অটিজম শিশুদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছেন রেনী

অটিজম শিশুদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছেন রেনী

প্রকাশিত: ১০-০১-২০১৯, সময়: ১৭:৫৫ |
খবর > মতামত
Share This

আব্দুস সাত্তার : অটিজম শিশুদের সেবা দিয়ে আলোর পরশ ছড়িয়ে দিচ্ছেন সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী। তিনি অটিজম শিশুদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর উইমেন এন্ড চাইল্ড এসিসট্যান্স (এফডাব্লিসিএ) এর মাধ্যমে অটিজম শিশুদের কল্যাণে একের পর এক কল্যাণমুখী কাজ করে চলেছেন। শত বাধার মুখেও শিশুদের সেবা থেকে পিছপা হননি তিনি। সমাজসেবার ব্রত নিয়ে জনগণের মাঝে হাজির হয়েছেন শাহীন আক্তার রেনী।

সেই ২০১০ সালে রাজশাহী নগরে একটি অটিজম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে এ অটিজম স্কুলে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে এফডাব্লিসিএ এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বিশ্বে বর্তমানে অটিজম শিশুদের মানসিকভাবে বেড়ে উঠা খুবই চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনী। তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সহধর্মিনী। তিনি নিজ সংসার পরিচালনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

অটিজম স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাজদেুর রহমান বলেন, সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনীর তুলনা হয়না। কারণ এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পেছনে শাহিন আকতার রেনীর অনন্য অবদান রয়েছে। রেনী ভাবীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও আর্থিক সহযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠানটি আলোর মুখ দেখেছে।

নারী জাগরণে রেনী

বর্তমান সরকার নারীদের অধিকার আদায়ে নানান পদক্ষেপ নিয়েছেন। যা অনেকাংশে বাস্তবায়ন চলছে। আর রাজশাহীসহ জেলার নারীদের অধিকার আদায়ে মাঠে ময়দানে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনী। যেখানে নারীর অধিকার বিষয়ে জড়িত সেখানেই তৃণমুলের প্রাণ রেনী হাজির হন। রাজশাহী মহানগরীতে নারীদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখানকার নারীরা ঘরে বাইরে সবখানেই নিজের অধিকার নিয়ে বেচেঁ থাকার সুযোগ পেয়েছে। একারণে শাহিন আকতার রেনীর অবদান কম নয়।

রাজশাহী কোর্ট এলাকার গৃহবধূ আলতাফুনেসা বলেন, যখনই সমস্যায় পড়েছি, তখনই ছুটে গেছি রেনী ভাবির কাছে। কোনদিন তার কাছ থেকে আবদার নিয়ে গিয়ে ফিরে আসিনি। তাই এরকম মমতাময়ী সমাজসেবীকে আরো নারীদের উন্নয়নের জন্য সংরক্ষিত আসনের এমপি প্রয়োজন। বিষয়টি আমাদের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই বিবেচনা করবেন। শুধু আলতাফুনেসার এ কথা নয়, এ কথা আরো অনেকের।

নগরীর মহিষবাথান এলাকার নার্গিস খাতুন বলেন, আমার বড় মেয়ে রাজশাহী কলেজে অনার্সে প্রথম বর্ষে ভর্তি করার জন্য টাকা যোগাড় করতে পারছিলাম না। ভাবী আমার মেয়ের ভর্তির কথা টাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। রেনী ভাবিকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা জানা নেই।

লক্ষীপুর এলাকার স্কুলের শিক্ষিকা নাহিদা খাতুন বলেন, আমার একটা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলাম প্রিয় ভাবীর বাসায়। সমস্যাটি জানার পর সমাধান করে দেন। তিনি একজন সত্যিকারের অর্থেই সমাজসেবী। আমরা সংরক্ষিত এমপি হিসেবে চাই রেনী ভাবিকে।

নারী ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংস্থা বিকাশের নির্বাহী পরিচালক বলেন, রেনী ভাবীর সহযোগিতায় এই সংস্থা এগিয়ে চলছে। শুধু আমাদের সংগঠন নয়, আরো অনেক সংগঠনেই রেনী ভাবির সহযোগিতার ছোঁয়া রয়েছে।

প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় রেনী

শাহিন আকতার রেনী ভাবির আরেকটি গুণ হলো প্রতিবন্ধিদের কোন সমস্যা হলেই ছুটে যান তিনি। আর কোন অনুষ্ঠানের কথা জানলেই তিনি আর না করেন না। প্রতিবন্ধীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতার পাশাপাশি তাদের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের মাতৃস্নেহে আবদ্ধ রাখেন সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনী। প্রতিবন্ধী শিশুদের হুইল চেয়ার, হেয়ারিং এইড, সেলাই মেশিন, ক্র্যাচ, শিক্ষা উপকরণ সহ বিভিন্ন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন শাহিন আকতার রেনী।

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার প্রয়াস প্রতিবন্ধি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথেও নারীর টান রয়েছে। প্রয়াসের পক্ষ থেকে সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনীকে জাতীয় নির্বাহী প্রতিবন্ধী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এর ফলে শাহিন আকতার রেনী প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নে আরো অবদান রেখে চলেছেন।

এসববিষয়ে বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনী বলেন, আসলে সমাজের অসহায়দের পাশে সবারই দাড়ানো উচিৎ। কারণ আমাদের সমাজে কারণে অকারণে শিশুরাই অসহায়ের শিকার হয়। এসব অসহায় অটিজম শিশুদের পাশে থাকাটাই জরুরী মনে করি।

তিনি আরো বলেন, আমি কোন কাজে শুরু করার আগেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ চিত্তে ধারণ করে এবং আমার শ্বশুর জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার পথ অনুসরণ করে অসহায় মানুষের পাশে থাকার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমি যতোদিন বেছে আছি, ততোদিন এসব শিশুদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাবো।




উপরে