আমাদের স্বপ্নের রাজশাহী যেমন চাই

আমাদের স্বপ্নের রাজশাহী যেমন চাই

প্রকাশিত: ১৮-১১-২০১৮, সময়: ১৪:১৫ |
খবর > মতামত
Share This

আবদুল কুদ্দুস : মহানগরী সমন্ধে ঐতিহাসিকভাবে কথা আছে ‘Get rich first, then clean up latter’। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নগর বিশেষজ্ঞরা এখন এই কথাটি ভিন্নভাবে ভাবছেন। জাতিসংঘের স্টাডি মোতাবেক মহানগরী তিন ধরণের। সেগুলো হলো (ক) উদীয়মান নগরী (Emerging City) ,এই নগরীর বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো, এখানকার প্রকৃত ও অভিবাসী জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি হার অনেক বেশী এবং বার্ষিক তার সংখ্যা প্রায় ৩%-৬%। এরকম নগরীতে আগামী ২০ বছরে জনসংখ্যা হবে দ্বিগুন। এখানকার ৫০ শতাংশেরও কম জনসংখ্যা শহরের। অধিকাংশই অল্প শিক্ষিত ও গ্রাম্য অভিবাসী। জনসংখ্যার বেশীরভাগ পুরুষ ও যুবক। এখানকার সামাজিক মেরুকরণ, সম্পদ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা সমাজের উঁচু-নিচুদের মধ্যে অনেক বেশী। (খ) পরিবর্তনশীল নগরী (Transitional City), এই নগরীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হার ২%-৩%। এখানকার ৫০ শতাংশের বেশী জনগণ শহরের স্থায়ী। এই নগরীর আর্থিক ক্ষমতা ভালো। অবকাঠামোর চাহিদা দ্রুত বর্ধনশীল। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এখানকার পরিবহন, পানি, বিদ্যুৎ এবং সেবার চাহিদা মিটানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। (গ) প্রাচীন/পরিপক্ব নগরী (Mature City) এখানে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হার ১%। এখানকার ৭৫ শতাংশ মানুষ শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। এই শহরের অবকাঠামো পুরাতন এবং প্রায় তিন যুগ আগে থেকে সেবা দিচ্ছে। পরিবর্তনশীল চাহিদার নিরিখে এখানকার অবকাঠামো সময়পোযোগী নয়।

উপরের আলোচ্য বিষয় বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পায়, রাজশাহী নগরী প্রথম ও দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যের আলোকে একটি ‘উদীয়মান কাম পরিবর্তনশীল মহানগরী’। এই নগররীতে মানুষের চলাচল, পন্য পরিবহন ও সেবার জন্য উন্নত অবকাঠামো দরকার। এই মহানগরীর দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য দরকার জেলার অভ্যন্তরে উপজেলাসমূহের সাথে ও দেশের অন্যান্য জেলার সাথে উন্নত যোগযোগ অবকাঠামো নির্মাণ। এখানকার প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, রাস্তা, রেইল নেটওয়ার্ক, সোয়ারেজ, বিদ্যুৎ, পানি, হাসপাতাল, সেফটি ও সিকউিরিটি ক্রমবর্ধমান চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। তাই একটি উৎপাদনমুখী মহানগরী বিনির্মাণে আমার পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা হলো:

পরিকল্পনাসমূহ:
(ক) উন্নত রাজশাহী বিনির্মাণে প্রয়োজন সুষ্ঠ ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি, জ্ঞান, শিল্প, শক্তিশালী সামাজিক ও পরিবেশের ভিত্তি বিনির্মাণ।
(খ) দেশী- বিদেশী সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ইতিবাচক অর্থনৈতিক সামর্থ্য (Positive Economic Attractiveness) বৃদ্দিকররণ। এজন্য ৬টি অবকাঠামো যেমন, আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠা, পরিবহন, বিদ্যুৎ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সেফটি ও সিকিউরিটি জোরদার করতে হবে।
(গ) সকল সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে (যেমন পার্ক, পদ্মা পাড়, মিউজিয়ামসহ নানা ধরণের ক্ষেত্র) সেবা গ্রহীতাকে একটি সর্বনি¤্ন মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
(ঘ) শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের ব্যববহার বৃদ্ধিজনিত কারণে বিদ্যুতের অভাবে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। সেজন্য মহানগরীর সকল কাজে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
(ঙ) নগর সরকারের প্রশাসন ও তহবিল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও কার্যকারীতা বৃদ্ধি করতে হবে।
(চ) সুখি সমৃদ্ধ উন্নত মহানগরী বিনির্মাণে দরকার সুশাসন। এক্ষেত্রে ওয়াসা, বিদ্যুৎ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশনসহ প্রশাসনিক দপ্তরের সাথে একটি নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রস্তাবনাসমূহ:
(ক) রাজশাহী নগরীর বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র পদ্মা নদীর পাড়। সেখানে যাবার জন্য নগরীর ‘জিরো পয়েন্টে’ একটি দৃষ্টি নন্দন স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এই স্থাপনা থেকে পদ্মা পাড়ে যাবার জন্য রাস্তাটিও প্রশস্ত এবং নানন্দনিক সৌন্দর্য্যমেন্ডিত হওয়া দরকার।
(খ) মনিচত্বরের কাঁচাবাজার অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে পদ্মাপাড়ের সাথে যোগাযোগের জন্য ঐ রাস্তাটিরও সৌন্দর্য্যবর্ধন খুবই জরুরী। এর বিকল্প হিসেবে এখানে অর্থৎ মনিচত্বর হতে পদ্মাগার্ডেন পর্যন্ত একটি ‘ফ্লাইওভার’ নির্মাণ করা যেতে পারে।
(গ) রাজশাহী মহানগরীর বস্তি অঞ্চলের বাড়িঘর বিশেষ করে পদ্মাপড়ের বস্তিতে বসবাসরত মানুষের নিকট থেকে মাসিক সমহারে কিস্তি গ্রহণের ভিত্তিতে অর্থ নিয়ে ‘বিশেষ আবাসিক অঞ্চল’ নির্মাণ করা যেতে পারে। এতে শহরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিপাবে।
(ঘ) মহানগরীতে শিক্ষা, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, খেরাধুলা ও গবেষণার জন্য সুবিধাজনক স্থানে একটি কেন্দ্রীয় একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
(ঙ) শতভাগ প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠান ওগার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
(চ) আইটি বেইজড হেলথ-কেয়ার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে ‘ইলেক্ট্রনিক প্যাশেন্ট রেকর্ড’ ও রোগীর জন্য মেডিকেল ‘স্মার্টকার্ড’ প্রদান করা হবে যাতে সব রকমের রোগীদের ‘অর্থ সাশ্রয়ী’ উপায়ে চিকিৎসা প্রদান করা যেতে পারে। (এক্ষেত্রে Sao-Paulo and UK IT based হেলথ-কেয়ার মডেল অনুসরণযোগ্য)
(ছ) নগরীর সম্পদ ও মানব জীবনের নিরাপত্তা বিধানে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে CCTV ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ‘Surveillance’ বৃদ্ধি করতে হবে।
(জ) পরিচ্ছন্ন নগরী, স্বাস্থ্যকর নগরী প্রতিষ্ঠায় সিটি কর্পোরেশনের অধীন প্রতিটি ওয়ার্ড অথবা সুবিধাজনক উপায়ে কতিপয় ‘টহল টিম’ থাকবে যারা নগরী পরিচ্ছন্নতা, অবৈধভাবে রাস্তা খুঁড়াখুড়ি করে সমস্যা সৃষ্টি, পরিবেশ দূষণ, অব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করে কর্পোরেশনে প্রতিবেদন দিবে। কর্পোরেশন দোষিদের জন্য বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

হে প্রিয় রাজশাহী বাসী ‘চলো বদলে দেই রাজশাহী।’

লেখক: শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী।

Leave a comment

আরও খবর

  • সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তন চাই
  • বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা আইন ও আমাদের ভাবনা
  • কলঙ্কের কালোরাত: ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস
  • জীবন বাঁচাবার জন্য ডাক্তার হবার প্রয়োজন নেই
  • ‘শেখ হাসিনা’ উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য
  • চেইঞ্জ মেকার মেয়রকে নগর ভবনে স্বাগতম
  • দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সত্যায়ন
  • সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  • বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বন্ধন ও আজকের বাঙালির জন্য পথনির্দেশ
  • ‘মেসে থাকি তো একটু সাশ্রয়ী হতেই হয়’
  • হৃদয়বিদারক শোকের দিন আজ
  • প্রিয় দেশবাসী…
  • বামরা শ্রমিক স্বার্থের কথা বলছে না কেন?
  • বন্ধুত্ব স্বার্থহীন ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধন
  • অভিনন্দন নবনির্বাচিত নগর পিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন


  • উপরে