চতুর্থ শিল্পবিপ্লব : একটি ধারণাগত আলোচনা

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব : একটি ধারণাগত আলোচনা

প্রকাশিত: ২৭-০৬-২০১৯, সময়: ১৭:০৩ |
খবর > মতামত
Share This

অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুস : চতুর্থ শিল্পবিপ্লব কী? কেন? কোথায়? কিভাবে? তা আমাদের সবার জানা দরকার। এই প্রবন্ধটি আশা করি আমাদের জ্ঞানের এই নতুন ধারাকে অনেকটা সমৃদ্ধ করবে। শিল্পবিপ্লব মানুষের সাথে জড়িত। জড়িত বাণিজ্যের সাথে। আরো ব্যপকভাবে বলতে গেলে এই সমগ্র পক্রিয়াটি উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে সামগ্রীক জাতীয় উন্নয়নের সাথে জড়িত। সৃষ্টির কিছুকাল পর থেকেই মানুষ দুটি বিশ্বের সাথে বসবাস করে আসছে। একটি হলো গাছপালা, প্রাণি, মাটি, পানি ও বায়ু মিশ্রিত প্রাকৃতিকভাবে নির্মিত পৃথিবী।

অন্যটি হলো বিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে নির্মিত সামাজিক ও রাজনৈতক প্রতিষ্ঠান সমৃন্ধ পৃথিবী। এই দুটি জগৎ বা পৃথিবীই আমাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সুখি সমৃদ্ধ পৃথিবীতে বসবাস করাই হলো আমাদের দুঃচিন্তার বিষয়! আগের দিনের মানব সমাজ আল্লাহ সৃষ্ট পৃথিবীকে সামন্যই পরিবর্তন করার বুদ্ধি এবং ক্ষমতা রাখতো। কিন্তু বর্তমান সময়ের মানুষ বিজ্ঞানের সুপার ক্ষমতা ব্যবহার করে পৃথিবীর অভ্যন্তরের সম্পদ আহোরণ ও ব্যবহার করার মাধ্যমে নানাধরণের বর্জ্য উগলে দিচ্ছে যা পৃথিবীতে মানুষের স্বাভাবিক বসবাসের জন্য বড় হুমকির কারণ! চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে আমরা হয়তো সেই শিক্ষাই নিতে পারবো যে, আমাদের আগাামী প্রজন্মের জন্য টেকসই পৃথিবী বিনির্মাণে এই পৃথিবী কিভাবে কাজ করছে? আমরা এতে কী করছি? উন্নয়নের পাশাপাশি এই পৃথিবীকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে আমাদের করণীয় কী? ইত্যাদি।

১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়। প্রথম শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে ইংল্যান্ড তথা সমগ্র বিশ্বে উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। মূলত ১৭৫০ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এ বিপ্লব কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে আধুনিক শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের পরিধি ছিল প্রথম শিল্পবিপ্লবের তুলনায় ব্যাপক। ১৮৭০ সালে বিদ্যুতের আবিষ্কার শিল্প উৎপাদনে এক নতুন গতি সঞ্চার করে। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় শিল্প কারখানাগুলো তড়িৎ আসেম্বলি লাইনের মাধ্যমে ব্যাপক উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করে। এরপর তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সূচনা ঘটে ১৯৬০ এ দশকে কম্পিউটার আবিষ্কারের মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিষ্কার তৃতীয় শিল্পবিপ্লবকে চুড়ান্ত গতি দান করে। তৃতীয় শিল্পবিপ্লব বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করেছে।

এখন সময় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের। ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর দেশরত্ন শেখ হাসিনার “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের এ নতুন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রি ৪.০০ এর সূচনা হয়। এই সময়কে অধ্যাপক ব্রিঞ্জলফসন এবং ম্যাক্যাফে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃমদ্ধ “দি সেকেন্ড মেশিন এজ” বলে যুক্তি দেখিয়েছেন। বলা যেতে পারে ২০১০ সালে বাংলাদেশে ৪,৫০১টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় এর ব্যাপকতা। তবে এর আওতায় দেশের সব মানুষ আজও অন্তর্ভূক্ত হতে পারে নি। বিজনেসের ৮০/২০ রুল অনুযায়ী ৮০ শতাংশ বিক্রয় মুনাফা সাধারণত ২০ শতাংশ সেবা গ্রহনকারীদের নিকট থেকে অর্জন করা হয়। এটি যথাযথভাবে হলে ব্যবসায়ের বড় সাফল্য হয়। সুতরাং ২০ শতাংশ মানুষ প্রাথমিকভাবে এই পক্রিয়ায় যুক্ত হলে তা কিন্তু হেলার কিছু নয়! বরং তা বড় ধরণের সাফল্য। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দরুন ‘ডিজিটাল মুদ্রার” প্রচলন হয়েছে। শুরু হয়েছে ডিজিটাল ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম। অবতারণা ঘটেছে “অন ডিমান্ড অর্থনীতি” ধারণার। অর্থনীতির এ প্রক্রিয়ায় যেমন ফেইসবুক যার কোন নিজস্ব কন্টেন্ট নাই অথচ বিশ্বের প্রথম সারির ধনী কোম্পনীর অন্যতম। যেমন, উবার-এর একটি ট্যাক্্িরও নেই অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাক্্ির সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। আলিবাবা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেটেইলার অথচ যার কোন মজুদ নেই। এয়ারবিএনবি’র কোন স্থাবর সম্পত্তি নাই অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন কোম্পানি।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২৩ টি টিপিং পয়েন্টস (যে পয়েন্টে সামান্য পরিবর্তনের কারণে উৎপাদন ও অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়) সমেত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, গবেষণায় অংশগ্রহনকারী ইউরোপ আমেরিকার প্রভাবশালী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৮০০ জন প্রধান নির্বাহী ও মানব সম্পদ কর্মকর্তাদের মধ্যে ৮২ভাগ মানুষ আশা করে আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের ইমপ্ল্যান্টেবল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষ দৈনন্দিন জীবনের কাজ চালিয়ে যাবেন। এসমস্ত ডিভাইস শরীরে পরিধানযোগ্য পোষাকে অথবা সরাসরি শরীরে কোন অঙ্গে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এক অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, নিজেদের অবস্থান, মানুষের আচরণের নিয়ন্ত্রন এবং স্বাস্থ্য কার্যক্রম সম্পাদন করা সম্ভব হবে। পেসমেকার এর একটি অন্যতম উদাহরণ। এই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক হলো, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু হারানোর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহায়ক। দ্বিতীয় টিপিং পয়েন্ট হলো মানুষের ডিজিটাল প্রেজেন্স বৃদ্ধি।

২০২৫ সাল নাগাদ ৮০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট উপস্থিতিতে যোগ দেবে। এসময় মানুষ ইমেইল, মোবাইল, পারসোনাল ওয়েবসাইট অথবা মাইস্পেস পেজে অংশগ্রহন বাড়াবে। এক্ষেত্রে ফেইসবুক, টুইটার, লিংকন্ডইন, ইনস্টাগ্রামে উপস্থিতি বাড়বে। এতে স্বচ্ছ্বতা বাড়বে, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পর্যায়ে দ্রুত যোগাযোগ ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে, ফ্রি স্পেস বাড়ানো, দ্রুত তথ্য বিতরণ ইত্যাদি। তৃতীয় টিপিং পয়েন্ট হলো ভিশন হিসেবে কম্পিউটার যোগাযোগ। প্রযুক্তির এই খাতে গুগল গ্লাস ‘কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার” প্রয়োগ ঘটিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মানুষের পূর্নাঙ্গ বিশ্বের সাথে উন্নয়নে অংশগ্রহন করাতে সক্ষম হবে। চতুর্থ টিপিং পয়েন্ট হলো পরিধানযোগ্য ইন্টারনেট। গবেষণায় অংশগ্রহনকারী ৯১ শতাংশ রেসপন্ডেন্ট মনে করেন আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ ১০ শতাংশ মানুষের পরিধেয় পোষাকের মধ্যে ইন্টারনেটের সংযোগ থাকবে। এর বিশেষ সুবিধা হবে আত্মনির্ভরতা, আত্ম নির্ভরশীল স্বস্থ্য সেবা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি। পঞ্চম টিপিং পয়েন্ট হলো উবিকম। উবিকসাস কম্পিউটিং এর আওতায় থ্রি-জি/ফোর-জি নেটওয়ার্কের সাহায্যে মোবাইল ডিভাইসের মতো কম্পিউটারেও সবসময় সবখানে ইন্টারনেটের সংযোগ থাকবে। হিসাব নিকাশ সহজ হবে।

২০২৫ সাল নাগাদ দেশের ৭৯ শতাংশ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ষষ্ঠ টিপিং পয়েন্ট হলো পকেটে সুপার কম্পিউটার। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সাল নাগাদ ৮১ শতাংশ মানুষ তাদের পকেটে একটি করে সুপার কম্পিউটার ধারণ করবে। চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব জটিল সমস্যা সমাধানে এ প্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সপ্তম টিপিং পয়েন্ট হলো ডাটা স্টোরেজ ফর অল। এর আওতায় ৯১ শতাংশ মানুষ আনলিমিটেড এবং ফ্রি বিজ্ঞাপন স্টোরেজ সুবিধা পেতে পারবে। এতে স্টোরেজ খরচ ব্যাপক হারে কমবে। অষ্টম টিপিং পয়েন্ট হলো ,সবার জন্য, সব কিছুতে সব সময় ইন্টারনেট। অন্য কথায় ‘ইন্টারনেট অব এন্ড ফর থিংন্স’। ২০২৫ সাল নাগাদ ১ ট্রিলিয়ন সেন্সরস ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হবে। এর সুবিধা হবে সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জীবনমান বৃদ্ধি, পরিবেশের সক্ষমতা বজায় রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা, সময়পোযোগি জ্ঞান, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু ইত্যাদি। নবম টিপিং পয়েন্ট হলো গৃহস্থিত ইন্টারনেট। ২০২৫ সাল নাগাদ ৫০ ভাগ মানুষ এই নেটের আওতায় আসবে। এর প্রধান উপকারিতা হবে বাড়ির লাইট কন্ট্রোল, ভেন্টিলেশন নিয়ন্ত্রণ, এয়ার কন্ডিশনার, অডিও-ভিডিও সিকিউরিটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দশম টিপিং পয়েন্ট হলো স্মার্ট সিটি। এর আওতায় অনেক শহরে ইউটিলিটিস ও রোড সার্ভিসেস ইন্টানেটের সাথে যুক্ত হবে। এই প্রযুক্তির সুবাদে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনও সম্ভবপর হবে। এতে পাওয়া যাবে স্মার্ট ই-গভর্ণমেন্ট সেবা। এগারো তম টিপিং পয়েন্ট হলো বিগ ডাটা ফর ডিসিশন। এর বিশেষ সুবিধা হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহন। উন্মুক্ত ইনোভেশন। সিদ্ধান্ত গ্রহনে ব্যয় হ্রাস। বারো তম টিপিং পয়েন্ট হলো চালক বিহীন গাড়ি।

২০২৫ সাল নাগাদ আমেরিকার রাস্তায় ১০ শতাংশ গাড়ি চালকবিহীন থাকবে। অডি এন্ড গুল প্লেস ইতোমধ্যে এই গাড়ির উদ্ভাবন করেছে। এই মডেলের গাড়ি কার্বন নিঃসরণের হার কম হবে। গাড়িগুলো স্টিয়ারিং হুইলের গাড়ি থেকে বেশী নিরাপদ হবে। ইলেক্ট্রনিক চাকার সংযোজন ঘটবে। তের তম টিপিং পয়েন্ট হচ্ছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন। ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রতিটি কোম্পানীতে একজন করে “আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স পরিচালক” পরিচালনা পরিষদে থাকবেন। এতে শুধু চালকবিহীন গাড়িই নয় এটি অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনা/অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যতের জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারবে। এর সাহায্যে অপ্রচলিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হবে। শক্তির স্বকীয়তা বজায় থাকবে। চৌদ্দ তম টিপিং পয়েন্ট হলো এআই এবং হোয়াইট কালার জব।

তথ্যপ্রযুক্তির এই আশির্বাদে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ৩০ শতাংশ অডিট কার্য সম্পাদন করা হবে। পনেরো তম টিপিং পয়েন্ট হলো রোবটিকস এন্ড সার্ভিসেস। এই প্রযুক্তি কৃষি উৎপাদন ব্যস্থাপনা, খুচরা সার্ভিস ব্যবস্থাপনা, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা এবং ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবস্থাপনায় যুগন্তকারী ভূমিকা পালন করবে। এতে মাুনষের হাতে অবসর সময় বেড়ে যাবে। ষোল তম টিপিং পয়েন্ট হলো বিটকয়েন এবং দি ব্লকচেইন। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের ১০ শতাংশ মোট অভ্যন্তরীন উৎপাদন (জিডিপি) ব্লকচেইন টেকনোলজির মাধ্যমে সঞ্চিত হয়ে থাকবে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করা হবে। ১৭তম টিপিং পয়েন্ট হলো দি শেয়ারিং ইকোনমি। এটি ‘অন ডিমান্ড অর্থনীতি’র একটি বিশ্ব এজেন্ডা। এই প্রক্রিয়ায় মালিকানাস্বত্বের অবাধ প্রবেশাধীকার, ব্যক্তিগত সম্পত্তির আদান-প্রদান, সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সেকেন্ডারি অর্থনৈতিক ধারণা সৃষ্টি ইত্যাদি। আঠারো তম টিপিং পয়েন্ট হলো সরকার এবং ব্লকচেইন টেকনোলজি। ২০২৫ সাল নাগাদ বিভিন্ন দেশের সরকার ব্লকচেইন টেকনোলজির মাধ্যমে কর আদায় করবে। ইতোমধ্যে এস্তোনিয়া সরকার এই নব প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজস্ব আদায়ের পক্রিয়া অবাহত রেখেছে। এছাড়াও থ্রি-ডি প্রিংন্টিং, প্রিটিং এবং মানব স্বাস্থ্য, প্রিন্টিং ও কনজুমার প্রোডাক্টস, ডিজাইনার বিংন্স, নিউরোটেকনোলজি ইত্যাদি টিপিং পয়েন্ট চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নানামাত্রিক ভিন্নতা যোগ করবে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছে। চট্টগ্রামের তরুন উদ্যোক্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন তাঁর ডেনিম এক্্রপার্ট লিমিটেড থেকে স্মার্ট পোষাক উৎপাদন শুরু করেছে। সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা ধরণের প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই শিল্পবিপ্লবের পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুস, সহকারী অধ্যাপক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী। ইমেইল: shyamoluits@gmail.com, মোবাইল: ০১৭১৭৮৫৪১০৪

উপরে