না খেয়ে ৪০ বছর বাঁচে যে প্রাণী!

প্রকাশিত: ২৬-০৬-২০১৯, সময়: ১৭:০২ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : পৃথিবী এমনই এক গ্রহ যেখানে অত্যাধিক গরম ও অসহনীয় শীত দু’টিই বিদ্যমান। তবে আমরা অনেকেই জানি, শীতল পরিবেশে বাস করা কোনো প্রাণীকে যদি উষ্ণ পরিবেশে রাখা হয় সেই প্রাণীর পক্ষে সেখানে বেঁচে থাকা খুবই কষ্টকর হয়ে যাবে। তবে পৃথিবীতে কি এমন কোন প্রাণী নেই যে কিনা একই সাথে অত্যাধিক গরম সহ্য করার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ঠাণ্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে? হ্যাঁ, উত্তরটি হবে এমন প্রাণী আছে।

আলোচিত এই প্রাণীটির নাম হচ্ছে টারডিগ্রেড। এ প্রাণীটির খোঁজ সর্বপ্রথম জার্মান প্রাণীবিজ্ঞানী জোহান অগাস্ট ১৭৭৩ সালে করেন। প্রাণীটির সহ্য ক্ষমতা সম্পর্কে জেনে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। এর আকার মাত্র শূণ্য দশমিক ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১ মি.লি. মিটার পর্যন্ত হয়। এই প্রাণীর রয়েছে ছোট ছোট আটটি পা এবং নিজস্ব পাচনতন্ত্র। পৃথিবীর অন্যান্য সব ছোট প্রাণীদের মতোই অতি সাধারণ মনে হচ্ছে তাই না তবে বিষয়টি এত সাধারন না। ক্ষুদ্র এ প্রাণী পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান অয়মিয়াকনে বাস করে খুবই স্বাচ্ছন্দের সাথে। শীতকালে অয়মিয়াকনের তাপমাত্রা থাকে প্রায় -৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সেখানে তারা বিনা প্রতিকূলতায় থাকতে পারে। আসলে এই তাপমাত্রা এই প্রাণীর জন্য কিছুই না।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই প্রাণীটি এর চেয়েও কম তাপমাত্রার পরিবেশে বাস করতে পারে। আমরা ছোটবেলা বই পুস্তকে পড়েছি যে -২৭৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস হচ্ছে পরম শূন্য তাপমাত্রা এবং এই তাপমাত্রায় অণুও তার গতি চলমান রাখতে পারেনা। এর চেয়ে মাত্র এক ডিগ্রী বেশি তাপমাত্রাতেও এই প্রাণীটি বেঁচে থাকতে পারে। এতো বেশি ঠান্ডা সহ্য করতে পারে মানে এই না যে এই প্রাণী অর্থাৎ টারডিগ্রেড শুধু নিম্ন তাপমাত্রাতেই বেঁচে থাকতে পারে। সাধারণত পানি ফুটে ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। কিন্তু টারডিগ্রেড ১৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে। সমুদ্রের সবচেয়ে গভীর স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চে পানির চাপ থাকে অনেক বেশি। এমনকি সেখানের অস্বাভাবিক চাপকেও এই প্রাণী সহজেই সহ্য করতে পারে।

শুধু তাই নয়, টারডিগ্রেড মানব শরীর থেকে ১০০গুণ বেশি আয়নাইজেসন রেডিয়েশন সহ্য করতে পারে। তবে এই প্রাণীর বড় আর চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত বিনা খাওয়া দাওয়ায় বাঁচতে পারে এটি। খাবার না খেয়ে এতো লম্বা সময় বেঁচে থাকার প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন ক্রিপ্টোবায়োসিস। এই প্রক্রিয়ায় এই প্রাণীটি নিজের শরীরের সব মেটাবলিজম প্রক্রিয়া বন্ধ করে নিজের শরীরকে ডিহাইড্রেট করে ফেলে। অর্থাৎ পানির পরিমান অনেক কম করে ফেলে। এই অবস্থায় এই প্রাণীটির শরীরে মাত্র ৩ শতাংশ পানি থাকে। এই প্রক্রিয়ার সময় এই প্রাণীর কোনো শক্তি বা খাদ্যের প্রয়োজন হয় না এবং এই পরিস্থিতিতে সে লম্বা হাইবারনেশনে যেতে পারে। পরিস্থিতি সুবিধার হলে প্রাণীটি আবার নিজের মেটাবলিজম প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে এবং খাবারের খোঁজ শুরু করে। উদ্ভিদ কোষের ফ্লুইড, ব্যাকটেরিয়া এবং এর থেকে ছোট আকারের প্রাণীই মূলত এর খাবার।

প্রশ্ন করে থাকবেন যে এতো অল্প তাপমাত্রায় এই প্রাণীটি কীভাবে বেঁচে থাকে। কারণ তাপমাত্রা অনেক কমে গেলে বরফ ক্রিস্টাল হয় যায়, প্রাণীর কোষ বন্ধ হয়ে মারা যায়। কিন্তু যেসকল প্রাণী পানিতে থাকে তারা নিজেদের শরীরে এন্টি ফ্রিজ লিকুইড বানিয়ে নেয়। যার জন্য বরফ জমে যাওয়ার জন্য যে তাপমাত্রা প্রয়োজন তা শুন্য ডিগ্রীর চেয়েও নিচে চলে যায়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, টারডিগ্রেড নামক প্রাণীটি বরফ থেকে পাওয়া ঠান্ডা তাপমাত্রা নিজেদের শরীরে এন্টি অক্সিডেন্ট বানিয়ে ঠিক করে নেয়। তবে ১৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এরপরও এতো বেশি তাপমাত্রায় এই প্রাণীটি কীভাবে টিকে থাকে বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নটির জবাব দিতে পারেননি। বিজ্ঞানীরা এখনো এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন।

উপরে