দুর্গাপুরে ১২ শিক্ষকের ১১ শিক্ষার্থী, সবাই ফেল

প্রকাশিত: 30-07-2017, সময়: 23:47 |
Share This

রবিউল ইসলাম রবি, দুর্গাপুর: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পুরান তাহেরপুর বিএম কারিগরি কলেজ। দুর থেকে বোঝার উপায় নেই কলেজটির অবস্থান। ঝোপঝাড় আর কলা গাছের আড়ালে হারিয়ে গেছে কলেজের ভবন। কাছে গেলেই শুধু চোখে পড়ে সাইনবোর্ড সাদৃর্শ কলেজের একটি দেয়াল। এই কলেজ থেকেই ১১ জন শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এই ১১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ছিলেন ১২ জন শিক্ষক। এদের মধ্যে ৮ জন ছাত্র ও ৩ জন ছাত্রী। কিন্তু ফলাফল ঘোষনার পর দেখা যায় শিক্ষার্থীরা কেউ পাশ করেনি। এর কারণ হিসাবে এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের অদক্ষতাকে দায়ি করেছেন অভিভাবক মহল এবং স্থানীয়রা।
অভিভাবক মহল এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৪ সাল থেকে অনিয়ম-দূর্নীতির মধ্য দিয়েই ওই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। বছরের ১২ মাসে এই কলেজ ১২ দিনও খোলা রাখা হয় না। আর এমন প্রতিষ্ঠানে কেনই বা ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে। তারপরেও সার্টিফিকেট অর্জনে শিক্ষকদের শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়ায় কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে।
সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, ঝোপঝাড়ে টিনশেড কলেজ ভবনটি ঢেকে গেছে। ভবনের চারপাশ ও মাঠে কলা গাছ লাগিয়ে কলা বাগানে পরিণত করা হয়েছে। ফাঁকা কিছু জায়গা গরু-ছাগলের চারণ ভুমিতে পরিণত হয়েছে। কাছে গেলে মনে হবে কলেজ ভবনটি গ্রীক সা¤্রাজ্যের পুরাতন কোন স্থাপনা। তবে সাইনবোর্ড সাদৃশ্য ভবনের দেয়ালটি দেখে বোঝা যায় সেখানে কোন এক সময় কলেজটি ছিল। কলেজের নিজস্ব জমি আছে ৪-৫ বিঘার মতো। ওই জমি গুলোও দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা। দরজা-জানালা বিহীন ওই কলেজ ভবনটি রাত হলেই মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হয় এমন প্রশ্ন অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
জানা গেছে, গত এইএসসি সমমান পরীক্ষায় ওই কলেজ থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাশ করেননি। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা কলেজটিতে ভর্তি হলেও শিক্ষক না থাকায় কলেজটিতে কোন পাঠদান হয়না। শুধু পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বাড়তি টাকা নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ একাই দৌড়ঝাপ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও কারিগরী শিক্ষা বোর্ডে। ওই কলেজের আগের বছর গুলোর ফলাফলও সন্তোষজনক নয় বলে জানা যায়। অপরদিকে, ওই কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ আঁকড়ে ধরে আছেন হুদা সর্দার নামের এক ব্যাক্তি। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে কলেজের সভাপতি হিসেবে আছেন বলেও জানা গেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের কাছে ফলাফল বিপর্যয়ের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছর দু’একজন করে শিক্ষার্থী পাশ করে। কিন্তু এবার কিভাবে সবাই ফেল করলো বুঝলাম না। কলেজে পাঠদান না হওয়ার কারন জানতে চাইলে অধ্যক্ষ রেজাউল বলেন, যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছিলেন দীর্ঘ দিন বেতন না হওয়ায় তারাও আর কলেজে আসেন না। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও কলেজে আসেন না। এ কারনে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তাহলে এ অবস্থায় কিভাবে কলেজের কার্যক্রম চলছে? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি অধ্যক্ষ রেজাউল।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুদা সর্দার জানান, কলেজে মোট শিক্ষক রয়েছে ১২ জন। তবে শিক্ষার্থী কতজন আছে তা তিনি বলতে পারেননি। এবারের এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সবাই ফেল করেছে এই খবরটিও তার জানা নাই বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, কলেজটি কিভাবে চলে তার কিছুই তাকে জানানো হয়না। অধ্যক্ষ একাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। শিক্ষক নিয়োগের টাকা পয়সা লেনদেন সহ সব কিছুর হিসাব নিকাশ একাই করে থাকেন অধ্যক্ষ রেজাউল। কলেজের এমন দুর্দশার জন্য কলেজ অধ্যক্ষ রেজাউলই দায়ী বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার রাহেদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উপরে