পাখি ও রঙীন মাছের উদ্যোক্তা পঞ্চগড়ের আপেল

প্রকাশিত: ১৮-০৮-২০১৯, সময়: ১৩:৫৩ |
Share This

খুর্শিদ রাজীব : সারি সারি রঙীন মাছের একুরিয়াম, পাখির খাঁচা। বাড়ির আঙ্গিনায় ঘুরে বেড়াচ্ছে খরগোশ, টার্কি, মস্কোভি হাঁস, রঙীন মুরগীসহ নানা জাতের প্রাণী। এমনটাই দেখা মিলবে পঞ্চগড় শহরের ইসলামবাগ এলাকায় মাহফুজ জামান আপেলের বাড়িতে গেলে। হাজীদানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী নিজের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন একুরিয়াম, রঙীন মাছের পোনা ও নানা জাতের শৌখিন পাখি প্রজনন ও ব্যবসা কেন্দ্র। তার এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে শহরবাসীর। পাখি ও মাছের পোনা বিক্রি করেও হয়েছেন লাভবান। নিজের পড়াশোনার খরচের টাকা তুলেও বাড়তি থেকে যায় হাতে।

মাহফুজ জামান আপেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়ি জুড়ে নানা আকৃতি ও নকশার হরেক রকম একুরিয়াম। এসব একুরিয়াম তিনি নিজেই তৈরী করেছেন। এসব একুরিয়ামে ঝাঁক বেধে ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা প্রজাতির রঙীন মাছ। কোন কোনটাতে রয়েছে কচ্ছপ। এছাড়াও বাড়ির একদিকে থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা প্রজাতির পাখির খাঁচা। সারাদিন এসব পাখির কিচিরমিচির শব্দে বাড়ি সরগম থাকে।

তিনি জানান, তার এই শখের একুরিয়ামের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১২টি গাপ্পি প্রজাতির মাছ দিয়ে। এখন তার সংগ্রহে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৬০০ মাছ রয়েছে। তার সংগ্রহে রয়েছে সরটেইল, গোল্ড ফিশ, গাপ্পি, মলি, লাভ প্যারট, অস্কার, পালটি, এঞ্জেল ফিশ, কমেট গোল্ড, মিল্কি গোল্ড, কৈ কার্প, ব্ল্যাক মোর, বেলুন মলি প্রভৃতি মাছ। এদের মধ্যে গাপ্পি, মলি ও সরটেইল জাতের মাছ বাচ্চা দিয়েছে। এছাড়াও পাখির মধ্যে রয়েছে বাজ্রিকার, কোকাটেইল, অস্ট্রেলিয়ান ডাভ, টার্কি, মস্কোভি হাঁস, আসিল বা ফাইটার মুরগী, তিতির বা গিনিপার্ল, কবুতর প্রভৃতি।

মাছ ও পাখি পোষার শখ কী করে হলো জানতে চাইলে মাহফুজ জামান বলেন, প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় এক বন্ধুর বাড়িতে গিনিপিগ দেখে আমারও পোষার শখ হয়। এরপরে গিনিপিগ ও খরগোশ পোষা শুরু করি। পরে হাইস্কুলে পড়ার সময় কবুতর পোষা শুরু করি। এরপর ২০১৪ সালে ঢাকায় কোচিং করতে গিয়ে কাটাবন মার্কেটে অ্যাকুরিয়াম দেখে মাছের শখ চাপে। এভাবেই মাছের যাত্রা শুরু হয়।

তিনি বলেন, স্কুলে থাকতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার কবুতর বিক্রি করেছি। এখন চাহিদা মাফিক অ্যাকুরিয়াম বানিয়ে মাছ সরবরাহ করি। এসব করে যে আয় হয় তা দিয়ে আমার পড়াশোনার খরচ উঠে আসার পরও হাতে উদ্ধৃত থেকে যায়। শখের বশে শুরু করলেও এখন তা উপার্জনের উৎস্য হয়ে গেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আপেল বলেন, বর্তমান শহরাঞ্চলে মানুষ ঘরমুখী হয়ে যাচ্ছে। ঘরেই থাকতে পছন্দ করে। ঘরকে কিছুটা প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যেতে শখের বাগান করে, অ্যাকুরিয়াম আনে। তাই শখের এই পাখি ও রঙীন মাছের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এখন এই শখের উদ্যোগকে পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক রূপ দিতে চাই।

আপেল যখন ক্যাম্পাসে থাকেন তখন তার মাছের দেখাশোনা করেন তার বড় ভাই মাহবুব কামাল। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির রঙীন মাছ, পাখি সত্যি চোখের আনন্দ। এগুলোর দেখভাল করেও প্রশান্তি পাওয়া যায়। আপেল যখন শুরু করে অনেকেই নানা রকম মন্তব্য করেছিল, কিন্তু এখন তার এই কাজের প্রশংসা সবাই করে।

আপেলের এই উদ্যোগ দেখার জন্য প্রতিদিনই তার বাড়িতে প্রচুর মানুষ ভিড় করে। তারা বলেন, সত্যিই প্রশংসনীয় কাজ। এরকমভাবে যে একটা উদ্যোগে শখও পূরণ হয় এবং বাড়তি আয়ও করা যায় তা আপেল দেখিয়ে দিয়েছে। তার এই উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ^াস।#

উপরে