কলঙ্কের কালোরাত: ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস

কলঙ্কের কালোরাত: ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস

প্রকাশিত: ০৩-১১-২০১৮, সময়: ১৭:৩৬ |
খবর > মতামত
Share This
মামুন-আর-রশিদ : বাঙালীর ইতিহাস হাজার বছরের উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে রচিত হয়েছে। এক দিকে ইতিহাস একজনকে মহান করে চিত্রায়িত করেছে তার কর্মের মধ্যদিয়ে। অন্যদিকে অপরজনকে ফুটিয়ে তুলেছে ঠিক বিপরীতধর্মী হিসেবে। হাজার বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার ইতিহাস, পলাশীর প্রান্তরে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ও কলঙ্কময় কালিমা লেপন করেছিল আমাদেরই সহচর। নবাব সিরাজউদ্দৌলা তার সেনাপতি মোহন লালের নেতৃত্বে যে যুদ্ধ পরিচলনা করেছিল, সে যুদ্ধে কোম্পানির সাথে গোপন বৈঠকের কথা জেনে গেলেও নবাব মীর জাফরের কৃতকর্মের জন্য তাকে ক্ষমা করেছিল। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর, রাঘ দুর্লভ, ইয়ার লতিফ নবাবের বিরুদ্ধে গিয়ে এবং কোম্পানির হয়ে কাজ করে ইতিহাসের পাতায় নগ্ন ও লজ্জার পরিচয় দেয়।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু ও তার একান্ত সহচর এবং এদেশের মুক্তিপাগল মানুষের সাথে নিয়ে বহু ত্যাগের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জন করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয় বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানী করনের জন্য নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এর ফলস্বরূপ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে তার পরিবারসহ নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। হত্যার এক সপ্তাহের মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম বাংলাদেশের প্রথম সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধান মন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর সাথে যারা রাজনীতি করতেন তার মধ্যে খন্দকার মোশতাক আহমেদ অন্যতম। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রতিদ্বন্দী হিসেবে দেখেন। কিন্তু উদার বঙ্গবন্ধু তাকে ক্ষমা করেন এবং দলের একজন করে রাজনীতি করার সুযোগ দেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে খন্দকার মোশতাক ক্ষমতা গ্রহণ করেলেও তিনি রাজনীতিতে টিকে থাকবেন না, এমন ধারণা সবার ছিল। তিনি সেনাবাহিনীর একটি ক্ষুদ্র অংশ বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীপরিষদ থেকে কিছু সদস্য এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে একটি জোট করে।
জাতীয় চার নেতাকে প্রায় আড়াই মাস কারাগার বরণ করতে হয়। মোশতাক সরকার বিভিন্ন সময় চার নেতাকে মন্ত্রীত্বের প্রলোভন দেখালেও তারা তাদের নেতার রক্তের উপর পা দিয়ে মোশতাকের সাথে হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানায়। মোশতাকের ধারণা ছিল বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যারা একটি দেশ স্বাধীন করতে পারে তারা তার সরকারকে উৎখাত করবেই। এজন্য মোশতাক ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর নাজিম উদ্দীন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫ জন সেনা সদস্যকে প্রেরণ করে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে সকল বিধি বিধান উপেক্ষা করে ইতিহাসের বর্বর হত্যাকান্ড পরিচালনা করে। কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে বাধা প্রদান করলেও রাত ৩ টার সময় বঙ্গভবন থেকে কর্ণেল রশিদের ফোন আছে।
কারাকর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমতি চাইলে পাশ থেকে ঘোষণা আসে “তাদের কাজ করতে দাও”। ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়। কেন্দ্রীয় কারাগার নিস্তব্ধ হয়ে যায়। তাজউদ্দীন আহমদ এবং রাজশাহী মাটি ও মানুষের নেতা এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান কে বেওনেট চার্জ করে ক্ষরীরকে ক্ষত বিক্ষত করা হয়েছিল। মৃত্যুর পূর্বে তাজউদ্দীন আহমদ পানি পিপাসায় কাতরালেও ঘাতকেরা কোন দয়া দেখায়নি, জেলের মধ্যে হত্যাকান্ড হয়েছিল বলে এটিকে “জেল হত্যা” বলা হয়। এ হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে তারা ভেবেছিল যে শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে তাদের কাঙ্খিত উদ্দেশ্য সফল হবেনা।
আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূণ্য করার জন্য জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরে এসে আমরা নতুন প্রজন্ম হত্যার রহস্য উন্মোচনের ফলে সত্য ঘটনা জানতে পারছি। কারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল? কারা পৃষ্টপোষক ছিল?, এ হত্যাকান্ডের ফলে কারা সুযোগ গ্রহণ করেছিল এবং এ হত্যাকান্ডের বিচারে কারা পরোক্ষ ভাবে বাধা প্রদান করেছিল তা আজ সকলের জানা, স্বাধীনতার এ মহান স্থপতিদের আজকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।

Leave a comment

আরও খবর

  • কলঙ্কের কালোরাত: ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস
  • জীবন বাঁচাবার জন্য ডাক্তার হবার প্রয়োজন নেই
  • ‘শেখ হাসিনা’ উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য
  • চেইঞ্জ মেকার মেয়রকে নগর ভবনে স্বাগতম
  • দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সত্যায়ন
  • সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  • বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বন্ধন ও আজকের বাঙালির জন্য পথনির্দেশ
  • ‘মেসে থাকি তো একটু সাশ্রয়ী হতেই হয়’
  • হৃদয়বিদারক শোকের দিন আজ
  • প্রিয় দেশবাসী…
  • বামরা শ্রমিক স্বার্থের কথা বলছে না কেন?
  • বন্ধুত্ব স্বার্থহীন ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধন
  • অভিনন্দন নবনির্বাচিত নগর পিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন
  • সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আবু রায়হান এক তরুণ কিংবদন্তী
  • ‘জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তরিত করলে দেশ উন্নত হবে’


  • উপরে