‘শেখ হাসিনা’ উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য

‘শেখ হাসিনা’ উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য

প্রকাশিত: ২৫-১০-২০১৮, সময়: ১৬:৩৮ |
খবর > মতামত
Share This

আব্দুল কুদ্দুস : ‘Your vote decide the future of Bangladesh’ এই নির্বাচনী স্লোগানটি সিঙ্গাপুর নির্বাচন কমিশনের নিকট থেকে ধার করে বাংলাদেশের জনগণের জন্য লিখলাম। কারণ এটি ২০৪১ সালে সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য খুবই বাস্তবসম্মত। বঙ্গবন্ধু বলতেন, “আমার রাজনীতির অন্ত্র জনতার ঐক্য।’ জাতির পিতার এই কালজয়ী উক্তি থেকে বুঝা যায়, গণতান্ত্রিক শাষণ ব্যবস্থায় নেতার প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন একজন রাষ্ট্র নায়কের ক্ষমতাকে আরো বেশী সুদৃঢ় করে।

যেহেতু শেখ হাসিনা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্বপ্নদ্রষ্টা সুতরাং নেত্রীর আরো কিছুকাল বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নেত্রীর আরও কিছুকাল ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন এই কথাটির পেছনে আমরা যুক্তি খুঁজলে দেখতে পায় যে, বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ২৩৪ আসনে বিজয় লাভ করে ক্ষমতায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনই বাংলাদেশকে এবং এর প্রধানমন্ত্রীকে আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে জায়গা করে দিয়েছে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি এরকমই বিপুল জনসমর্থন দরকার। তবেই তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে হবেন সাহসী। বহির্বিশ্বের কিছু উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের উন্নয়নের রোল মডেলদের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পায়, আধুনিক মালোশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মাদ ১৯৮২ সালের সাধারণ নির্বাচনে ‘ডিওয়ান রাকাইতে’র মোট ১৫৪ টি আসনের মধ্যে ১৩৪ টিতে জয়লাভ করেছিলেন। জনগণের এই নিরঙ্কুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁর রাজনৈতিক পথ প্রশস্ত করেছিলো বলা চলে। এই পথেই তিনি দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ মালোশিয়ার ক্ষতায় অধিষ্ঠিত থেকে তাঁর প্রিয় দেশটিকে নিয়ে গেছেন উন্নয়নের চরম শিখরে।

মালোশিয়ায় উচ্চশিক্ষারত আমার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলাম দেশের উন্নয়নে একজন নেতার কোন গুণাবলীটি বেশী প্রয়োজন (ক) নেতার ক্যারিসমাটিক লিডারশীপ (খ) শক্তিশালী রাজনৈতিক দল (গ) জনগণের ব্যাপক সমর্থন। সে মাহাথির মোহাম্মাদের উদাহরণ টেনে বলেছে, একটি দেশের উন্নয়নে নেতার ক্যারিসমাটিক লিডারশীপই যথেষ্ঠ। কারণ, উন্নয়নের সিদ্ধান্ত সংসদে পাশ করতে হয়না। এগুলো সরকারের রুটিন ওয়ার্ক। এজন্যই দরকার ক্যারিসম্যাটিক লিডারশীপ। আর রাষ্ট্রীয় সংস্কারমূলক কাজে বিল পাশ করা ছাড়া সংসদে ব্যাপক জনসমর্থনের দরকার নেই! অন্য দুটি অপশনকে অবজ্ঞা করার পেছনের তার যুক্তি হলো, মাহাথির মোহাম্মাদ দীর্ঘ ১৫ বছর রাজনীতি থেকে বাহিরে থাকার পর ২০১৮ সালের ৯ মে তে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তিনি নিজের দল ‘বরিশান ন্যাশনাল’ ত্যাগ করে তাঁর সব থেকে বিরোধী জোট ‘পাকাতান হারাপান’ এর নেতৃত্ব নিয়ে নিজের ক্যারিসমাটিক লিডারশীপের গুণে আজ আবারও জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে মালোশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন।

এবিষয়ে আমি রাজশাহীর একজন প্রবীন সাংবাদিককে প্রশ্ন করেছিলাম এবং আমার বন্ধুর দেওয়া যুক্তির কথা তাঁর কাছে তুলে ধরেছিলাম। প্রবীন এই সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডল বিবেচনা করলে দেখা যাবে কোন নেতা তিনি যতই বড় হোন না কেন দল ত্যাগ করে অন্য দল থেকে নির্বাচন করতে চাইলে রাজনীতির মাঠে তিনি বিজয় লাভ তো দূরের কথা জীবনের তরে চিরদিনের জন্য ‘পচে’ যাবেন! এই সাংবাদিকের যুক্তি হলো একজন নেতার রোল মডেল হওয়ার ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত ৩টি গুণাবলিই প্রয়োজন। গৌরবের বিষয় হলো, নেতা হিসেবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর্যুক্ত সব গুণই রয়েছে।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসনে জয়লাভ করেছিলো বলেই কিন্তু আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিরহ নিরস্ত্র বাঙালির হৃদয়ে সহ¯্রগুণে শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল। আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এরকম ইতিহাস প্রতিবেশী দেশ ভারত, সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর বহু উন্নয়নের রোল মডেল দেশের রয়েছে। তাই ২০১৮ এর শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ ও ২১০০ সালে ‘ডেল্টা প্ল্যান’ সমৃদ্ধ পরিপূর্ণ এবং একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য ব্যাপক সংখ্যা গরিষ্ঠতার মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিজয়ের কোন বিকল্প নেই!

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আজ এই প্রিয় দেশটিকে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডলে হিসেবে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশকে তিনি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর নেতৃতে বাংলাদেশ আজ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ স্থাপিত হয়েছে। জেনে রাখা ভালো, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের জনগণ জানুয়ারি, ২০১৭ হতে ‘No voter to be left behind’ শিরোনামে সমৃদ্ধ ভারত বিনির্মাণের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের একদল কুচক্রি মহলের মানুষ বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কোন পরিকল্পনা প্রণয়ন না করে, মানুষের অধিকারের কথা, মানুষের ভাগ্যন্নোয়নের জন্য কোন কাজ না করে নিজের ক্ষমতার গদি পাকাপুক্ত করতে ষঢ়যন্ত্রের জাল ‘জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট’ নামক একটি রাজনৈতিক জোট তৈরী করে দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় অব্যাহত রেখেছে। খুনি, দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের এমন রাজনৈতিক দুযোগ মহূর্তে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে আবারও ভীষণ প্রয়োজন!

মহান সৃষ্টিকর্তা সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার নিদর্শন বুঝাতে পবিত্র কোরআনের আল ইনশিরাহ (৯৪:৪) এ বলেছেন-‘আমি তোমার আলোচনাকে সমুন্নত করেছি।’ তাফসীরবীদগণ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন- যেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর নাম রেখেছেন, সেখানে তাঁর রাসুলের নামও রেখেছেন। যেমন, কালেমা, আযান, তাশাহুদ ইত্যাদি। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-পৃথিবীর সকল মানুষকে তোমার নাম বলার সাথে সাথে সাল্লালাহু আলাইহি ও সাল্লাম (সাঃ) বলা বাধ্যতামূলক করেছি। এসব করেছি এজন্য যে, আমি তোমাকে ভালোবাসী।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও তাঁর রাসূলের এমন মহিমা সাথে কারো তুলনা হয় না। তবুও আবেগের বসে হলেও লিখতে চাই, যে নেতা দেশকে এতো উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে গেছেন, যাঁকে আজ সরা বিশ্বের মানুষ ‘মানবতার মা’ ‘মাদার অব এডুকেশন’, ‘নির্যাতিত মানবতার বিবেক’,‘ক্রান্তিকালের সফল কান্ডারি’, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল’ , জোয়ান অব আর্ক’ উপাধিতে ভূষিত করছেন তাঁকে আমরা বীর বাঙালি হিসেবে আমদের ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসাতে কী পারি ন! অবশ্যই পারি ইনশাল্লাহ। আমরা তাঁকেই একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতে চাই। কারণ ‘নাসরুম মিনাল্লাহে ওয়া ফাতেহুন কারীব’- বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত আল্লাহ আমাদের সহায় (সূরা-আস সাফ আয়াত ১৩)।”

বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, শেখ হাসিনার রাজনীতির মূল বিষয় হলো ‘মানুষ’। তারা আরও মনে করে, এদশে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে জাতি বিজয়ী হয়। আর পরাজিত হলে জাতি পরাজিত হয়। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রা অপতিরোধ্য। শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম করেই আমরা দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে জয়ী হবো। বাংলাদেশের বহু মনীষীদের মতে শেখ হাসিনা এখন শুধু একজন পলিটিশিয়ান নন, তিনি একজন স্টেটসম্যানও। দেশের রাজনীতিতে বহু আকাক্সিক্ষত স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্ব স্বীকৃত সাফল্য অর্জন করে তাঁর নেতৃত্ব আজ একটি ইনস্টিটিউশনে পরিনত হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর নেতৃত্বের প্রভাব এখন স্পষ্ট। এখন তিনি নিজের আলোকেই আলোকিত। মানবতাবাদী রাজনীতি, উন্নয়নের গণতন্ত্র, দূরদৃষ্টিসম্পূণ দৃঢ় নেতৃত্ব ও নিজের আলোই আলোকিত দুর্ভেদ্য আলোক শিখাই তাঁর উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য।

লেখক:
শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী।

Leave a comment

আরও খবর

  • বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা আইন ও আমাদের ভাবনা
  • কলঙ্কের কালোরাত: ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস
  • জীবন বাঁচাবার জন্য ডাক্তার হবার প্রয়োজন নেই
  • ‘শেখ হাসিনা’ উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য
  • চেইঞ্জ মেকার মেয়রকে নগর ভবনে স্বাগতম
  • দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সত্যায়ন
  • সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  • বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বন্ধন ও আজকের বাঙালির জন্য পথনির্দেশ
  • ‘মেসে থাকি তো একটু সাশ্রয়ী হতেই হয়’
  • হৃদয়বিদারক শোকের দিন আজ
  • প্রিয় দেশবাসী…
  • বামরা শ্রমিক স্বার্থের কথা বলছে না কেন?
  • বন্ধুত্ব স্বার্থহীন ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধন
  • অভিনন্দন নবনির্বাচিত নগর পিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন
  • সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আবু রায়হান এক তরুণ কিংবদন্তী


  • উপরে