শেখ হাসিনার আহ্বান : ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ

শেখ হাসিনার আহ্বান : ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ

প্রকাশিত: ০৫-০৩-২০১৮, সময়: ১১:৩৮ |
খবর > মতামত
Share This

ফাইল ফটো

আবদুল কুদ্দুস : বাংলায় একটি খনার বচন আছে, “যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্য দেশ”। কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত ৬০০-১২০০ শতাব্দিদে প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ খনার মুখনিঃসৃত এই বাণী বাংলাদেশের জন্য এবছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মানুষ এবার প্রাকৃতিক সম্পদের বাম্পার ফলনে ধন্য হবে আশা করছি। কারণ এবছর মাঘ মাস শেষে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশের আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীসহ দেশের সর্বত্র বাগান-বাগিচায় আম, লিচু, কাঁঠালসহ অন্যান্য গাছে মুকুল, ফুল, ফল ও ফসলের মাঠে চোখ মেললে দেখা যাচ্ছে এই বছরটি ধনভান্ডারপূর্ণ শষ্যের বছর হবে। কেননা সুজলা সুফলা শষ্য-শ্যামলা বাংলাদেশের মাঠ-ঘাট ফল ও ফসলে ভরে গেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ তাই ২০১৮ সালে ব্যস্ত নির্বাচনী বছর হিসেবে রাজনীতির তত্ত্ব নির্মাণ করতে। অর্থনীতিবিদরাও নির্বাচনী বছরের অর্থনীতি কেমন হওয়া দরকার তা নিয়ে গবেষণায় বেশ তৎপর। দেশের ব্যাংকারগণ নির্বাচনী বছরে কালোটাকার প্রবাহ বন্ধে করতে পথ আবিষ্কারের জন্য করছেন গবেষণা। গবেষক থেকে শুরু করে একেবারে দেশের একজন অতি সাধারণ মানুষও তাদের প্রতিটি কাজকর্ম ও জীবনের হিসেব-নিকেশ কষছেন ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ সরকার ঘোষিত নির্বাচনকে সামনে রেখে। এবারের নির্বাচন ২০৪১ সাল নাগাদ সুখি সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাও তাঁর প্রিয় দেশবাসীর কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মিাণে সবাইকে ঐকবদ্ধ করতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী এই সফর নৌকা প্রতীক প্রেমী মানুষের মধ্যে দেশ গঠনে অসীম ভূমিকা পালন করবে বলে মনে হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বিএনপিসহ অন্যান্য দুই একটি দলের নেতারা ‘সরকারী খরচে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের প্রচার’ বলে যে মিথ্যাচার করছেন তা দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ বাংলাদেশের গণমানুষ সবসময় তাদের নেতাদের ভালোবেসে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতির পদে বসিয়েছেন। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো অথবা নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রলোভনে ভরপুর নির্বাচনী ইশতেহার বানিয়ে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত বিএনপি বা এর সমমনা দলের নেতারা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে এদেশের মানুষকে কতটা ক্ষুধামুক্ত করতে পেরেছেন? অশিক্ষা, কুসংস্কার ও অকালে মাতৃমৃত্যুর হাত থেকে দেশের মানুষকে কতটা রক্ষা করতে পেরেছেন? দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করে ভিক্ষুকের জাতি নামক অভিশাপ থেকে কতটুকু মুক্ত করতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন? উত্তর হবে তা কিছুই পারে নি!

তবে যদি এমন প্রশ্ন করা হয় যে, তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের এই যুগে কোন দলটি একটি দেশকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে? ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত শান্তির বাংলাদেশ বিনির্মাণে কোন দল সবার উপরে? কোন নেতা বিশ্বনেতা? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি দেশবাসীর কাছে চাওয়া হয় তখন উন্নয়প্রিয় গোটা বাঙালি বুক উঁচু করে আকাশের দিকে দুই হাত তুলে জানিয়ে দিচ্ছেন- তিনি বাংলাদেশের একমাত্র নেতা, তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলার মেহনতী কৃষক ভাইয়েরা আজ ৩৩৩১ নম্বরে ফোন করে জেনে নিতে পারছেন তাদের প্রয়োজনীয় বিষেজ্ঞদের নিকট থেকে সকল কৃষি তথ্য। ৯৯৯ ডায়াল করলেই মিলছে পুলিশি সেবা। ১৬২৬৩ তে ফোন করলেই পাওয়া যায় বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য সেবা।

এই মহীয়সী নেতা যিঁনি জীবনের সবটুকু দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষুধা দূর করতে, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিতে, অন্ধকার ঘরে আলোক শিখা জ্বালিয়ে দিতে, ঘরহীন মানুষকে ঘর তৈরী করে দিতে, অসুস্থ মানুষকে সেবা দিয়ে সুস্থ করতে প্রাণপন পরিশ্রম করছেন তাঁকে তার জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষের সাথে ভাগাভাগি করতে আমরা একটি সরকারী যান ফ্রি করে কেন দিতে পারবো না? আমরা দেশের সাধারণ মানুষ জাতির পিতার কন্যার সেই প্ররিশ্রমের মূল্য কোন টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে পারবোনা। তাই ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছেন তাঁর সেই দুর্দান্ত স্বপ্নে কিছু সরকারী টাকা ব্যয় করে গর্বিত বাঙালি হিসেবে অংশিদারা হতে চাই মাত্র। তাতে ক্ষদির কী আছে? তাছাড়া আমরা ইতিহাসে একদিন অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে গন্য হবো।

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবন ধরে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন,, ৫৬’র শাসতন্ত্রের জন্য আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ শীর্ষক ছয় দফার মাধ্যমে মানুষের মুক্তি সংগ্রামের আন্দোলন, ৬৯’র এর গণঅদ্ভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন এবং সবশেষে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। জন্মের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর সকল আন্দোলন সংগ্রামে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ সাহায্য করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে মানুষ নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে, কখনো কখনো জীবন দিয়ে এই মহান নেতার সাথে আন্দোলন সংগ্রামে পাশে থেকেছেন। এসব ত্যাগের বিনিমিয়ে বাংলার মানুষ পেয়েছেন মহামূল্যবান একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ। এই দেশটি এদেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুর নিকট থেকে সবচেয়ে বড় উপহার।

সেই স্বাধীন সার্বভৌম দেশটিকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে সম্মানের আসনে তুলে ধরতে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে যে সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন সেই লড়াইয়ে আজকে পুরো দেশবাসীকে একাট্টা হতে হবে। হতেই হবে। এর বিকল্প নেই।

দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন তো আজ আর কোন স্বপ্ন নয়। এটি এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) চলতি মাসের ১২-১৬ মার্চ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সভার মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সবধরণের পক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ায় আগামী ২০২৪ সাল নাগাদ (প্রথম আলো, ৩/০৩/২০১৮) সব বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ হবে উন্নয়নশীল দেশ।

একটি কথা স্পষ্ট যে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনা সিলেটের হযরত শাহজালাল (র) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে জনগণের দরবারে তাঁর উন্নয়ন নীতির কথা নিয়ে এগিয়ে আসছেন। এরপর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিটি জনসভায় যে শুধু ভোট প্রার্থনা করছেন এমনটি নয়। তিনি তাঁর সব ভাষণেই ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার জন্য নৌকা প্রতীকের সমর্থন চেয়েছেন। মানুষকে উন্নয়নের অংশিদার হতে বলেছেন। এটি কিন্তু সরাসরি নির্বাচনের প্রচার নয়। আমরা মনে করি দেশরত্ন শেখ হাসিনার এই কৌশল বাংলার মানুষকে সাথে নিয়ে উন্নয়নে অংশগ্রহণ করারা জন্য একটি সূত্র। এই কৌশল দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। এই সমাবেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার সমাবেশ। তিনি কোন জনসভাতেই নিজে প্রধানমন্ত্রী হতে চান নি। তিনি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে আরো বেগবান করতে রসদ জোগানোর জন্য নৌকা প্রতীককে সমর্থন প্রদানের কথা বলেছেন। সকল জনসভায় তিনি দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ পেশার দক্ষতা, মেধা, শ্রম ব্যবহার করে নতুন নতুন তত্ত্ব ও কৌশল আবিষ্কার করতে বলেছেন। তাঁর এসব প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হতে পারে সুখি, সমৃদ্ধ, স্বাবলম্বী একটি উন্নত দেশ।

লেখক: শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী।

উপরে