তৃতীয় বর্ষে গণমানুষের মুখপত্র পদ্মাটাইমস২৪.কম

তৃতীয় বর্ষে গণমানুষের মুখপত্র পদ্মাটাইমস২৪.কম

প্রকাশিত: ৩১-১২-২০১৮, সময়: ১৮:২৯ |
Share This

মো. আবদুল কুদ্দুস : পৃথিবীতে ছাপা সংবাদমাধ্যমের ইতিহাস অনেক পুরনো। তবে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের আবির্ভাব খুবই সম্প্রতিক বলা চলে। বাংলাদেশে প্রথম অনলাইন ভিত্তিক পত্রিকা চালু হয় ২০০৫ সালে। বিশাল এই পৃথিবীর আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত কতই না ঘটনা ঘটে চলেছে। এখন সেই ঘটনা জানবার জন্য চব্বিশ ঘন্টা বসে থেকে ছাপার অক্ষরে দেখার কোন অবকাশ নেই।

কারণ যে জাতি যতো তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ সে জাতি ততো উন্নত। তাই তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর এই পৃথিবীতে বিভিন্ন রাষ্ট্র কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে মনুষের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে নিশ্চিত করতে। তথ্য পেতে দেশে দেশে নানামাত্রিক আইন তৈরী করা হচ্ছে। মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির এই আকাঙ্খা প্রশমিত করতে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম শিক্ষা নগরী রাজশাহীও পিছিয়ে নেই। পিছিয়ে নেই এই এলাকার সাংবাদিক ও সুধিজন।

সময়ের তাগিদে এবং মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য পদ্মা নদীর নামে নামকরণ করে দুই বছর আগে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি পদ্মা নদীর পাড়ে কল্পনা হল মোড় সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম। প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতেই এই পত্রিকার সম্পাদক আমার অতি প্রিয় বড় ভাই এম বদরুল হাসান লিটন। এই পত্রিকাকে গণমানুষের পত্রিকা হিসেবে রূপ দিতে রাতদিন প্ররিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর দূরদর্শী, অনুসন্ধানী ও সত্য দর্শন ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের কারণে বিগত দুই বছরে এই পত্রিকাটি আজ জায়গা করে নিয়েছে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গ তথা দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পত্রিকার তালিকার অন্যতম হিসেবে।

এই পত্রিকাটি তৃতীয় বছরে পা রাখলো। ১ জানুয়ারি ২০১৯ পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দুই বছরের এই দিনে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত এই অনলাইন পত্রিকার পথ চলা শুরু করে। রাজশাহীর বিশিষ্ট সমাজ সেবক আজিজুল আলম বেন্টু পত্রিকাটির প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর নির্দেশনায় পত্রিকাটি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শত ব্যস্ততার মাঝে পত্রিকাটির মান উন্নয়নে পরামর্শ দেয়াসহ সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করছেন।

নন্দিত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের প্রশংসা করে বহুবার বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে যেখানে স্বাধীন সংবাদপত্র রয়েছে, সেখানে দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যায় কম। যেখানে গণতন্ত্র নেই এবং স্বাধীন সংবাদপত্র নেই, সেখানে অনাহারে মানুষের মৃত্যুর হার বেশী। তিনি উদাহরণ দিয়েছেন ভারত ও চিনের। স্বাধীন ভারতের কোথাও যখনই খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে তা নিয়ে লেখালেখি হওয়ায় সরকার অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। তাতে অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং প্রাণহানি ঘটেছে কম। চীনের বহু অঞ্চলে একসময় দুর্ভিক্ষে বহু মানুষ মারা গেছে, স্বাধীন সংবাদপত্র না থাকায় সেই মৃত্যুর কথা বাইরের মানুষ জানতে পারেনি। সরকার ব্যবস্থা নেয়নি। যেসব দেশে গণতন্ত্র নেই, স্বাধীন সংবাদপত্র নেই অথবা থাকলেও তা সরকারেরই মুখপত্র, জনগণের মুখপত্র নয়, সেসব দেশের মানুষের দুর্দশার অন্ত থাকে না।

একদিকে সর্বশক্তির অধিকারী রাষ্ট্র, আরেক দিকে একজন সহায়সম্বলহীন দুর্বল মানুষ। সেই দুর্বলের অধিকার যখন রাষ্ট্র হরণ করে, তাঁর পাশে দাঁড়ায় সংবাদপত্র। সংবাদপত্রকে লড়াই করতে হয় সবচেয়ে শক্তিধরের সঙ্গে। সাংবাদিকের কী সেই অস্ত্র আছে, যার দ্বারা তিনি প্রবল পরক্রান্ত শক্তিকে মোকাবিলা করেন? তা তাঁর নৈতিক অবস্থান।

কায়েমী স্বার্থকে আঘাত করা সংবাদপত্রের এখন একটি বড় দায়িত্ব। কায়েমি স্বার্থ সংঘবদ্ধ, কিন্তু সংবাদপত্র ও সাংবাদিককে লড়তে হয় একা। তার নিঃসঙ্গ লড়াইয়ে তাঁর সঙ্গী না থাকলেও তাঁর সমর্থক অগণিত। সেটাই সংবাদপত্রের শক্তি। যে সংবাদপত্র বা সাংবাদিকের নৈতিক অবস্থান বা দার্শনিক ভিত্তি শক্ত, জনকল্যাণে সেই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্টারনেট আছে, রয়েছে অনলাইন, খবর আসে মোবাইল ফোনেও। কিন্তু এসব তো পড়া নয় এসব হচ্ছে দেখা। দেখা ও পড়ার ভেতর বিস্তর ফারাক। দেখার জন্য চোখ অবশ্যই দরকার, কিন্তু সঙ্গে প্রয়োজন মনোযোগের, সর্বোপরি চিন্তার। চিন্তা ছাড়া পড়া সম্ভব নয়। পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলাদেশের সংবাদ পাঠকদের মধ্যে সেই চিন্তা চেতনার উন্মেষ ঘটাবে বলে আমার প্রত্যাশা।

সংবাদপত্রে ছবিও থাকবে, বিজ্ঞাপনও থাকবে; কিন্তু ছবি কোণঠাসা করবে না সংবাদকে। কিছুতেই না। কখনো নয়। সংবাদের সচিত্র হতে বাধা নেই, কিন্তু সংবাদই থাকবে প্রধান। খবরই থাকবে কর্তৃত্বে। মানতেই হবে যে টেলিভিশনে ছবি পাওয়া যায়, ছবিই সেখানে মুখ্য, সেজন্য সংবাদগুলো সেখানে দ্বিমাত্রিক থাকে। সংবাদপত্রে সংবাদ ত্রিমাত্রিক; কেননা, সেখানে সংবাদকে একই সঙ্গে দেখা ও পড়া যায়, পড়াই প্রধান হয়ে উঠে. দেখাটাকে হটিয়ে দিয়ে। তাছাড়া টেলিভিশনের খবর যেমন ছবি, নাটক চলচ্চিত্রও তেমনি ছবি, কোনটা খাঁটি কোনটা মেকি, তফাত করাটা সহজ থাকে না। ঝাপসা হয়ে যায়। আশা করি পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম ছাপা সংবাদপত্র এবং অনলাইন সংবাদপত্রের মধ্যে এই ব্যবধান দূর করবে।

বিজ্ঞাপন ছাড়া খবরের কাগজ চালু রাখা কঠিন, কিন্তু বিজ্ঞাপন আসবে অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবেই, তাকে ছাড়া চলেনা, তাই। বিজ্ঞাপনকে স্থান দেওয়া হবে ওইভাবেই। সংবাদ কখনোই, কনোভাবেই বিজ্ঞাপন প্রচারের অজুহাত হবে না। সংবাদপত্রকে বিজ্ঞাপনপত্র হলে চলবে না। আর এটাও তো সত্য যে বিজ্ঞাপন যদি প্রধান হয় তাহলে পত্রিকাটি গভীরতাহীন দ্বিমাত্রিক বস্তুর রূপ নেয়, পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা যায় কমে, বিক্রয় সংকুচিত হয়ে আসে এবং তখন বিজ্ঞাপনও দ্বিধায় পড়ে হাজির হওয়ার প্রশ্নে।

পৃথিবীর সব দেশের সকল পত্রিকাই তো চলে মালিকের ইচ্ছায় এবং মালিক মুনাফা বোঝেন, অন্য কিছু বোঝার আগে। মালিক চাইবেন তার মুনাফাটা বাড়ুক। রাষ্ট্রের কর্তারা কী চান, তা তিনি দেখবেন, সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার খবর রাখবেন এবং তদনুযায়ী পাল খাটাবেন। খেলাধুলাকে প্রধান করে তুলবেন জ্ঞান বুদ্ধির খবরের তুলনায়। পাঠকের চোখ খুলে গেলে মালিকের ভারী অসুবিধা। সে কারণে পাঠক মালিকের অবস্থান মুখোমুখী হয়ে দাড়ায়। এই দ্বন্দ্বে মালিক সবচেয়ে যা অপছন্দ করেন, যা ভয়ও পান, তা হচ্ছে জ্ঞান। সংবাদপত্রের মধ্য দিয়ে তিনি আর যা করুন, প্রকৃত জ্ঞান সরবারাহ করতে চাইবেন না। চাইবেন বিনোদন দিতে, বিভ্রম সৃষ্টি করতে। মালিককে বুঝতে হবে মানুষ পাশে না দাঁড়ালে তাঁর কাগজ চলবে না এবং হয়তো এ-ও বুঝবেন, তিনি যে তার নিজের মানবিক ভবিষ্যৎটাও নিরাপদে নেই।

পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আজিজুল আলম বেন্টু অবশ্য এমন ভাবনা কোনদিনও মাথায় আনেন নি। তিনি সদা মালিক পাঠকের মধ্যে একটি সহার্দ্য সম্পর্ক বজায় থাকবে এই কথা মাথায় রেখে তাঁর পত্রিকাটিকে মানুষের দোরগড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশেও প্রতিজ্ঞবদ্ধ পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম এর এই কর্ণধর।

সংবাদপত্র সংবাদপত্রই থাকবে, দর্শনীয় ছবি হয়ে নয়। তাকে চাই পাঠযোগ্য হিসেবে, দর্শনযোগ্য হিসেবে নয়। খুব করে চায় এটা যে সে মানুষের অধিকারের প্রশ্নে ‘নিরপেক্ষ’ হবে না। চুপ করে থাকবে না। নিরব কণ্ঠে আওয়াজ তুলে দাঁড়াবে মানুষের পক্ষে। পাঠকের প্রত্যাশা বিবিধ ছলনা নয়; পাঠকের প্রত্যাশা সুস্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব, তা হলো বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি লালন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির পৃষ্ঠপোষকতাকরণ, জ্ঞান আহরণ, জ্ঞান সংরক্ষণ ও বিতরণ।

পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল ও সার্থক হোক। মসৃণ হোক এর আগামীর পথ চলা।

লেখক: মো. আবদুল কুদ্দুস, শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী। (প্রবন্ধটি তৈরী করতে বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লিখিত প্রবন্ধ থেকে ধারণা নেওয়া হয়েছে)

আরও খবর

  • দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রী কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
  • প্রাইভেট টিউশন এসোসিয়েশনের স্বাধীনতা দিবস পালন
  • রাজশাহীতে ধূলাঝড়ে বিপাকে মানুষ
  • ‘বঙ্গবন্ধুর কারনেই বাঙ্গালী স্বাধীনতা পেয়েছে’
  • ‘মাদক ও ইভটিজিং মুক্ত প্রতিষ্ঠান হবে মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ’
  • রাজশাহীতে অগ্রণী ব্যাংকের স্বাধীনতা দিবস পালন
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে শহীদদের স্মরণ
  • বাগমারায় নদীতে নারীর লাশ
  • গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি রাজশাহীতেও
  • গোদাগাড়ীতে  ৪৮ তম মহান স্বাধীনতা দিবস পালন
  • স্বাধীনতা দিবসে আরসিআরইউর শ্রদ্ধাঞ্জলী
  • পবায় বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালিত
  • স্বাধীনতা দিবসে মেয়র লিটনের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য মিছিল
  • ছবিতে রাজশাহীর স্বাধীনতা দিবস পালন (ভিডিওসহ)
  • রাকসুর সাবেক ভিপি মুন্নার আয়োজনে স্বাধীনতা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা



  • উপরে