স্কুলের সব আনন্দ প্রতিবন্ধী নাহিদকে ঘিরেই

প্রকাশিত: ১৭-০৫-২০১৯, সময়: ১১:৪৮ |
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু : চলতি এসএসসি ফলাফল নিয়ে রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাঁদপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের আনন্দটা এবারে ভিন্ন রকমের। বিদ্যালয়টি থেকে নাহিদ হাসান একমাত্র শিক্ষার্থী যে এসএসসি পরীক্ষায় এবার স্কুল সেরা ফলাফল করেছে। নাহিদ হাসান বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী।

ওই বিদ্যালয় থেকে এবার ৭১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। এরমধ্যে ৬৩ জন বিভিন্ন গ্রেডে পাস করে। তবে বিদ্যালয়ে একমাত্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়েছে নাহিদ হাসান। তার এ সাফল্য শুধু বিদ্যালয়েই নয় আশেপাশের গ্রামগুলোতেও আলোচিত হয়েছে। স্বাভাবিক ছেলেদের সঙ্গেই সে পরীক্ষা দেয়ায় বিষয়টি এখনো কারো নজরে আসে সি। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রতিবন্ধীদের তালিকাতেও তার নাম নেই।

নাহিদ হাসান রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাঁদপুর দ্বিতয় উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হেনা কামরুজ্জামান বলেন, নাহিদ হাসান কানে শুনতে পায় না। কথা বলতে পারে না। জন্ম থেকেই তার এই অবস্থা। এ রকম একজন শিক্ষার্থীর উপযোগী শিক্ষা শ্রেণিকক্ষে তাকে দেয়া সম্ভব হয়নি। তার পরও ইশারা-ইঙ্গিতে যতটুকু পারা যায়, বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। প্র”ন্ড ইচ্ছাশক্তির জোরে ছেলেটি এত দূর আসতে পেরেছে।

প্রধান শিক্ষক আরো জানান,তার স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় চলতি বছর ৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করেছিল। এর মধ্যে ৬৩ জন বিভিন্ন গ্রেডে পাশ করেছে। দুইজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে একজন হলো প্রতিবন্ধী নাহিদ হাসান। এবারে নাহিদ হাসানের এক মাত্র বিদ্যালয়ের ভাল ফল করেছেন বলে সবাই মনে করছে।

লেখাপড়ার বিষয়ে নাহিদ ভিষণ আগ্রহী এক ছেলে। তাকে লিখে সবকিছু বোঝাতে হয়। লেখার মাধ্যেমে যদি কোনোকিছু তার বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে সে ইশারা করে। সে অনুযায়ি তাকে তা বুঝিয়ে দেয়া হয়।

তানোরের চাঁদপুর গ্রামের ইসরাফিল আলম ও নার্গিস আক্তার স্বপ্না দম্পতির দুই সস্তান। এর মধ্যে ছোট ছেলে নাহিদ হাসান বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী।

নাহিদের মা-নার্গিস আক্তার জানান, জন্মের পর থেকেই ছেলেটি প্রতিবন্ধী। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি তার প্রচণ্ড আকর্ষণ। এবার বিদ্যালয়ে সবার চেয়ে বলে ভাল ফল করছে। কিন্ত সে ভাল ফল করার পর আমাদের আরো চিন্তার কারণ হয়ে গেছে। কারণ প্রতিবন্ধী ছেলের উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত পড়াশুনা করার ইচ্ছা বেশি,আমাদের পরিবারের উপর্জনের একমাত্র ভরসা তার বাবা। সে অন্যে দিনমুজুরের কাজ করে সংসার চালায়। তার লেখাপড়া খলচ চালাতে পারবো বলে মনে হয়না।

উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আমিরুলল ইসলাম বলেন, সে বাক প্রতিবন্ধী সত্ত্বেও লেখাপড়ার করে জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলা কে এক গৌরব এনে দিয়েছে। সে যাতে লেখাপড়া লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে,বিশেষ করে এইচএসসি যে কোন কলেজে ভর্তি হলে আমি তার উপবৃত্তি প্রদানে সহযোগিতা করবো।

উপরে