মহান বিজয় দিবস: দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের শক্তিশালী স্তম্ভ

মহান বিজয় দিবস: দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের শক্তিশালী স্তম্ভ

প্রকাশিত: ১৪-১২-২০১৭, সময়: ১৮:০৯ |
খবর > মতামত
Share This

মো. আবদুল কুদ্দুস : ১৬ ডিসেম্বর তারিখ বাঙালি জাতির উৎসবের দিন। এদিন মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবসে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্রিড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিপাঠে মেতে উঠে। শাসক থেকে সাধারণ মানুষ একে অপরকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠায়। সামর্থ্যবানদের বাড়ি বাড়ি নানামাত্রিক খাবারের আয়োজন হয়। এই দিনে জেলখানা থেকে শাস্তি মাফ করে অনেক কয়েদিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরর এই দীর্ঘ নয় মাস বীর বাঙালি নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে অর্জন করেছে এই মহান বিজয়। বিজয়ের আজ ছিচল্লিশতম বছর। দিন যতো বাড়ছে বিজয়ের অনুপ্রেরণায় প্রতিটি বাঙালি সন্তান শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান বিজ্ঞানের উদ্ভাবনী শক্তিতে পরিপূর্ণ হচ্ছে। পাকিস্তানের সামরিক জান্তাদের অন্যায় অত্যাচার ও নিপিড়নের হাত থেকে রক্ষা পেতে মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের পূর্বসূরীরা এই বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এবং স্বাধীকার আদায়ের এই মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লক্ষ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির তাজা প্রাণ অকাতরে ঝরে যায়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে চরম দারিদ্রতাকে সঙ্গি করে বেঁচে থাকেন সেই সময়ের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ মানুষ। তার মানে প্রায় প্রতিটি ঘরেই দারিদ্রতার কষাঘাত। পাকিস্তান নরপিশাচদের সশস্ত্র হামলায় বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ (২/৩) অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায়। যুদ্ধাহত প্রতিটি বীর বাঙালি তবুও আশায় বুক বাধে ক্ষুধা দারিদ্র, শোষণমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার।

তাদের প্রত্যেকের স্বপ্ন ছিলো এই যে, আমি অভাগা ছিলাম! আমার জন্ম হয়েছে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিপিড়িত নির্যাতিত দুঃখি পিতা-মাতার ঘরে! সেটি ছিলো আমার জন্য বঞ্চনার। কিন্তু আমি চাই আমার অনাগত সন্তান যেন সেই অবস্থার শিকার না হয়। আমার জন্ম হয়েছে শোষণের বেড়াজালে আবর্তিত বাংলাদেশের একটি দরিদ্র পরিবারে। কিন্তু আমার ভবিষ্যৎ সন্তানের শুভাগমন হয় যেন স্বাধীন সার্বোভৌম এবং শক্তিশালী আর্থিক ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত প্রাণের ভূমি বাংলাদেশে। সেই জন্যই সেদিন আমি যুদ্ধে গিয়েছিলাম। জীবনকে তুচ্ছ করে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেই মহান মানুষদের ত্যাগ তিতিক্ষার ফল বাংলাদেশের মানুষ আজ ভোগ করছে। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলে সত্যিই আজকের সদ্য ভূমিষ্ট প্রতিটি শিশু স্বাধীন সার্বোভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে মাটিতে জীবন শুরু করতে পারছে। দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিজয় দিবসের ছিচল্লিশ বছর পর তাদের সেই স্বপ্নের সাথে সাক্ষাৎ পেয়েছে বলা যায়।

দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন বিশ্লেষণ করলেই আমরা বুঝতে পারি সেদিন বাংলার মুক্তিকামী মানুষ যেমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিলো সেই বাংলাদেশ বিনির্মার্ণে আমরা এগিয়ে চলেছি। উদাহরণস্বরূপ, সেদিন যেই মানুষ পরাধীন বাংলাদেশের মাটিতে কাঠের লাঙলে এক টুকরো লোহার ফালি লাগিয়ে গরু-মহিষের কাঁধে ভর করিয়ে চাষাবাদ করতো সেই মাটিতে আজ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্রাক্টর দ্বারা চাষাবাদ হচ্ছে অনায়েশে। পরাধীন বাংলাদেশের একজন কৃষকের মালিকানায় যে পরিমান জমি ছিলো তাতে সেসময় উৎপাদিত ফসল থেকে তিন বেলা পেট পুরে খাওয়া দাওয়া ছিলো দুঃস্বপ্নের ব্যাপার। সেই স্বাধীন বাংলাদেশে ওই একই পরিমান জমিতে দারিদ্র ও নিপিড়নের বিরুদ্ধে লড়াকু সাহসী বাঙালি কৃষকের ঘরে এখন আর খাবারের কোন অভাব নেই। শুধু তাই নয়, দেশে উৎপাদিত ফসল হতে বিদেশে রপ্তানিও করা হচ্ছে। এখন বাংলাদেশের প্রতিটি উৎসবে আমেজে মানুষের ঘরে ঘরে আনন্দ বিনোদনের পসরা জমে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই বাংলাদেশে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খ্যাত দেশরত্ন শেখ হাাসিনার হাতে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। আগামী ২০৪১ সাল নাগাদ তাঁর নেতেৃত্বে বাংলাদেশে একটি সুখি সমৃদ্ধ উন্নত আয়ের বাংলাদেশ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মহান বিজয় দিবসই দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, একটি শক্তিশালী ভিত বলে আমি মনে করি। যে মাটিতে ৩০ লক্ষেরও বেশী শহীদের রক্ত প্রবাহিত হয়েছে সেই মাটির মানুষ চিরদিন দরিদ্র থাকতে পারে না। যে মাটির মানুষ বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে তাদের শক্তি অশেষ। ষোল কোটি বাঙালির সেই অশেষ শক্তি ও অনুপ্রেরাণায় বাংলাদেশ যে সমস্ত খাতে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন করেছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তুলে ধরা হলো-

কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি: বিগত আট বছরে দেশে-বিদেশে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০১৬ সালে রেকর্ড পরিমান অর্থাৎ ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ৫ কোটি মানুষ নি¤্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যালোচনা থেকে জানা যায় যে, ২০১০-১১ থেকে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে দেশের ভেতরে নতুন সাড়ে ৪৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদায়ী বছরগুলোতে অর্থনীতির প্রধান সূচকে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবীদ কৌশিক বসু ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,“ বাংলাদেশ তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন সময় এসেছে উচ্চাভিলাষী হবার। আমি খুবই আশাবাদী। আমি বাংলাদেশের বাসিন্দাদের বলতে চাই, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। নিউ এশিয়ান টাইগার হবে বাংলাদেশ।” ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মাধাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬১০ মার্কি ডলারে এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে (নভেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত)।

ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে নতুন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, মূলধন ব্যায় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সব বিষয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো হয়েছে বলতে হবে। গত বছরে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগের হার ছিলো গত কয়েক বছরের মধ্যে বেশী। গত বছর ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুন সংযোগ দেওয়া দ্রুততর হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস (২০১৭) ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিষয়ে প্রতিবেদন মতে বাংলাদেশের অবস্থান (১৭৭ নম্বরে) সামান্য কমলেও ভালো অবস্থানে রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী ও যুবসমাজের কল্যাণ: স্বাধীন দেশের মানুষ ঘরহীন থাকবে এমন স্বপ্ন কোন মুক্তিকামী মানুষের থাকতে পারে না। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে একজন মানুষের ঘরহীন বসবাস পুরো জাতির জন্য লজ্জাকর। তাই বর্তমান সরকার আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের জন্য ঘরবাড়ি তৈরী করে দিচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় গ্রামীণ জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিগত অর্থ বছরে (২০১৬-২০১৭) ১,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। ২০২০ সাল নাগাদ দারিদ্রের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে নেওয়া বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০১১ সালে এক হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিলো। সেখান থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা করে তৃতীয়বারের মতো একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পরিধি আরো বিস্তৃত করে এখন দেশের ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলায় চার হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৯৫০টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। যুবসম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ৬৪ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম সম্প্রসারিত হতে যাচ্ছে। দরিদ্রপ্রবণ ৬৪ টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম ৫ম, ৬ষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে। এর আওতায় ২০১৭ সালের মে মাস থেকে বেকার শিক্ষিত যুবকদের ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থী ১শ’ টাকা করে ভাতা পাবেন। গ্রামীণ নারীদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ২৩৭ কোটি ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা: একটি দেশের মানুষের নিকট ‘স্বাধীনতা’ কথাটি অর্থবহ হয় তখনই যখন সেদেশের মানুুষ অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি লাভ করে। মহান বিজয় দিবসের অনুপ্রেরণায় জাতি আজ সেই শক্তির পূর্ণ অর্জনের পথে হেঁটে চলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমান সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরী ও দেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্নপ্রান্তে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে । ইতোমধ্যে সরকারী ও বে-সরকারীভাবে অনুমোদিত মোট ৩৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে অন্তত আরও ৩১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।

তথ্যপ্রযুক্তি খাত: তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন সেবা একটি বিকাশমান খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের তরুন প্রজন্ম বেশ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বর্তমানে ৮০০ এর উপরে নিবন্ধিত তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার কোম্পানী প্রতিষ্ঠার কাজ করছে এবং ৩০ হাজারের বেশী তরুন সংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশ ত্বরান্বিত করতে নানা ধরণের কর্মসূচি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখেছে। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের উপর জোর দিয়েছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ পরিচালিত লেভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট এন্ড গভরনেন্স, লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে দেশের তরুনদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও খাতে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিবছর ২ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরীর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ। প্রতিবছর দেশে ১০ হাজার কম্পিউটার সায়েন্স ¯্নাতক তৈরী হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের মধ্যে অনেকেই গুগল, ফেইসবুক বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। বর্তমানে নির্মাধীন হাইটেক পার্ক, আইটি ভিলেজ এবং সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কের কার্যক্রম শুরু হলে লক্ষাধিক তরুনের কর্মসংস্থান হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে একটি আইটি পার্ক উদ্বোধন করেছেন যেখানে হাজার হাজার বেকার তরুনের কর্মসংস্থান হবে। তাদের পরিবার একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা: আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিয়েছে এক অনন্য উদ্যোগ। যুদ্ধাহত ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হযেছে বীর নিবাস। ইতোমধ্যে সিলেটে ৬২ টি বীর নিবাস হস্তান্তর করা হয়েছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা বর্তমানে ১০,০০০ টাকা এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষে উন্নিত করা হয়েছে। জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ৩০,০০০ টাকা এবং বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১৫,০০০ টাকা, বীর উত্তমদের জন্য ২৫,০০০ টাকা, বীর বীক্রমদের জন্য ২০,০০০ টাকা হারে সম্মানী ভাতা চাুল করার প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় অনুৃমোদিত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত ও শহীদ পরিবারবর্গের মাসিক রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমান বৃদ্ধি করে পঙ্গুত্বের হার অনুযাযী মাসিক সর্বনি¤্ন ১৮,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৮,০০০ টাকা হারে ভাতা প্রদাণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পটিতে ২,৯৭১টি বাসস্থান নির্মাণের সংন্থান রাখা হয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্্র ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৯টি স্মৃতিস্তম্ভ^ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
শিক্ষা: বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির সংখ্যা ১০০ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়ে ২০.০৯ শতাংশে দাড়িয়েছে। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২২ হাজার ২৪৫ টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ে দপ্তরসমূহে ইন্টারনেট সংযোগসহ ৫৫টি পিটিআইতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হযেছে। ৫ হাজার ৪৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া, ইন্টারনেট. মডেম, ও সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। আইসিটি ডিভিশনের ততত্বাবধানে প্রতিটি জেলায় একটি করে মোট ৬৫৬টি ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবসহ দুই হাজার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘শেখ রাসেল ডিজিটার ল্যাব’ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় একটি অটিস্টিক একাডেমি স্থাপনের জন্য দুটি হোস্টেল নির্মাণ করা হবে যেখানে প্রতিটিতে ১০০ জন অটিস্টিক শিশুর আবাসনের ব্যবস্থা হবে।

শুধু তাই নয় মহান বিজয় দিবসের শক্তিতে ভর করে দেশে আজ সড়ক রেল ও বিমান যোগাযোগের যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কৃষি ও খাদ্যে নবতর বিপ্লব ঘটেছে। স্বাস্থ্য ও স্যাানিটেশ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১.৮ বছর। দেশের ৬৪ জেলা ও ৪২১ উপজেলার হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনে ১৬২৬৩ নম্বরে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান শিক্ষা ও এর চার্চা বেড়েছে বহুগুনে। সম্প্রতি পৃথিবীর সাড়া জাগানো রোবট মানবী সোফিয়ার বাংলাদেশে আগমন এই খাতের মানুষকে সমৃদ্ধ করেছে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি দেশের সাধারণ মানুষের শান্তিতে বসবাসের ক্ষেত্রে দারুন প্রসংসা পেয়েছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং পরিবেশ ও বন রক্ষায় বাংলাদেশে এখন অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক রোল রোল মডেল। স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলাদেশ চিরজীবি হোক। জয় বাংলা।

লেখক:

মো. আবদুল কুদ্দুস,

শিক্ষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর,

নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি রাজশাহী।

আরও খবর

  • দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সত্যায়ন
  • সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  • বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক বন্ধন ও আজকের বাঙালির জন্য পথনির্দেশ
  • ‘মেসে থাকি তো একটু সাশ্রয়ী হতেই হয়’
  • হৃদয়বিদারক শোকের দিন আজ
  • প্রিয় দেশবাসী…
  • বামরা শ্রমিক স্বার্থের কথা বলছে না কেন?
  • বন্ধুত্ব স্বার্থহীন ভালোবাসার এক সুদৃঢ় বন্ধন
  • অভিনন্দন নবনির্বাচিত নগর পিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন
  • সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আবু রায়হান এক তরুণ কিংবদন্তী
  • ‘জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তরিত করলে দেশ উন্নত হবে’
  • একজন নিজ জনপদ প্রেমিক ও উন্নয়নবিদ
  • প্রসঙ্গ কোটা সংস্কার আন্দোলন
  • খায়রুজ্জামান লিটন শুধু নেতা নয়, একজন চেইঞ্জ মেকার
  • প্রেরণা ও আস্থার ধ্রুবলোক তুমি


  • উপরে