ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে

ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে

প্রকাশিত: ১৪-০২-২০১৭, সময়: ০১:৫৮ |
খবর > মতামত
Share This

সেলিম ভান্ডারী : ভালোলাগা ভালোবাসা মোদের জীবনে একই আশা, থাকবে না আর নৈরাশা করবো সবাই ভালোবাসা, ভালোবাসার স্মৃতি ভরা দিনটা যে আসবে কবে স্বপ্ন দেখি এক সাথে, ফেব্রুয়ারীর ১৪ তারিখে মিলবে সবাই মনের ইচ্ছামতে, ভালোবাসা কারে কয়? হৃদয় দিয়ে আনতে হয়, প্রেম দিয়ে সব মাতিয়ে তুলো ভালোবাসার দিনটাকে।
আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সারা দেশের ন্যায় আমাদের বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ভ্যলেন্টাইন-ডে। ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়’ বহু বছর আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই ভালোবাসার অর্থ খুঁজেছিলেন। কারণ, ভালোবাসার অর্থ যে গভীর দ্যোতনাময়।
১৪ ফেব্রুয়ারী শুধুমাত্র এই একটি দিন ভালোবাসার জন্য কেন? এ প্রশ্নের জবাবে বাংলদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার, সুরকার ও কন্ঠশিল্পী ডাঃ নূরুজ্জামান ভান্ডারীর বলেন, ‘ভালোবাসা একটি বিশেষ দিনের জন্য নয়, ভালোবাসা প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ, প্রতিমূহুর্তর জন্য। এই দিনটি শুধু তরুণ-তরুণীদের জন্য নির্ধারিত দিন নয়, সকল বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশ করার আনুষ্ঠানিক দিন আজ। তবে এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি। আজকের এ দিনটিকে নির্ধারিত ভালোবাসা দিবস হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষ’। ভালোবাসা হক মানুষের জন্য, দেশের জন্য। ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়–ক সবার মাঝে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস পালনের রীতি খুব বেশি দিনের নয়। মূলত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিবসটি ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার বেশি সৃষ্টি হয়েছে। বসন্তের প্রথম দিন গেল গতকাল, আজ ভালোবাসার দিন। এ দুটি দিনই সবার জন্যে আনন্দের, উৎসবের। শুধু তারুণ্যই নয়, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে শিশু, কিশোর, মধ্যবয়সীদের মধ্যে ছড়িড়ে পড়ে এর আবহ। সেই সাথে এই দিনটি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সকলে-সকলের প্রতি যেন আজীবন এ ভালোবাসা টিকে থাকে।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের রীতিটা মূলত ইউরোপীয় ঘরানার। আমাদের দেশে প্রায় দেড় দশক আগে এ দিবস পালনের সূচনা হয়। তবে বাঙালি সংস্কৃতিতে বসন্ত উৎসব সেই অনাদিকাল থেকেই যাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাচারীরা দোলযাত্রা, বাসন্তী পূজা, হোলি উৎসবে প্রণয়কে মুখ্য করে রেখেছিল, তরুণ-তরুণীর ভালোবাসাকে আপন করেছিল। আর এখন ভ্যালেন্টাইন ডে এ দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে রূপ পায় এক বিরাট উৎসবে। স্মৃতির পাতায় ভালোবাসার দিবস। ভালোবাসার গল্পটি শুরু হয়েছিল সেই ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে। রোমের চিকিৎসক তরুণ যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিল নগর জেলারের দুহিতা। পরে দুজনের মধ্যে মন দেয়া-নেয়া হয়। সেই থেকে জন্ম নিয়েছিল তাদের ভালবাসার অমরগাথা। ভালবাসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় ফেব্রুয়ারীর এই ১৪ তারিখে। তারপর এই ভালোবাসার স্বীকৃতি পেতে দুই শতাব্দী নীরবে-নির্ভৃতে পালন করতে হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে রোমের রাজা পপ জেলুসিয়াস এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। গ্রিক ও রোমান উপকথার মতই ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে আরো গল্প-কাহিনী ছড়িয়ে আছে ভুবনজুড়ে। কে এই ভ্যালেন্টাইন তাও রহস্যাবৃত।
ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া অনুসারে আমরা তিনজন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন বা ভ্যালেন্টিনাসের সন্ধান পাই। তারা সবাই ১৪ ফেব্রুয়ারীতে আত্মদান করেন। দেশে দেশে ভালোবাসা দিবস উনিশ শতকেই উত্তর আমেরিকায় ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হয় ব্রিটিশ অভিবাসীদের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে ভ্যালেন্টাইন কার্ড বিনিময় শুরু হয় ১৮৪৭ সালে ম্যাসাসুয়েটসের অরকেস্টারে। ইতিহাসবিদদের ভাষায়, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এই উৎসবের সূত্রপাত।
চীনে ভালোবাসা প্রকাশের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের আগে তারা বছরের দুই দিন পালন করতো ভালোবাসা দিবস। এখন তো চীনে ব্যাপক হারে দিবসটি পালিত হয়। পশ্চিমা ধাঁচে ১৪ ফেব্রুয়ারীই তারা ভালোবাসা দিবস পালন করে। ইউরোপের সব দেশেই মহাসমারোহে তরুণ-তরুণীরা এ দিবস পালন করে। মার্কিনিদের মধ্যে ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের হার বেশি। জরিপে দেখা গেছে, চার মার্কিনির মধ্যে তিনজনই দিবসটি পালন করে। আমেরিকায় প্রতিবছর এ দিনে ১৬ কোটি কার্ড, ১৩ কোটি গোলাপ বিনিময় হয়।
ভারতেও ভালোবাসা দিবস পালিত হয় উৎসবের আমেজে। তবে আমাদের দেশের মতো ভারতেও তরুণ-তরুণীরা এ দিবস পালন করে বেশি।

উপরে