশাল বড় অপরাধ করে ফেলেছে তাই তাদের এসব কথা পত্রিকাতে ফলাও করে প্রচার হয় নি।

তিনি যদি সম্পর্কের বিচারে একথা বলে থাকেন তাহলে তার এটা অপরাধ না। তিনি দুদেশের গভীর সম্পর্কের কথা বুঝানোর জন্য এই শব্দটি উচ্চারন করেছেন। এই জয় হিনদ শব্দ বলে যদি তিনি অপরাধ করে থাকেন তাহলে আপনি তার চেয়ে হাজারো বড় অপরাধ আগেই করেছেন।

এখন এসব শুনে আমাকে দালাল বলতে পারেন কিন্ত ঠান্ডা মাথায় বুঝে তারপর না হয় গালি দিয়েন।#

সাবেক শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a comment

উপরে