গর্বিত বীরগঞ্জের বীর চিকিৎসকদের জন্য

গর্বিত বীরগঞ্জের বীর চিকিৎসকদের জন্য

প্রকাশিত: ২৭-০২-২০১৯, সময়: ১৩:৩৮ |
Share This

ডা. মাহফুজুর রহমান রাজ : বীরগঞ্জ বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত উপজেলা। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে দীর্ঘদিন আগে একটা লেখা লিখেছিলাম। হেডলাইন ছিল রূপকথার বীরগঞ্জ। এরপর দীর্ঘ সময় গড়িয়েছে গতবছর বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে তাদের দীর্ঘ সময় কষ্ট করে।

কয়েকদিন ধরেই একটি সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে যে ২ জন চিকিৎসক যারা এখন ছুটিতে থাকার কথা কারণ তাদের একজন অন্তঃসত্ত্বা যিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগের কথা, অন্যজন কদিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় কলার বোন ভেঙ্গে ফেলেছেন। এই দুই জন কোন প্রকার ছুটি না নিয়ে নিরলসভাবে ২৪ ঘন্টা বীরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে এদেশের চিকিৎসকরাও সংবেদনশীল মানুষের দুঃখ-কষ্ট মাথায় রেখে নিজেদের প্রাপ্য ছুটি ভোগ না করে চিকিৎসা সেবা চালু রেখেছেন।

একই সংবাদের কষ্টের দিক যেটা সেটা হচ্ছে সেখানে চিকিৎসকের পদ আছে ৩০টি। অর্থাৎ সেখানে ৩০ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু সেখানে আছেন তিনজন যাদের কথা বললাম তারা দুইজনসহ সেখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

আমরা বাঙালি আমরা নাকি ইউরোপিয়ান কালচার বুঝিনা। আমরা যদি কারোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সেটার সমালোচনা হয়। আফসোস আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন কোনো চিকিৎসকদের পদায়ন না করে কিংবা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে স্কয়ার অ্যাপোলো হাসপাতাল নিয়ে বেশি উৎসাহী। সমালোচনা তো এজন্যই হয়।

আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যদি গ্রামীণ জনপদের মানুষকে নিয়ে না ভাবেন তাহলে এভাবেই দুজন অসুস্থ চিকিৎসককে দিয়ে একটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালাতে হয়।

শহরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর একটি পদের বিপরীতে একাধিক চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো যখন চিকিৎসক সংকট নিয়ে ধুঁকছে, তখন আমরা প্রত্যাশা করতে পারি যে আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটা ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

এই বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারাদেশে নজিরবিহীনভাবে নরমাল ডেলিভারির কার্যক্রমকে চালিয়ে গেছে। সেই সময় তারা একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জনকে চেয়ে ছিলেন বীরগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের অবহেলিত নারীদের সেবা প্রদানের জন্য। তেমনটিও কাউকে দেওয়া হয় নাই।

আমরা চাই যে উপজেলাগুলোতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য। সেখানে চিকিৎসকদের কিভাবে পদায়ন করা যায় কিভাবে তাদেরকে সেখানে রাখা যায় এটি নিয়ে আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ভাববেন। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাবেন কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা কিভাবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যান ঢাকা শহরে বসে তা বোঝা বড়ই দুষ্কর।

লেখক : ডা. মাহফুজুর রহমান রাজ, চিকিৎসক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আরও খবর

  • ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়
  • দেশে প্রতিবছর অকেজো হচ্ছে ৪০ হাজার কিডনি
  • টমেটোর কার্যকরি ৫ স্বাস্থ্যগুণ
  • গমের চারার রসে কমবে যে অসুখ
  • হাসপাতালে দ্বিতীয় শিফট হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • বাগমারার ওষুধের দোকানগুলোতে কী বিক্রি হচ্ছে?
  • স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের রাজশাহী জেলা ও রামেক কমিটি
  • অসুস্থ মাকে বেডে তোলায় কিশোরকে ডাক্তারের মারধর
  • রামেক হাসপাতালে সর্দি-জ্বরের ৪ ওষুধ ব্যবহার স্থগিত
  • রামেক হাসপাতালে কেনাকাটায় বড় ঘাপলা
  • আম কতটা স্বাস্থ্যকর!
  • হৃদরোগীদের জন্য রোজা বেশ উপকারী
  • কোলগেট টুথপেস্টে ক্যান্সারের উপাদান
  • ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করতে পারে ‘রোজা’
  • বিয়ের আগে বাধ্যতামূলক রক্ত পরীক্ষা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী



  • উপরে