রাষ্ট্র ও এর মানুষের অধিকারের কথা

রাষ্ট্র ও এর মানুষের অধিকারের কথা

প্রকাশিত: ১৪-০৩-২০১৯, সময়: ১২:৩৮ |
খবর > মতামত
Share This

মো. আবদুল কুদ্দুস : পৃথিবীতে কোন মানুষ বা প্রাণী অনিবার্য নয়। মানুষের অস্তিত্বও অবিনশ্বর নয়। পদ পদবি তো নয়ই। কারো শূণ্যতায় পৃথিবী এক ন্যানো সেকেন্ড সময়ও থেমে থাকে না। সেজন্য মানুষ পৃথিবীর শূণ্য জায়গায় স্থান পেতে দুর্বার গতিতে সমানে ছুটে চলে। একই কারণে রাষ্ট্রের নিকট মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। মানুষ রাষ্ট্রের নিকট থেকে যত পায়, তত বেশী আরো চায়। কিন্তু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কখনো কী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে? রাষ্ট্রযন্ত্র তো নিরপেক্ষই। অথবা রাষ্ট্র নিরপেক্ষ হতে না পারলেও চেষ্টা করেছে হয়তো বার বার।

কিন্তু ওই রাষ্ট্রের বুকে লালিত মানুষ, যে মানুষের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রের কোন অস্তিত্বই থাকতো না, রাষ্ট্রের কোন সংজ্ঞাও দিতে পারতেন না রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে তারাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সব সময়। সুরক্ষার অধিকার মানুষের। আর সেই অধিকারের জন্য আন্দোলন করে এই মানব জাতিই। সুখ-সাফল্য এসব মানুষের অলংকার। অন্য কোন প্রাণীর নয়। কিন্তু সেই সুখ-সাফল্যের জন্যে মানুষকে আজীবন সংগ্রাম করতে হয়। সুখ এবং সফলতার জন্য মানুষকেই অন্য মানুষের নিকট থেকে দোয়া/আশির্বাদ নিতে হয় । কখনো নানা রকমের হয়রানি আবার কখনো গোপনে উৎকোচ প্রদান করতে হয়।

আমাদের মানব জাতির মধ্যে থেকে যখন কেউ তার কনিষ্ঠদের জন্য দোয়া করেন তখন মাথায় হাত রেখে, চোখে মুখে হাত বুলিয়ে সচকিত কণ্ঠে বলে উঠেন ‘তুমি বড় হও, অনেক বড়হ হও’…। সাথে সাথে তাঁদের হৃদয়ের এক কোণে আছড়ে পড়ে ;‘ বড় হও, কিন্তু আমার চেয়ে বড় নয়’ এমন গরল আরোধনা। দেশের অনেক সম্মানিত ও পদস্থ জেষ্ঠ্য নাগরিকদের আচরণ বিশ্লেষণ করে আমার চোখে এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে অনেকবার।

জন্মের পর মানুষ স্বপ্ন দেখে। সে সময় কেবল মানুষ তাদের শরীরবৃত্তীয় চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন দেখে। শিক্ষা দীক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভের পর মানুষ নেতৃত্ব ও পদ-পদবির স্বপ্ন দেখে মনে প্রাণে। সবাই তখন স্বপ্নের সমান বড় হতে চায়। যেমন, সব মানুষেরই তো স্বপ্ন আছে জীবনে একবার প্রধানমন্ত্রী হবার। কিন্তু প্রত্যেক দেশেই তো এর জন্য মাত্র একটি পদ। সবাই স্বপ্ন দেখে একবার রাষ্ট্রপতি হবার। সেজন্যও তো পদ মাত্র একটি। তাই বলে কী মানুষ প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন থেকে বিরত থাকবে? যদি মানুষ এমন স্বপ্ন দেখা থেকে বিরত থাকে তবে আগামীর সম্ভবনাময় বিশ্বের/দেশের নেতৃত্ব দিবেন কে? এখানে নতুন পদ সৃজনের কোন সুযোগ নেই বলেই হয়তো সংবিধানে আরো পদ সৃষ্টি করা যায় না। থাকলে কি হতো জানিনা! কারণ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রেই মানুষের নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের মতো করে সংবিধান ভেঙ্গে খান খান করে নীতিমালা তৈরী করে নিজের জন্য নিজের পরিবারের জন্য সুযোগ তৈরী করে নিয়েছেন। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। এবং ব্যতিক্রম হবার কথাও নয়।

দেশর প্রয়োজনে সব নীতিমালার সংশোধন হয়। তবে বাংলাদেশে সরকারী চাকুরীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নিয়ে এতো কালক্ষেপণ হচ্ছে কেন তা বোধগম্য নয়। বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে শুধু আন্দোলরত তরুণ প্রজন্মই নয়! ক্রন্দনরত কোটি বেকার তরুণদের চোখের জলের প্রতিদান দিতে পারবে তো তরুণ প্রজন্মের বুকের তাজা রক্তের উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র বাংলাদেশ?

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তারুণ্যের দুর্দান্ত শক্তির মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গিকার রাখা হয়েছে। আশা করি দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তরুণদের এই কান্নার আওয়াজ শ্রাব্যতার সীমার ঊর্ধ্বে উঠে গেলে বধির না থেকে সঠিকভাবে কর্ণপাত করবেন। একদিন আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ এই ভূখন্ডের মানচিত্রে ছিলো না। ছিলো না রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি। এসব আমরা যা পেয়েছি তার সব আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলো এদেশের তরুণ সমাজ। সব সংগ্রামেই রক্ত স্রোত প্রবাহিত করেছে আমাদের অভাগা বাঙালি তরুণ প্রজন্ম। তাই সরকারের কাছে আমরা উপর্যুক্ত সামান্য একটি নীতিমালা পরিবর্তন নয়, প্রবর্তনের দাবি দ্বিধাহীন চিত্তে করতেই পারি।

পৃথিবীর সব উন্নয়নের অংশিদার আমাদের নারী সমাজ। তাদেরকে পিছনে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ বাংলার প্রতিটি পরিবারের নারীরা ঘরের বাহিরে এসে অফিসের জটিল কাজ করতে প্রস্তুত। শুধু প্রস্তুত নয়, কাজ করার মতো সব যোগ্যতা তারা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে নারীরা আজ অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের পেছনে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এই নারীদের আজ প্রাণের দাবি প্রতিটি অফিসে সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে পৃথক ‘ডে কেয়ার/ন্যানি কেয়ার/বেবী সিটার’ সেন্টার বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিষ্ঠা করার। কর্মজীবি মায়েদের মাতৃত্বকালীর ছুটি ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করাও তাদের প্রাণের দাবি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মানবতার জনননী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দাবিগুলো বিশেষ নজরে দেখে ব্যবস্থা নিবেন বলে বাঙালি নারী সমাজ মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সরকারী সাধারণ প্রশাসনে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটি সপ্তাহে এক দিন। এমন বৈষম্যমূলক ধারণা কে বা কারা কোন সময়ে করেছিলো, কোন সুবিধা বা সময়ের বিবেচনায় করেছিলো জানিনা। তবে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাথা থেকে লেখা পড়ার মতো জটিল বিষয়ের চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞ মহলের পরামর্শ মোতাবেক বিভিন্ন সময় গ্রহণ করা বিভিন্ন পদক্ষেপের সাথে সপ্তাহে একদিনের পরিবর্তে দুই দিনের ছুটি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। এতে এই সেক্টরে কর্মরত মানুষের অন্যদের মতো অনেকটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হবে। তাই আসুন আমরা একমাত্র মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সবাই নিরপেক্ষ হই। গড়ি তুলি সুখি সুন্দর সমৃন্ধ বৈষম্যহীন উন্নত বাংলাদেশ।

লেখক : মো. আবদুল কুদ্দুস, শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী, মোবাইল: ০১৭১৭৮৫৪১০৪

আরও খবর

  • মুজিব বর্ষ ২০২০-২০২১ উদযাপনে কিছু পরামর্শ
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের উৎপাদন-রোগ বালাই ও কৃষকের চাহিদা
  • অকাল মৃত্যুর মিছিল বন্ধে তামাকপণ্যের কর বৃদ্ধি জরুরি
  • ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট খোলা চিঠি
  • বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শিশু ভাবনা, পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
  • অবৈধ ইটভাটার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে
  • রাষ্ট্র ও এর মানুষের অধিকারের কথা
  • সংস্কৃতির সংকট : একুশের চেতনা
  • গর্বিত বীরগঞ্জের বীর চিকিৎসকদের জন্য
  • ড. জোহা হত্যা: আমার স্মৃতি
  • আবাদি জমি রক্ষায় প্রয়োজন কৃষক ঐক্য
  • আমার গ্রাম-আমার শহর ও উন্নত বাংলাদেশ ভাবনা
  • অনুপ্রেরণার উৎস যে জীবন
  • রাজিয়ার সংগ্রাম ও আমাদের বিবেক
  • উত্তরবঙ্গের মাটির নিচে সোনা-রুপা



  • উপরে