স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তারেক জিয়ার মিথ্যাচারের নিন্দা জানাই

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তারেক জিয়ার মিথ্যাচারের নিন্দা জানাই

প্রকাশিত: ০৭-০৯-২০১৯, সময়: ১৬:৩৮ |
খবর > মতামত
Share This

আবু জুবায়ের : বঙ্গবন্ধু তার জন্ম থেকে যেদিন চেতনার অগ্নিফুলিংগের শিখায় আলোকিত সূর্যের ন্যায় আলোর স্পর্শ পেয়েছিলেন, সেদিন থেকেই তিনি বাংলা এবং বাংলার মানুষের পরাধীন আগ্নেয়গিরি লাভার উপর দাঁড়িয়ে বেচে থাকা এই বাংলার মানুষের সুখ শান্তি আর মুক্তির চেতনায় দিপ্ত হতে শুরু করেন। তার চেতনায় লালিত হতে শুরু করে বাংলার এই সবুজ অরন্যে হাজার স্বাধীন প্রজাপতির বিচরণ । বাবা-মা এর আদর্শের ছায়ায় পরিপুষ্ট মুজিব নেমে পরেন মুক্ত হাওয়া বাতাসের স্বাদ গ্রহনের স্বপ্ন আর তৃপ্ততা নিয়ে,ঘুরে বেড়িয়ে পড়েন পাহাড় থেকে অরন্যে,মরুভূমি থেকে সাগরে। একত্রিত করতে শুরু করেন হাজারো সাহস,মনবল এবং একাত্বতা। মনবল শক্ত করে বাংলার মানুষের মাঝে ভীরুতা দূর করে, আগ্নেয়গিরির লাভায় অসীম সমুদ্রের জোয়ার গড়ে তোলার স্বপ্ন জাগিয়ে তোলেন। এভাবেই বঙ্গ পিতা হয়ে ওঠেন বাংলার মানুষের আশা ভরসার আশ্রয়। বাংলার মানুষকে সেই আগ্নেয় লাভা থেকে মুক্ত করতে তার জীবনের এক তৃতীয়াংশ জেলবাস বরন করেছেন কিন্তু তবুও তিনি অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি।

ত্যাগ আর আদর্শে বেড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু যিনি চাইলেই কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে দেশকে পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করে দিতে পারতেন, সুখে শান্তিতে কাটিয়ে দিতে পারতেন তার পরবর্তী ১৪ প্রজন্ম। কিন্তু তিনি তা না করে, কি করলেন? তার জীবনের এক তৃতীয় অংশ জীবন জেলে কাটালেন শুধু দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য। এভাবেই আদর্শ আর ত্যাগে বেড়ে ওঠা মুজিব বাংলার মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ১৬৮ আসনের বিপুল ভোটের সমর্থনে জয়লাভ করেন। নির্বাচনের পর গোটা বাংলার সবাই খুশি। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই ক্ষমতায় যাবে, সরকার গঠন করবে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে ৮১ আসন লাভকারী পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান গোপন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠলেন। ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা শুরু করলেন। ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করলেন ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে ৩রা মার্চ। কিন্তু ১লা মার্চ ভিন্ন সুর টানতে শুরু করলেন। বেতার ভাষণে জানালেন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখতে হচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সারা পূর্ব পাকিস্তান। শহর বন্দরে রাজপথে জনতার ঢল।

কারফিউ অগ্রাহ্য করে মানুষ নেমে এলো রাস্তায়। সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারালো অনেকে। ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্র পরিষদের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু দাবি জানালেন-সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে, সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। দাবি না মানলে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অপরদিকে সামরিক জান্তাও বাঙালি নিধনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। উড়োজাহাজে ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গভর্ণর ও সামরিক প্রশাসক হয়ে আসেন টিক্কা খান। এতে জনগণ আরো ক্ষেপে ওঠে। ছাত্র শিক্ষক কৃষক শ্রমিক নেমে আসে পথে। উত্তাল হয়ে উঠে সারাদেশ। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সরকারি বেসরকারি সকল ভবনে কালো পতাকা উড়তে লাগলো। রেডিও টিভিতে বাংলার উদ্দীপনাময় সঙ্গীত পরিবেশন শুরু হলো। সবাই ৭ মার্চের অপেক্ষায়। এভাবেই এলো ৭ মার্চ। লক্ষ লক্ষ জনতার সমাবেশে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করলেন-‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

সমগ্র জাতি এরপরই স্বাধীনতা যুদ্ধের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করল । তারপরেই চলতে থাকে অসহযোগ আন্দোলন এবং শাসকগোষ্ঠির সঙ্গে বৈঠক। কিন্তু বৈঠকের নামে কালক্ষেপনই ছিল ইয়াহিয়া ভুট্টোর উদ্দেশ্য। তাই ২৫ মার্চ রাত্রিতে হানাদার বাহিনী শুরু করে নির্বিচার গণহত্যা। ৭ মার্চের ভাষনে তিনি অঘোষিত ঘোষনা দিলেন যে আমি অনুপস্থিত থাকলেও তোমরা যুদ্ধে নেমে পড়বা আমার কথার অপেক্ষায় থাকবেনা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে সামরিক বাহিনীর আক্রমণের অব্যবহিত পূর্বে এবং পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতারের প্রাক্কালে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা ছিল নিম্নরূপ:

“এটিই সম্ভবত আমার শেষ বার্তা: আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণের নিকট আমার আহবান, আপনারা যে যেখানেই থাকুন এবং আপনাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করুন। যতদিন পাক হানাদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত না হয় এবং যতদিন আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হয় ততদিন সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন।”

শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তাটি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে প্রচারের জন্য মধ্যরাতের কিয়ক্ষণ পরে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়। মার্চ মাসের ২৬ ও ২৭ তারিখে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র (পরের নামকরণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) থেকে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার আরও দুটি ঘোষণা প্রচার করা হয়। এর একটি প্রচারিত হয় চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ হান্নান কর্তৃক এবং অন্যটি মেজর জিয়াউর রহমান কর্তৃক।

তাহলে বিএনপি কোন লজ্জায় জিয়াউর রহমানকে বাংলা জাতির জনক দাবি করেন? দেশ স্বাধীন করার ব্যাপারে যে জিয়ার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে ৫% ও কোন অবদান ছিলোনা, সেই জিয়া বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা পত্র পাঠ করেই স্বাধীনতার ঘোষক হয়ে গেলেন? তাহলে সেদিন প্রথম সেই ঘোষণা পত্র পাঠ করে এম.এ. হান্নান’এর পরিবার কেন তারে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেন না? কারণ এম.এ.হান্নানের তারেকের মত কুলাংঙ্গার সন্তান নেই,তার জন্যই কি?

যারা বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করে,তার ত্যাগকে এভাবে হরণ করে নিতে চায় তাদের সত্যিই এই বাংলায় বসবাসের অধিকার নেই।

এতো ত্যাগের পরেও যখন কোন ব্যাক্তি, তারেক জিয়া এবং কোন সংগঠন,শেখ মুজিবের এই ত্যাগকে হরণ করে নিতে চায়, অন্য কাউকে স্বাধিনতার ঘোষক এবং বাংলা জাতির জনক বলে প্রেস ব্রিফিংএ ঘোষণা করেন তখন তারে এই বাংলার মাটিতে,বাংলার আদর্শ আর ত্যাগ কে বাচাতে দৃষ্টান্ত শাস্তি এবং দেশদ্রোহিতার জন্য কারাগারে পাঠানো উচিৎ।

আর বিএনপি কে বলে রাখি এই তারেক রহমান যতদিন বিএনপিতে থাকবে ততোদিন এই বিএনপি আলোর মুখ দেখবেনা এবং এই তারেক ক্ষমতায় আসলে দেশকে ধ্বংস না করে ক্ষান্ত হবে না। এই তারেকের দুর্নীতির জন্যই আজকে টাটা কোম্পানি ভারতে তাদের প্লান্ট করেছে।

এই তারেক জিয়া টাটা কম্পানি বাংলাদেশে তাদের গাড়ি কারখানার প্লান্ট প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন চাইলে তিনি তাদের নিকট কোন পুজি অনুদান ছাড়াই নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ এর শেয়ার চান। একজন দেশে প্রধানের সন্তান যখন এমন দুর্নীতিবাজ এবং অসৎ জানতে পেরে তারা সাথে সাথে বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থাপনের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে ভরতে চলে যান এবং ভারত টাটা কম্পানি কে জামায় আদরে গ্রহন করেন। একবার ভেবে দেখুন তারেক রহমান এই দেশের ক্ষতি কিভাবে পদে পদে করে গেছেন এবং এখনো বিদেশে বসে দেশ ধ্বংশের নীল নকশা আকতেছেন।

আজ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে হোন্ডা কোম্পানির প্লান্ট বাংলাদেশে।শেখ হাসিনা আপা এবং তার উত্তরসুরী তাদের সম্মানের সহিত এদেশে তাদের প্লান্ট করার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আজ তারেক জিয়া ক্ষমতায় থাকলে এটাও বাংলাদেশে না হয়ে অন্যকোথাও হতো। দেশ বাচাতে চাইলে এই মানুষটিকে আগে স্বমূলে উপরিয়ে ফেলতে হবে।

আসুন এই সন্ত্রাসের কথায় কান না দিয়ে দেশকে বাচাই,দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই,দেশ আরো এগিয়ে যাক সেই সহযোগিতায় সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করি। আর এসব কুচক্রী মানুষদের কথা থেকে নিজেদের বিরত রাখি।

লেখক: কার্যনির্বাহী সদস্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

Leave a comment

উপরে