সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তন চাই

সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তন চাই

প্রকাশিত: ১৩-১১-২০১৮, সময়: ১৫:১৩ |
খবর > মতামত
Share This

আবদুল কুদ্দুস : সব কিছু ঠিক থাকলে আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমরা দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে রাজনীতিতে কতিপয় সাহসী পরিবর্তন চাই। এই মহূর্তে আমরা সবার আগে দলীয় মনোনয়ন প্রদানে পরিবর্তন চাই। আসন্ন নির্বাচনে কোন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী, এতিমের অর্থ লুটপাটকারী, ইয়াবা ব্যবসায়ী, খুনী, ব্যাংক লুটকারীসহ কোন দাগী প্রার্থী যাতে মনোনয়ন না পায় এই পরিবর্তন আমরা রাজনৈতিক দলের কাছে চাই। এর জোর দাবিও করছি। এরপর নির্বাচনে যাতে সৎ, প্রকৃত রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হতে পারে সেই পরিবর্তন আমরা এদেশের জনগণের নিকট জোরালোভাবে চাই।

বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ বিজ্ঞানে নিজেদের কম-বেশী অজ্ঞ মনে করে। তবে রাজনীতিতে কম-বেশী সবাই নিজেকে বিশেষজ্ঞ মনে করে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন-‘মানুষ তখনই ভুল করে যখন সে নিজেকে পরিপূর্ণ/স্বয়ংসম্পূর্ণ/অভাবমুক্ত মনে করে (৯৬:৭)।’ সুতারাং এই উক্তি থেকে বুঝা যায়, মানুষ কখনই পরিপূর্ণ নয়! মান-অপমান, ক্ষমতা ও কাতরতা, জ্ঞান ও মুর্খতা, বল ও দুর্বলতা, জয়-পরাজয়, জীবন ও মৃত্যু এসব শব্দ যুগল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। অন্য দিকে অপমানশূন্য সম্মান, কাতরতাবিহীন ক্ষমতা, মূর্খতাহীন জ্ঞান, দুর্বলতা শূন্য বল, মৃত্যুহীন জীবন এসব অলংকার মহান সৃষ্টিকর্তার জন্য। তবুও মানুষ দাম্ভিকতার সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে যুগের পর যুগ। বর্তমান বিশ্বে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার গণতান্ত্রিক উপায় নির্বাচন। নির্বাচনের সময় এলে ক্ষমতার মসনদ পাবার জন্য নেতারা ছুটে চলে মানুষের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু মানুষকে দেবার সময় হলে ওই নেতাই খুঁজে ফিরেন নিয়ম নীতির নানা বেড়াজাল। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সামনে নিয়ে আসেন নানাধরণের রাজনৈতিক স্বার্থ! আমরা মানুষের এই আচরণের পরিবর্তন চাই।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ যারা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের অনেকেরই ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি নাই। অথচ যাদেরকে নির্বাচিত করছেন তাঁদের রয়েছে বিলাশবহুল বাড়ি, অফিস, গাড়ি। জনপ্রতিনিধিদের জন্য থাকে বিশাল গাড়ি বহর। আর সাধারণ জনগণের জন্য পায়ে হেঁটেও চলবার ব্যবস্থা থাকেনা। পদে পদে থাকে শুধু হয়রানি। যে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত করে তাদেরকেই এক সময় প্রতিনিধিদের নিকট কোন কাজের জন্য গেলে সহজে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ব্যক্তিগত অব্যক্তিগত চামচাদের দৌরাত্মে অসহায় হয়ে যায় সবাই। এরপর আবার নির্বাচন এলে গর্তের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জনবিচ্ছিন্ন নেতারা বাঘা বাঘা সব নেতা সেজে ফাঁকা মাঠে হুক্কি দেয়। জনগণের কথা বলার ভাব দেখায়। নির্বাচনের রোড ম্যাপ দেয়। রাষ্ট্র নির্মাণের নানামাত্রিক দফা রফা পেশ করে। কোন নেতাই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি দফা পেশ করে না। যে দেশের কৃষক উৎপাদন করে বড় সাহেবদের মুখে খাবার তুলে দেয় সেই কৃষকরা পন্যের ন্যায্য মূল্য না পেলে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠে না!

কৃষক-শ্রমিকদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে চেহারা মলিন হয়েছে তবুও চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় কোন পারিতোষিক নেই! বেকারদের বেকারত্ব ভাতা দেবার কোন ব্যবস্থা নেই! অথচ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাদের পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে দিব্যি। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, চাকুরীজীবিরা মানুষ, ‘স্ট্যাটাস’ শব্দটি শুধু তাদের জন্য। অন্যরা রাষ্ট্রের আগাছা। বড়সাহেবদের জন্য থাকবে ‘মাননীয়, ‘মহামান্য’ ইত্যাদি শব্দ। সাধারণ জনগণ শুধু ওই নামে তাদেরকে ডেকেই ক্ষান্ত হবেন! যেদেশের লুটেরা রাজনীতির নাম করে সরকারি প্রতিষ্ঠান থকে কোটি কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে! মানবাধিকারের অতন্দ্র প্রহরি সাংবাদিকদের যে রাষ্ট্রে চাকরির কোন নিরাপত্তা নেই! যেখানে চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর চাইলে যুবকের মাথা থেকে রক্ত ঝরে! রক্তাত্ত হচ্ছে রাজ পথ! অথচ এই দেশে পোষ্য কোটার ব্যবস্থা দেখে আমরা ভীষণ হতাশ হই। একাদশ জাতীয় সংসদে আমরা সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচিত করে উপর্যুক্ত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তন হতেই হবে। এজন্য দেশের সব মানুষকে একযোগে কাজও করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ। উন্নয়নের রোল মডেল। আজকের দিনে এই দেশের প্রিয় গ্রাম-বাংলায় সব থেকে বড় দালানের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পায় সেগুলো উপসানালয় অর্থাৎ মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা। ‘আশ্রয়ন’ প্রকল্পের কারণে গ্রাম-বাংলার চেহারা আজ পাল্টে গেছে। বাঁশ বেতের বেড়া দেওয়া, বুনের ছাউনি দিয়ে চাল তোলে নির্মিত বাড়ি-ঘর আর তেমন দেখা যায় না। স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে নিজের ঘরে সুখের সাথে বাস করছে। সরকারি ও স্বেচ্ছ্বাশ্রমে উপসানালয় নির্মাণে এদেশের মানুষ প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই অর্জন ১৬ কোটি বাঙালির গর্ব। এসব অর্জনকে সমুন্নত রাখতে হবে। অতএব আসন্ন নির্বাচনে ধর্মান্ধদের সস্তা স্লোগান যেমন, অমুক দলকে ভোট দিলে ‘ইসলাম ধর্ম’ শেষ হয়ে যাবে, জোর করে ‘হিন্দু’ ‘বৌদ্ধ’ ‘খ্রিষ্টানদের’ ধর্মান্তরিত করা হবে! বাংলাদেশ ভারতের নিকট বিক্রি হয়ে যাবে এসব মিথ্যাচার আশা করি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলবে না! এমন পরিবর্তনই আমরা চাই! চাই শািন্তময় গণতান্ত্রিক ও উন্নত সোনার বাংলাদেশ। চাই মনে প্রাণে চাই…

লেখক : শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী।

Leave a comment

আরও খবর

  • সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তন চাই
  • বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা আইন ও আমাদের ভাবনা
  • কলঙ্কের কালোরাত: ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস
  • জীবন বাঁচাবার জন্য ডাক্তার হবার প্রয়োজন নেই
  • ‘শেখ হাসিনা’ উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য
  • চেইঞ্জ মেকার মেয়রকে নগর ভবনে স্বাগতম
  • দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সত্যায়ন
  • সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  • বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বন্ধন ও আজকের বাঙালির জন্য পথনির্দেশ
  • ‘মেসে থাকি তো একটু সাশ্রয়ী হতেই হয়’
  • হৃদয়বিদারক শোকের দিন আজ
  • প্রিয় দেশবাসী…
  • বামরা শ্রমিক স্বার্থের কথা বলছে না কেন?
  • বন্ধুত্ব স্বার্থহীন ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধন
  • অভিনন্দন নবনির্বাচিত নগর পিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন


  • উপরে