দেশে সব নির্বাচনই হয়, শুধু ছাত্ররাই বঞ্চিত

প্রকাশিত: ১৫-০৯-২০১৭, সময়: ১৪:৩৯ |
খবর > মতামত
Share This

খুর্শিদ রাজীব : বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন এদেশের শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা, তাদের আবাসন সমস্যার সমাধান, প্রশাসনের সঙ্গে ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে দেন-দরবারই করেন না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের দুয়ার খুলে দেয়ার ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে জাতীয় জনগণ সংশ্লিষ্ট অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও ছাত্র সংসদ সব সময় সোচ্চার।
ছাত্র সংসদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাস সে সাক্ষ্যই বহন করে। ’৪৭ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যূত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব কয়টি গণ আন্দোলনে অবদান রেখেছে ছাত্ররা। ছাত্রদের নেতৃত্বে এসব আন্দোলনে সাফল্যও এসেছে। কিন্তু সেসব আজ ধূসর অতীত। গত ২৭ বছর ধরে এদেশের ছাত্র সংসদ নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ২৭ বছর ধরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
দেশের সব নির্বাচনই ঠিকঠাক ভাবে হচ্ছে, কোথাও কেউ বাধা দিচ্ছে না। এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। খুদে শিক্ষার্থীরা ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। এর মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র শিখতে শিখতে বেড়ে উঠছে। শুধু ছাত্রনেতা নির্বাচনটাই হচ্ছে না। গত ২৭ বছরে গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে, আওয়ামীলীগ-বিএনপি পালা করে ক্ষমতায় এসেছে, সেনা সমর্থিত সরকারও এসেছে, কিন্তু কোন আমলেই কোন সরকার ছাত্র সংসদগুলো কার্যকর করেনি। বিগত ২৭ বছর বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতন্ত্র শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি নিয়মিত রাকসু নির্বাচন হত তাহলে গত ২৭ বছরে এখান থেকেই ফজলে হোসেন বাদশা, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, রুহুল কবির রিজভীর মত জাতীয় পর্যায়ে ৫৪ নেতা বের হতেন! সারাদেশে ছাত্রসংসদ গুলো কার্যকর থাকলে কতো হাজার শিক্ষিত, যোগ্য জাতীয় পর্যায়ের নেতা বাংলাদেশ পেত! কেউ ভাবেন না।
ছাত্র সংসদ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ গুলোর কার্যক্রম অগণতান্ত্রিক পন্থায় চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন ক্ষেত্রেই আর শিক্ষার্থীদের আর অংশ গ্রহণ থাকছেনা। ফলত প্রশাসন এক তরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রশাসন সব অনৈতিক, অবৈধ ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারছে। নিরুপায় শিক্ষার্থীরা তা মানতে বাধ্য হচ্ছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলেও ছাত্রসংসদ বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছে কর্তৃপক্ষ যে ফি নেয় তারও কোন হদিস নেই। জবাবদিহীতারও কোন অবকাশ নেই।
বড় দূর্ভাগ্যের ব্যাপার হল, যাদের জন্য ছাত্র সংসদ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেই শিক্ষার্থীরাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সচেতন নয়। রাকসু, ডাকসু সহ দেশের সব ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কয়েকটি মাত্র রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন আন্দোলন করে যাচ্ছে, কিন্তু তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা খুব কম। শিক্ষার্থীরা না জাগলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবেই বা কেমনে?
প্রায়শই দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে রাস্তায় নামতে হয়, আন্দোলন করতে হয়। ন্যায্য অধিকার আদায়ে তখনই আন্দোলনে যেতে হয় যখন কর্র্র্র্র্তৃপক্ষ ঠিক ভাবে কাজ না করে বা কর্তৃপক্ষের জবাবদিহীতার জায়গাটা না থাকে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের যথাযথ জবাবদিহীতার জায়গা হল ছাত্র সংসদ। কারণ ছাত্র সংসদ ছাত্রদের প্রতিনিধি। ছাত্রদের ভালো-মন্দ, দাবি-দাওয়া নিয়ে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরাই কর্তৃপক্ষের কাছে দেন দরবার করেন। ব্যত্যয় হলে আন্দোলনে নামেন ছাত্রপ্রতিনিধিরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে এসব কাজ করেন ছাত্র প্রতিনিধিরা।
তাই দেখা যাচ্ছে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়াটা জরুরী হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জোর আন্দোলন হয়েছে, আন্দোলন এখনও চলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বাম রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করছে। জাতীয় নির্বাচনের মুখে এই আন্দোলনের হাওয়া দেশব্যাপী সব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বইতে শুরু করেছে। সময় এসেছে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের। এটাই মোক্ষম সময়। জোর আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে চাপে ফেলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।
আশার কথা হল, চলতি বছরের মে মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানও তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে আসার পর গণমাধ্যমে রাকসু নির্বাচন দেবার কথা বলেছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম বৃহত্তম ইউনিট রাবি শাখা ছাত্রলীগের নেতারাও রাকসু নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক। তাসত্ত্বেও রাবি উপাচার্য মুখে রাকসু নির্বাচনের কথা বললেও তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস হয়ে গেলে এখনও তিনি কার্যকরী পদক্ষেপ নেননি।
তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্র সংসদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। তাদের বুঝতে হবে এ আন্দোলন তাদের জন্যই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, অধিকার রক্ষার জন্যই ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরী। একযোগে দেশের সব শিক্ষার্থী যদি বলে ওঠে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন চাই। তাহলে সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য। শিক্ষার্থীদের গলার জোর বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী। এর প্রমাণ আমরা অতীতেও বিভিন্ন সময়ে পেয়েছি।
অবিলম্বে রাকসুসহ দেশের সকল ছাত্র সংসদে নির্বাচন চাই। দিতে হবে।

আরও খবর

  • পাবলিকের টাকাতেই চলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
  • সু চির বক্তব্য : হতাশার মাঝেও আশার আলো আছে কী?
  • গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা ॥ অজানা ইতিহাসের খোঁজে…
  • রোহিঙ্গা সংকট নিরসন কোন পথে
  • দেশে সব নির্বাচনই হয়, শুধু ছাত্ররাই বঞ্চিত
  • প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ও আমাদের প্রত্যাশা
  • গান গেয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন রাবির ‘জর্জ হ্যারিসন’রা
  • ৭৫ এর ১৫ আগস্টের নাটোর
  • শেখ ফজিলাতুন নেছা- আমার মা
  • যুব সম্প্রদায় : বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্মাতা
  • চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে
  • হলি আর্টিজান হামলার নেপথ্য কথা ও ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশ
  • মানুষের ভাল অভ্যাসগুলো অটুট থাকুক
  • পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরও সচেতনতা প্রয়োজন
  • প্রসঙ্গ : শিশু গ্রেফতার
  • উপরে