মুজিব বর্ষ ২০২০-২০২১ উদযাপনে কিছু পরামর্শ

মুজিব বর্ষ ২০২০-২০২১ উদযাপনে কিছু পরামর্শ

প্রকাশিত: ২৬-০৪-২০১৯, সময়: ১২:৩৪ |
খবর > মতামত
Share This

আব্দুল কুদ্দুস : ১৭ মার্চ ২০২০ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ ২০২১ বাংলাদেশ উদ্যাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ আয়োজনে সকল বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘোষণা মোতাবেক শিশু, তরুণ, যুবক সকলের জন্য আলাদা কর্মসূচি থাকবে। আয়োজনের বিস্তৃতি থাকবে দেশের সকল ওয়াার্ড পর্যন্ত। দিবসটি সরকারী ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক স্যারের সাথে কথা হচ্ছিলো দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে।

আলোচনার এক পর্যায়ে স্যার জনালেন গত ১২ এপ্রিল, ২০১৯ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে গণভবনে একটি বৈঠক হয়েছে। এতে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে গৃহীত “মুজব বর্ষ ২০২০-২০২১” কিভাবে পালন করা হবে তা নিয়ে আলোচনা করা করা হয়েছে। ওই সভায় অন্যান্য উপদেষ্টা মন্ডলীদের সাথে স্যার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন এই এভাবে যে- “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের প্রেরণার উৎস। আমাদের সকলের হাতেই আজ স্মার্টফোন রয়েছে। এই স্মার্টফোন নিয়ে আমাদের দেশের তৃণমূলের খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে যেতে হবে। এসব মানুষের অন্তরে গাঁথা বঙ্গবন্ধুর জীবন সংগ্রাম, দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর রক্তক্ষয়ী অবদান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ইতিহাস শুনতে হবে। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে লিখিত এসব মহামূল্যবান ইতিহাস রেকর্ড করতে হবে।

তাহলে আমরা জাতির পিতার সমন্ধে না জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস আবিস্কার করতে পারবো। জাতি ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে মুক্তি পাবে। সেই ইতিহাস প্রকাশ করতে হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে।” বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রবল আস্থাভাজন প্রফেসর ড. আবদুল খালেক স্যারের এসব পরামর্শ সত্যিই অধসাধারণ। এই পরামর্শ মোতাবেক কাজ হলে মুজিব বর্ষ উদ্যাপনের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।

প্রফেসর ড. খালেক স্যারের সাথে সহমত পোষণ করে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী মুজিব বর্ষ উদ্যাপনের অনুষঙ্গ হিসেবে আমাদের তরুণ প্রজন্মের পরামর্শ হলো দিবসটি উপলক্ষে দুই ধরণের অনুষ্ঠান সূচি নেওয়া যেতে পারে। (ক) জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠান সুচি ও (খ) আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠান সুচি। জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমাদের পরামর্শ হলো এই দিবসটি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্যাপনের জন্য একটি “Celebartion Center”, একটি “Monument”, একটি Logo ও কিছু “Publications” করা দরকার। সিলেব্রেশন সেন্টারটি স্থাপিত হতে পারে স্বাধীনতার পুর্ণভূমি রাজধানীর “রেসকোর্স ময়দান” অর্থাাৎ বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এখানে এমন একটি ‘মন্যুমেন্ট স্থাপন’ করা দরকার যা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর নির্যাতনের চিত্র, শহীদদের আত্মত্যাগের চিত্র, শান্তিপ্রিয় বাঙালির যুদ্ধ শেষে বিজয়ীর বেশে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তির চিত্র, এবং বাংলাদেশের বর্তমান চলমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দুর্নিবার গতিতে এগিয়ে চলার চিত্র ফুটিয়ে তুলতে হবে।

এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের মতামত জানার জন্য একটি ওয়েবসাইট/ফেইসবুক পেজ নির্মাণ করা যেতে পারে। যেটি বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের উন্নয়নের তথ্য-উপাত্ত, ভিডিও ও ছবি প্রেরণের জন্য সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এটি হতে পারে www.mujibborsho100.independence50.bd.com.। এই ওয়েব পেজে প্রদত্ত তথ্য এবং মানুষের নিকট সরাসরি গিয়ে প্রাপ্ত তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে শ্রেষ্ঠ তথ্য দাতাদের গল্প ও ছবি নিয়ে ২০২০-২০২১ সালের জন্য ক্যালেন্ডার তৈরী করা যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও জাতির পিতার সম্পর্কে না জনা বহুমাত্রিক তথ্য সমৃদ্ধ এই ক্যালেন্ডার ওই বছর দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে জাতির পিতাকে দেশ গড়ার কাজে সহযোগিতা করেছেন অথচ এখনো নানা কারণে তাঁর/তাঁদেরকে বাঙালি জাতি চিনতে পারে নি অথবা অবহেলিত রয়েছেন এমন মানুষের দোরগোড়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সংক্ষিপ্ত সফর করতে পারেন। এতে করে মানুষের হৃদ্যতা বাড়বে। তথ্য সংগ্রহের কাজে একটি জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে একাধিক স্থানীয় কমিটি করা যেতে পারে। এসব কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, দলীয় সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, লেখক-সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, গবেষক, কৃষক, শ্রমিক, কুলি, মুচি, পেশাজীবি, সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের অন্তর্ভূক্ত করা গেলে সঠিক ইতিহাস সন্ধানে সকলের মনে ব্যাপক সাড়া জোগাবে বলে আমি মনে করি। এই কমিটির নাম হতে পারে “Grassroot organizing for everyone-Call to action.”

অন্যদিকে মুজিব বর্ষ উদযাপন ২০২০-২০২১ উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশের সম্মান জানান দেওয়ার জন্য “Golden Bangladesh” শিরোনামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা যেতে পারে যেখানে আমাদের দেশের উদীয়মান তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, সোহার্দ্য সম্পৃতির বন্ধন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশ গড়ার কাজে বঙ্গবন্ধুর ২৩ বছরের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। এছাড়াও এই উৎসেবের প্রস্তুতি পর্বের নামকরণ হতে পারে “Let’s celebrate Mujib Borsho, 2020-2021”। এসব অনুষ্ঠানের অর্থের প্রধান উৎস হতে পারে বাংলাদেশর বিত্তবান মানুষ। বঙ্গবন্ধু প্রেমী দেশী-বিদেশী বন্ধু। সার্বিকভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের স্লোগান হোক “Mujib is Bnagladesh” এবং সবার অংশগ্রহনের জন্য অনুষ্ঠানের মূলমন্ত্র হোক “ We creat Bangladesh, We make Bangladdesh”। বঙ্গবন্ধু অমর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবি হোক। জয় বাংলা।

লেখক: কার্যনির্বাহী সদস্য, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, রাজশাহী জেলা ও শিক্ষক,

বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী

উপরে