ছোট বৃক্ষে বড় বিস্ময়

প্রকাশিত: ১৭-১১-২০১৯, সময়: ১৪:০৮ |
Share This

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি : কামিনি, পাকুর বাগানবিলাশ, তমাল, অর্জুন, বট, তেতুল, কৃষ্ণচূড়াসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ। প্রতিটি বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা দেখে সেগুলো অনেক বড় আকারের মনে হলেও আসলে সবগুলোই রয়েছে ছোট ছোট টবে। কিন্তু দেখতে চমৎকার। বনসাই করে বড় বড় গাছগুলোকে দেওয়া হয়েছে এমন ছোট আকার।

বড় গাছকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যত্ন করে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া বা ছোট করার নাম বনসাই। রাজশাহী কলেজ (প্রশাসনিক ভবন) চত্ত্বরে শনিবার শেষ হলো ২০ তম বনসাই প্রদর্শনী। রাজশাহী বনসাই সোসাইটির এই আয়োজনে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন দর্শনার্থীরা। গত ১৪ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলেছে ১৬ নভেম্বার, শনিবার পর্যন্ত।

প্রদর্শনীর সমাপনীর দিন শনিবারে প্রদর্শনী দেখতে আসা কলেজছাত্রী নিতু নাহারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো বনসাই দেখতে এসেছেন তিনি। বড় বড় প্রজাতির গাছগুলোকে এমন ছোট ছোট আকারে গড়ে তোলা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সহ-সভাপতি রেহানা চৌধুরী জানালেন, ২৫ প্রজাতির বনসাই রয়েছে এই প্রদর্শনীতে। সেগুলোর দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ পঁচাত্তর হাজার টাকা। অবশ্য প্রদর্শনীর সবগুলো বনসাই বিক্রির জন্য নয়। কিছু বিক্রির জন্য আর কিছু শুধুই দর্শনার্থীদের দেখার জন্য। দর্শনার্থীরা সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন।

বনসাই সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ মাহফুজ-ই-তৌহিদুল টুটু বলেন, মানুষের মাঝে বনসাই পরিচিত করার জন্য এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তাদের ধারাবাহিক আয়োজনে আগের চেয়ে এখন অনেক পরিচিতি পেয়েছে বনসাই। আরও যেন জনপ্রিয়তা বাড়ে, তার জন্য প্রতিবছর তারা বনসাই প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন।

টুটু বলেন, বনসাইয়ের একটা বাণিজ্যিক দিক আছে। আগের তুলনায় বাণিজ্যিক দিকটা অনেক ভালো হয়েছে। এখন যে কেউ বনসাই তৈরি করেই তার রুটি-রুজির ব্যবস্থা করতে পারেন। কেননা, বনসাই তৈরি করতে বেশি খরচ পড়ে না। মেটারিয়াল গাছ পেলে একটা বনসাই করতে ছয় মাস এবং চারাগাছ থেকে এক দু’বছর সময় লাগে।

তবে যে দামে বিক্রি করা যায় সেটা ভালোই। তবে এর পিছনে শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম এবং ধৈর্য্য লাগে বেশি। ধৈর্য্য ছাড়া বনসাই তৈরি করা যায় না।

বনসাই সোসাইটির সাধারন সম্পাদক সারোয়ার মুর্শেদ বলেন, এখন কার বাচ্চারা শুধু বই পড়ে আর ক্লাস করে। তারা কোনো গাছ চেনে না। বনসাইয়ের মাধ্যমে বিশাল গাছকে ক্ষুদ্র পরিসরে এনে তাদের চেনানো যায়।

বনসাই শিল্পীরা জানিয়েছেন, বিশ্বের নানা দেশে বনসাই অনেক দিন আগে থেকেই হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশে এর বয়স ২০ থেকে ২৩ বছর। তরুন প্রজন্ম এগিয়ে এলে এটা আরও এগিয়ে যাবে। বনসাইকে শিল্প হিসেবে ঘোষনা করলে এনিয়ে অনেকে আগ্রহী হবেন।

উপরে