সব ভূতই জ্বীন, তবে সব জ্বীন ভূত নয়

প্রকাশিত: ০৫-০৩-২০১৯, সময়: ১৬:১৭ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জ্বীনের অস্তিত্বের কথা কুরআনে এসেছে, একই সঙ্গে ভূতের অস্তিত্বের ব্যাপারটি কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আবার বিশ্বব্যাপী ভূত সম্পর্কে একটা ধারণাও মানুষের মনে রয়েছে। তাই জ্বীন ও ভূতের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা গেল-

জিন আরবী শব্দ। বাংলাতেও জ্বীনই বলা হয়। কিন্তু ভূত বাংলা শব্দ। এর আরবী হল ইফরীত, বহুবচনে আফারীত। (দেখুন : আল-মু’জামুল ওয়াফী, পৃষ্ঠা-৭০১)

কুরআনে ভূতের কথা এসেছে। সূরা আন-নামলের ৩৯ নং আয়াতে ইফরীত তথা ভূতের কথাটি এসেছে এভাবে :

قَالَ عِفْريتٌ مِنَ الْجِنِّ أَنَا آَتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ تَقُومَ مِنْ مَقَامِكَ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ

এক শক্তিশালী জ্বীন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বেই আমি তা এনে দেব। আমি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে শক্তিমান, বিশ্বস্ত। (সূরা নামল, আয়াত : ৩৯)

এ আয়াতে ইফরীতুম মিনাল জিন অর্থাৎ জ্বীনদের মধ্যে থেকে এক ইফরীত বা ভূত কথাটি এসেছে।

এমনিভাবে হাদীসেও ইফরীতুম মিনাল জ্বীন কথাটি এসেছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
إن عفريتا من الجن تفلت علي البارحة ليقطع علي الصلاة فأمكنني الله منه
“গত রাতে একটি শক্তিশালী জ্বীন আমার উপর চড়াও হতে চেয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল আমার নামাজ নষ্ট করা। আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে শক্তি দিলেন।” (বর্ণনায় : বুখারী, সালাত অধ্যায়)

তাফসীরবিদগণ বলেছেন, জিনদের মধ্যে যারা অবাধ্য, বেয়ারা, মাস্তান, দুষ্ট প্রকৃতির ও শক্তিশালী হয়ে থাকে তাদের ইফরীত তথা ‘ভূত’ বলা হয়। (আল মুফরাদাত ফী গারীবিল কুরআন)

ইফরীত শব্দের অর্থ বাংলাতে ভূত। ইফরীত বা ভূত, জ্বীন ছাড়া আর কিছু নয়। সব ভূতই জিন তবে সবজ্বীন ভূত নয়।

উপরে