ঠুটো দুই হাতের মধ্যেই কলম ঘুরছে প্রতিবন্ধী কারিমার

প্রকাশিত: 05-11-2019, সময়: 13:17 |
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু : শারীরিক উচ্চতা তার মাত্র আড়াই ফিট। দুই হাত ও দুই পায়ের আঙ্গুল হাত-পা এর সাথে লাগানো। ঠুটো পায়ের কারণে হাটতে পারেনা। আর আঙ্গুল না থাকায় হাত দিয়ে খেতেও পারেনা।

কিন্ত তাতে কি। ইচ্ছা আর মনে শক্তি যর্থেষ্ট। তার শারীরিক প্রতিবন্ধীগতা তাকে দবায়ে রাখতে পারেনি। পড়া লেখার প্রবল আগ্রহে তার দুই ঠুটো হাত দিয়ে লেখ্ াপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী কারিমা। চলতি জেএসসি পরীক্ষা তিনি ঠুটো দুই হাতে কলম ধরে লিখছেন।

কারিমা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আমনুরা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। চলতি জেএসসি পরীক্ষায় তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা সরকারী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভেনু শাখা কেন্দ্র বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের ২১ নম্বর কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে পরীক্ষায় দিচ্ছে।

কারিমা আমনুরা ধিনগর গ্রামের আবু সালামের কন্যা। তার বাবা একজন দিনমুজুর,মাতা আমেনা বেগম একজন গৃহিনি।

আমনুরা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুদরতি খোদা জানান,পড়া লেখার প্রবল ইচ্ছা শক্তি কারিমার। সে নিয়ম মত মায়ের কোলে চড়ে স্কুলে আসা যাওয়া করেন।
কারিমা বাবা একজন দিনমজুর। তার পরিবারে একাধিক প্রতিবন্ধী রয়েছে। তবে সবাই পড়া-লেখা করে। তাদের অভাবী সংসারে এমন একাধিক প্রতিবন্ধী থাকায় তাদের অনেক বেগ পেতে হয়। তবুও প্রতিবন্ধী মেয়েদের আগ্রহের লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা ছিল। সেখানে প্রতিবন্ধী কারিমাকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছিলেন কারিমা মা আমেনা বেগম।

কেন্দ্রে কথা হয় কারিমার মা আমেনা বেগমের সাথে, তিনি জানান,বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দুরত্ব দুই কিলোমিটার। প্রতিদিনই এক জন প্রতিবন্ধী মেয়েকে কোলে নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করেন তিনি। কারিমা এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। আমনুরা থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে মুণ্ডুমালা কেন্দ্রে॥ নিয়ে আসেন তিনি। তবে অটো অথবা বাসে করে আনতে হয়।

আমেনা বেগম আরো জানান,আমার পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিন মেয়েই জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিন মেয়ে প্রতিবন্ধী তারা সবাই লেখা পড়া করেন সবাই। অভাবি সংসারে তিন প্রতিবন্ধী মেয়েকে পড়া-শুনা করানো অনেক কষ্ট হয়ে যায়। আমাদের এমন কষ্টের সংসারে বিশেষ করে আমার তিন প্রতিবন্ধী মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ দিতে যদি দেশের কোন বিক্তবানেরা এগিয়ে আসলে প্রতিবন্ধীদের লেখা-পড়া আরো সহজ হতো।

মুণ্ডুমালা জেএসসির ভেনু কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী কেন্দ্র সচিব আলতাব হোসেন জানান,চলতি জেএসসি পরীক্ষার শুরু দিনেই কারিমা তার মায়ের কোলে এসে পরীক্ষা হলের ২১ নম্বর কক্ষে বসেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা কক্ষে পরীক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও কারিমা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বসেই পরীক্ষা দিতে আগ্রহী।

তিনি আরো জানান,কারিমা উচ্চতা একেবারে কম। তাকে তার মা পরীক্ষা শুরুর আগে এসে বেঙ্চে বসায় যান,আবার পরীক্ষা শেষে পুনোরাই তাকে কোলে নিয়ে বের হন। তার হাতের আঙ্গুল না থাকায় দুই হাতের এক সঙ্গে করে কলম ধরে লেখছেন।

Leave a comment

উপরে