--->

রক্তাক্ত একুশ

প্রকাশিত: ২১-০২-২০১৮, সময়: ১৫:৫১ |
Share This

একুশ এলেই মনে পড়ে যায়
রক্তাক্ত সেই দিনগুলির কথা
বাংলার সেই রক্তমাখা ইতিহাসের কথা।

তখন ১৯৫২ সাল
ছুটছিল হানাদার বাহিনী করে হন হন
শব্দ শুনে সবার মাথা যখন ঘুরছিল বন বন
তখন এলো কিছু দামাল ছেলের দল।

খোকা গিয়ে বলে মাকে, মা. মা শুনলাম ওরা নাকি কেড়ে নিবে
আমাদের মাতৃভাষা বাংলা
মা বলল, যা খোকা বুকের সবকুটু রক্ত দিয়ে হলেও
প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষাকে আগলা।

খোকার সাথে মায়ের দোয়া আর আছে বুকে অদম্য সাহস
খোকা বলল, ঠিক করবোই করবো ওই অমানুষদের হুস
একদিন নামলো খোকা রাজপথে, স্লোগান দিয়ে বলল,
মাতৃভাষা বাংলা চাই, বাংলা চাই, বাংলা চাই।

কিন্তু দিলনা হানাদার বাহিনীরা তাতে কোনো সায়
ক্ষণে ক্ষণে বাড়লো দামাল ছেলেদের জোর
ছুড়লো গুলি হানাদার বাহিনী
রফিক, শফিক, জব্বারের বুকের রক্তে
মূহূর্তেই লাল মাটি হয়ে গেল ধূসর।

চারদিক থমথমে কিন্তু দেশ তখনও উত্তাল
বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে দামাল ছেলেরা হলো মাতাল
আরও জোরদার হলো মাতৃভাষা আদায়ের শোরগোল
কিছুতেই পারছে না থামাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী
দেশমাতৃকার দামাল ছেলেদের দাবি আদায়ের হট্টগোল।

বাংলার মানুষ কখনো চাইনি কখনো কোনো বিদেশীর দান
শুধু চেয়েছিল অধিকার তাইতো লাখ কোটি প্রাণের বিনিময়ে
বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে
অবশেষে রক্ষা করলো বাংলা ভাষার মান।

তোমাদের জন্য আজ গাই গান, বাংলায় করি নৃত্য তাধিন ধিন
কোনো দিনও শোধ করতে পারবোনা আমরা তোমাদের সেই ঋণ
তাইতো রফিক, শফিক, বরকত শ্রদ্ধাভরে মনে রাখি তোমাদের নাম
হৃদয়ের গহিন থেকে বাংলার মানুষ তোমাদের জানাই
অজ¯্র সালাম।

আজও একুশ এলেই ভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে
গাই সবাই রক্তাক্ত একুশের গান
একুশ এলেই পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ মিনারে
সবাই জানাই তোমাদের সম্মান।

দৃঢ় প্রতিজ্ঞা আমরাও ভুলবোনা একুশ
কথা দিলাম, রাখবোই রাখবো ধরে
এই বাংলার মান আর তোমাদের সম্মান।

লেখক: জান্নাতুল মাওয়া সিফা

উপরে