চেইঞ্জ মেকার মেয়রকে নগর ভবনে স্বাগতম

চেইঞ্জ মেকার মেয়রকে নগর ভবনে স্বাগতম

প্রকাশিত: ০৩-১০-২০১৮, সময়: ১৭:৪২ |
খবর > মতামত
Share This

মো. আবদুল কুদ্দুস : আনুমানিক প্রায় এক হাজার বছর আগে মানব বসতি স্থাপিত রাজশাহী মহানগরের নগর পিতা হিসেবে আপনাকে জানায় স্বাগতম। ৯৭.১৮ বর্গ কিলোমিটারের এই মেগাসিটিতে প্রায় ৪শ বছর আগে যে আধুনিকতার সূচনা হয়েছিলো তার ধারাবাহিকতা আপনার হাতে সুসম্পন্ন করতে আপনাকে জানায় সুস্বাগতম। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ভরপুর এবং প্রায় ১০ লাখ জনগণ অধ্যুষিত ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কান্ডারি হিসেবে আপনাকে জানায় স্বাগতম। সরকারী-বেসরকারী সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল, ও মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয় সমৃদ্ধ এবং দেশবিখ্যাত বহু সুনামধন্য সরকারী-বেসরকারী কলেজ সমৃদ্ধ এই শিক্ষা নগরীর নগর পিতা হিসেবে আপনাকে জানায় সুস্বাগতম।

হে নবনির্বাচিত নগরপিতা, বিগত দিনে রাসিকের মেয়র থাকাকালীন, আপনি কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলেছিলেন, এই নগরীর সব অধিবাসীরা এক আকাশের তলে একটি পরিবার হিসেবে বসবাস করবে। আর পৃথিবীর প্রতিষ্ঠিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সূর্যকরোজ্জ্বল বচন বলতে পারবে, ‘অন্ন চাই, প্রাণ চাই, আলো চাই, চাই মুক্ত বায়ু চাই বল, চাই স্বাস্থ্য, আনন্দ-উজ্জল পরমায়ু।’ ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল এই সময়ে আপনার এই প্রত্যাশা সফল হয়েছে তা আমরা বিশ্বাস করি।

হে পরিবর্তনের মহান নায়ক, ২০০৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বরে যে দায়িত্বভার আপনি গ্রহণ করেছিলেন তার থেকে এবারে ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আজ ৫ অক্টোবর যে দায়িত্বভার আপনি গ্রহণ করতে যাচ্ছেন এদুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রথমোক্তবার আপনি শপথ নিয়েছিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহম্মদের নিকট থেকে। আপনাকে সেসময় রাজনৈতিক পদ থেকে বিচ্ছন্ন করে নগরীর উন্নয়নে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন ১৮ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আপনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এবার তার বহুগুনে বেশী এবং প্রায় ১০১ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তারপরও এবারের দায়িত্ব গ্রহণে আপনার কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন এবারে আপনি শপথ নিয়েছেন উন্নয়নশীল বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিকট থেকে। শপথ নিয়েছেন গণভবন থেকে। এবারে আপনার রাজনৈতিক পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং এবারের আপনার হাত আরো বেশী শক্তিশালী করতে উন্নয়নের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, নৌকা প্রতীকের মাঝি হয়ে জনগণের সেবার দায়িত্ব নিয়েছেন। এজন্য জানায় আপনাকে স্বাগতম।

হে অগ্রপথিক নেতা, আপনার হাতেই প্রথম গঠিত হয়েছিলো ‘Make Rajshahi City Green’ প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের উন্নয়নের ফলে ২০১০ সালে রাজশাহী নগরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ বিষয়ক পদক লাভ করে। আপনিই সর্ব প্রথম দেশরত্ন শেখ হাসিানার ‘ভিশন-২০২১’ এর সাথে মিল করে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়নকল্পে বহুমুখী পরিকল্পনাসমেত ‘ভিশন-২০১৮’ প্রণয়ন করেছিলেন। যেখানে আপনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্পকারখানাসহ উন্নয়নের নানা অনুঘটক নির্ধারণ করে একটি কম্প্রেহেনসিভ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। সেখানে আপনার লক্ষ্য ছিলো রাজশাহীতে একটি Industrial Park বা Zone গঠন, গার্মেন্টস পল্লী স্থাপন, রেশম পল্লী স্থাপন, নাট্যমঞ্চ নির্মাণ, শিক্ষাক্ষেত্রে ই-গভার্নেন্স চালুকরণ, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ, ওভারহেড ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণহ বহু আধুনিক পরিককল্পনা গ্রহণ। আপনার অনুপস্থিতির কারণে বিগত পাঁচ বছরে (২০০১৩-২০১৮) এসব প্রজেক্টের উন্নয়ন হয়নি। এবারে এসব প্রজেক্টের সার্বিক উন্নয়ন করে মানবিক রাজশাহী ও উন্নত রাজশাহী বিনির্মাণের জন্য আপনাকে জানাই স্বাগতম।

হে সৌন্দর্য্যরে বরপুত্র, রাজশাহী পদ্মাপাড়ে আপনার নিজ হাতে করা উন্নয়ন মানুষ প্রাণ ভরে উপভোগ করছেন আজও। বিনোদন প্রেমী মানুষ সময় পেলেই ছুটে যান নয়ানাভিরাম সৌন্দয্যের আধার পদ্মাপাড়ে। এসব ২০০৮ সালের আগে ছিলো না। আপনি মেয়র থাকাকালীন প্রায় প্রতিদিন পদ্মাপাড়ে আপনার সরব উপস্থিতি মানুষের হৃদয়কে করতো উদ্বেলিত। অপনার যোগ্য নেতৃত্বে রাতের মহানগরীকে সুশোভিত, সৌন্দর্যমন্ডিত ও তিলোত্তমা করার লক্ষ্যে সড়কের মোড়ে মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গার্ডেন লাইট সেট এবং শোভাবর্ধন টুনি বাল্ব সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ৩ হাজার সেট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতি বিভিন্ন স্থানে সংযোজন করেছিলেন। এমন আলোকিত নগরী, এমন দীপ্তিমান নগরী, এমন শান্তির নগরী গঠনে আবারো আপনাকে জানাই স্বাগতম।

হে শহীদ পরিবারের সন্তান, ৫ আক্টোবর, ২০১৮ নগর ভবনের গ্রীণ প্লাজায় আপনার প্রিয় নগর বাসীর উপস্থিতিতে আপনি যখন রাজশাহী মহানগরের নগর পিতার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ঠিক তখন থেকেই ওই নগর ভবন হয়ে উঠুক সর্বস্তরের মানুষের মিলনস্থল। মানুষ শত দুঃখ, শত কষ্ট বুকে জমিয়ে এনে এখান থেকে সমাধান পেযে হাসিমুখে ফিরে যাবে পরিবারের কাছে। সুবিশাল এই নগর ভবন আপনার নেতৃত্বে হোক সকল মানুষের কল্যাণের তীর্থস্থান। উন্নয়নের আলোকবর্তিকা। মহানগরীর ১০ লাখ জনগণের হৃদয় থেকে ঝরে পড়–ক হৃদয় নিংড়ানো অকৃত্রিম ভালোবাসা। পুরো নগরীতে বয়ে যাক শান্তির সুবাতাস। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক, পেশাজীবি, খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষসহ ওই সময়ে গ্রীণ প্লাজায় উপস্থিত, অনুপস্থিত সকল মানুষের মাঝে বয়ে যাক নির্মল আনন্দের জোয়ার। আপনার বক্ষ উন্মুক্ত হোক সবার বুকের সাথে মিলিত হওয়ার গৌরবে। চেইঞ্জ মেকার ও নেতা হিসেবে আপনার আলোচনা সমুন্নত হোক। আপনি দীর্ঘজীবি হোন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী, মোবাইল: ০১৭১৭৮৫৪১০৪

আরও খবর

  • সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তন চাই
  • বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা আইন ও আমাদের ভাবনা
  • কলঙ্কের কালোরাত: ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস
  • জীবন বাঁচাবার জন্য ডাক্তার হবার প্রয়োজন নেই
  • ‘শেখ হাসিনা’ উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল হওয়ার রহস্য
  • চেইঞ্জ মেকার মেয়রকে নগর ভবনে স্বাগতম
  • দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সত্যায়ন
  • সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  • বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বন্ধন ও আজকের বাঙালির জন্য পথনির্দেশ
  • ‘মেসে থাকি তো একটু সাশ্রয়ী হতেই হয়’
  • হৃদয়বিদারক শোকের দিন আজ
  • প্রিয় দেশবাসী…
  • বামরা শ্রমিক স্বার্থের কথা বলছে না কেন?
  • বন্ধুত্ব স্বার্থহীন ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধন
  • অভিনন্দন নবনির্বাচিত নগর পিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন


  • উপরে