তোমার জন্যই জাতি ধন্য

তোমার জন্যই জাতি ধন্য

প্রকাশিত: ২৮-০৯-২০১৯, সময়: ১১:৩৩ |
Share This

আব্দুস সাত্তার : আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলার দু:খী মেহনতী মানুষের সবচাইতে আপনজন, প্রিয়ভাজন আমাদের প্রাণপ্রিয় জননেত্রী দেশরত্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান সরকারের সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী। আজকে এই শুভ দিনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তরের অর্ন্তস্থল থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এদেশে জন্ম না হলে আজও আমরা পরাধীনতার শিকলে বন্দি থাকতাম। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতার নিদের্শেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ নিহত ও ২ লক্ষ মা- বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের এই লাল সবুজের পতাকাবাহী বাংলাদেশ অর্জিত হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বান্ধবী বেবী মওদুদ ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের কন্যার ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের অর্ধেকটা সময় কেটেছে জেলখানায়। এসময় তাঁর সন্তানদেও লালন পালন করেছেন স্ত্রী। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু যখন রাজবন্দী তখন তাকে দেখতে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় আসেন শেখ হাসিনা। সেই তার প্রথম ঢাকায় আসা। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও ছোট্ট ভাই শেখ কামাল সঙ্গে ছিলেন। বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। বঙ্গবন্ধুকে তার আগের দিন গোপালগঞ্জ জেলে স্থানান্তর করা হয় জেনে তারা আবার ফিরে যান। গোপালগঞ্জ কারাগারের বন্দী পিতাকে তিনি দেখেন। ছোটবেলা থেকেই পিতার রাজবন্দী জীবনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। দাদার সঙ্গে, কখনও মায়ের সঙ্গে গিয়ে রাজবন্দী পিতাকে দেখেছেন। ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রী হলে স্ত্রী ও সন্তানদের ঢাকায় নিয়ে আসেন । তারপর থেকে তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করতে থাকেন। এ সময় পিতার রাজনৈতিক জীবনকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে দেখারও সুযোগ পান বঙ্গবন্ধুর সন্তানেরা। আয়ুবের সামরিক শাসনামলে পিতা আবার রাজবন্দি হলেন। তখন বেগম মুজিব সন্তানদেও নিয়ে ভাড়া বাড়ি খুঁজে পেতেও দুর্ভোগ পুইয়েছেন। পুলিশ গোয়েন্দার নজরবন্দি থাকা, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ তো ছিল। মাসে একদিন বা দুইদিন কারাগারে গিয়ে পিতাকে দেখা। মামলার জন্য মুজিব উকিলদেও সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। একটু একটু করে বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানরাও পিতার রাজনৈতিক জীবনকে ঘনিষ্ঠভাবে জানতে পারলো। ১৯৬২ সালে কারামুক্ত হবার বঙ্গবন্ধু অনেকদিন বাড়িতে ছিলেন। এ সময় বেগম মুজিব ধানমন্ডিতে দুইটি ঘর তোলে বসবাস শুরু করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজে দেখাশোনা কওে পুরো বাড়ির কাজ শেষ করেন। আয়ুবী দু:শাসনকালে বঙ্গবন্ধু ও ঘরোয়া রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত, পরবর্তীতে বিডি নির্বাচন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গেল। এরপর ৬ দফা দাবি নিয়ে ব্যস্ত হলেন। ততদিনে তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের সময় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী থাকাকালে রাজপথের মিছিলে বটতলায় সভায় যোগ দিয়েছে। বলা চলে রাজনীতির হাতে খড়ি হয়ে গেছে। এরপর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী থাকাকালে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন। বড়ছেলে শেখ কামাল আগরতলা মামলার সময় ঊনসত্তরের আন্দোলন রাজপথে মিছিল করেছে। সে তখন ঢাকা কলেজের ছাত্র। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানরাও জড়িয়ে যায়।

বিশেষত:
ঊনসত্তরের আন্দোলন চলাকালে বেগম মুজিব ও শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্যে করেছেন। বাইরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, খবর পৌঁছান। জনগণ কি চায়, জনগণের অবস্থান সবই কারাগারে রাজবন্দি মুজিবের কাছে তারা পৌঁছাতেন। বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে তাদের সম্পূর্ণ বঙ্গবন্ধু যে সঠিক পথে অছেন, বাঙালির নায্য দাবি নিয়ে লড়াই করছেন। পাকিস্তানী শাসকচক্রের সাথে কোন আপস হতে পারে না এ বিষয়ে কোন কারো মনে কোন দ্বিধা বা সংশয় ছিল না।

বঙ্গবন্ধুসহ সব প্রধান নেতারা তখন রাজবন্দি, তারপরও কর্মীদের সঙ্গে বসা, তাদেও খোঁজ খবর রাখা, ছাত্ররাজনীতির জন্য কারাগার থেকে নির্দেশনা এনে দেয়া এগুলি বেশ সুচারুভাবে সম্পূর্ণ করেছে তারা। এমনকি প্যারোলে বঙ্গবন্ধুর গোলটেবিল বৈঠকে যাওয়ায় তারা রোধ করতে সচেষ্ট ছিলেন।

বেগম মুজিব তো বলেই দেন,‘তুমি প্যারোলে গোলটেবিল বৈঠকে গেলে আমি পল্টনে জনসভা কওে বক্তৃতা দে।’ বঙ্গবন্ধু তার এ কথা উপভোগ করে বলতেন,‘ আমিও সভায় বক্তৃতা শুনতে যাবো।’

সারাংপুর প্রকাশনী, রাজশাহী থেকে জননেত্রীর ৩১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ২০১২ সালে ‘আলোর অভিযাত্রী’ বিষয়ক বিশেষ স্মারক স্মরণিকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রয়াত ড. এম আব্দুল্লাহ ‘শেখ হাসিনার নিজস্ব স্বকীয়তা’ বিষয়ক একটি নিবন্ধের কিছু অংশ উল্লেখ করা হলো। ‘মায়ের গুনে তিনি গুণাম্বিতা হয়ে পিতার যেসব গুণের তিনি অধিকারি, তা হলো ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং আদর্শগত বিষয়ে অবিচল থাকা। বন্ধুবৎসল আড্ডাপ্রিয় এই মানুষটি কঠিনতায় পূর্ণ। আমার ধারণা, তাঁর চরিত্রের এই বৈপরিত্বের কারণে তার কাছের মানুষ বলে পরিচিত অনেকে তাঁকে ভুল বোঝে থাকেন। আবার তিনিও মাঝে মধ্যে কাছের লোকদের অপ্রত্যাশিত আচরণে জর্জরিত হয়ে থাকেন। রক্ত সম্পর্কীয় মানুষের কাছে তিনি তাঁর আচরণের জন্য দু:খ প্রকাশ না করলেও তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে বুঝিয়ে দেন তাঁর মনের কথা। বঙ্গবন্ধুরও এই গুণ ছিল। যে কারণে তাঁর শত্রুর সংখ্যাও খুব বেশি ছিল না।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সহজ সরল মনের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর মনের ভাব প্রকাশের জন্য উচ্চারিত বাক্য ও লেখার ভঙ্গিতে। ছোট ছোট বাক্য বলা ও লেখা। কঠিন বিষয়কে সহজ ভাষায় প্রকাশ করা তাঁর বৈশিষ্ঠ্য।

লক্ষ্য করুন, তাঁর মুখের ভাষা ও লেখার ভাষায় অদ্ভুদধরণের মিল। তিনি সার্থকভাবে রম্য সৃষ্টির আবহ তৈরী করে তীর্যক শব্দ ও রুপক প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত। বঙ্গবন্ধু এই ধারাটি মাঝে মধ্যে ব্যবহার করতেন। শোনা কথা একবার প্রয়াত এম আর আখতার মুকুল বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ভাষণগুলো নিয়ে একটা বই প্রকাশের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধু কাজটি সম্পাদন করার দায়িত্ব মুকুলকেই দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর এম আল আখতার মুকুলকে কাছে পেয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “মুকুল কাজটা করেছিস?”

মুকুল বললেন না’ ”না, তাছাড়া আপনি তো নিজেই সে কাজটি সম্পাদন করতে পারেন”। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “ আমার কাজ ভাষণ দেয়া। ভাষণ সম্পাদনার কাজটি তোর। জানিস তুই মুকুল- ই থেকে গেলি, ফুল হয়ে ফুটলি না”।

সত্য কথনে শেখ হাসিনার বোধকরি জুড়ি নেই। তিনি খুব সহজেই অপ্রিয় সত্য কথাটা বলে বসেন। সত্য কথা বলার সময় তিনি স্থান-কাল-পাত্র কোন ভেদাভেদ করেন না। এই বিষয়টি বিশেষত: তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বহুবার ঘটেছে, যা রাজনীতিকদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। এই কারণে তাঁকে সমালোচিত হতে হয়েছে বহুবার। বাংলার মানুষের জন্য শেখ হাসিনার ভালবাসা অপরিসীম এবং অকৃত্রিম, যেমনটি বাংলাদেশের মানুষ লক্ষ্য করেছে বঙ্গবন্ধুর মধ্যে। বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বাস ও ভালবাসায় সিক্ত বঙ্গবন্ধু বেঈমান স্বার্থবাজ উচ্চাভিলাসী কিছু সেনা নায়কের গুলিতে প্রাণ হারিয়ে নিজ রক্তের বিনিময়ে দিয়ে গেছেন তাদের ভালবাসার প্রতিদান।’

পরিশেষে বলা যায়, বাংলার আবহমান প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাশে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতায় পরিণত হবেন এই প্রত্যাশা করি। আবারও প্রাণপ্রিয় জননেত্রী মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।

লেখক : সাবেক দফতর সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাজশাহী জেলা শাখা।

Leave a comment

উপরে