কার্টুনে ভায়োলেন্স শিশুমনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে

প্রকাশিত: ৩০-১২-২০১৬, সময়: ১৪:৪৩ |
Share This

পদ্মা টাইমস ডেস্ক : পান ভীষণ টেকস্যাভি। কম্পিউটার থেকে স্মার্ট ফোন— সবই তার নখদর্পণে। ওদিকে ডোরেমন ছাড়া আবার ঋতশ্রীর মুখে খাবারই ওঠে না। পাশের ফ্ল্যাটের পিকুর দুষ্টুমি থামাতে পারে একমাত্র টিভি চ্যানেল। পিকুর মা তাই ছেলেকে শান্ত রাখতে টিভির সামনেই বসিয়ে রাখেন সারাদিন। সেই ফাঁকে কাজও সেরে ফেলেন বেশ নিশ্চিন্তে। এই ছবিই এখন সর্বত্র। নিস্তার পেতে মায়েরা আজকাল ছোটদের অবসরকে বেঁধে দিচ্ছেন টিভি, কম্পিউটার আর স্মার্ট ফোনের সঙ্গে। কিন্তু জানেন কি, নিজের অজান্তেই আপনার খুদেটার কত বড় ক্ষতি করছেন! টিভি কার্টুন, ভিডিও গেমস ও স্মার্ট ফোন ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলছে ছোটদের ওপর, এর থেকে বাঁচার উপায়টাই বা কী।
বিকাশে বাধা: চেনা গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে আরও পাঁচটা বাচ্চার সঙ্গে খেলাধুলায় যে শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ হয়, তা বাড়িতে বসে টিভি দেখে হয় না। অন্য দিকে আজকের নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে একটিমাত্র সন্তান থাকার ফলে সে মনে মনে ভেবে নেয়, সব বিষয়ে সে জয়ী। এমন ধারণা ছোটদের অনেক ক্ষতি করে। তাকে আরও পাঁচজনের মধ্যে ছেড়ে হারতে শেখাতে হবে। তবেই তার মানসিক দৃঢ়তা এবং লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়বে। এ ছাড়াও বাড়ির বাইরে খোলা মাঠে বেরিয়ে বাচ্চারা যে তাজা বাতাস পায়, সেটা বাড়িতে পাওয়া সম্ভব নয়।
মনোনিবেশের ঘাটতি: হাঁ করে টিভির সামনে বসে থাকতে মনোনিবেশের দরকার হয় না। এর ফলে ছোটরা মানসিক এবং শারীরিক— দু’ভাবেই ভীষণ কুঁড়ে হয়ে যায়। তবে যে কোনও কাজে অংশ নেওয়া বা বই পড়া ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে ছোটদের মনোনিবেশ তৈরি হয়।
টিভি ভায়োলেন্স: নিজেদের কাজ সহজ করতে মায়েরা টিভি বা ফোন দিয়ে বসিয়ে রাখেন বাচ্চাকে। তবে খুদেটি টিভিতে ঠিক কী দেখছে, সেটা লক্ষ্য রাখেন না। কার্টুনে ভায়োলেন্স বা বিভিন্ন ক্রাইম সিরিজগুলো ছোটদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ভায়োলেন্সে তারা এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে বাস্তবে কোনও ঘটনাই তাকে আর বিচলিত করে না। এমনকি কখনও কখনও তারা টিভির চরিত্রগুলো নিজেদের মধ্যে রপ্ত করে সেই চরিত্রের মতো আচরণ করে। কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন অ্যাগ্রেসিভ অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে টিভির খবরে আসার প্রবণতা তৈরি হয়।
আতঙ্ক সৃষ্টি: সারাদিন বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা দেখতে দেখতে ছোটরা ভয় পেয়ে যায়, এমনকি বাবা মা–কে রাস্তায় বেরোতে দেয় না। তারা ভাবে, বাইরে বেরোলেই বোধহয় তার মা-বাবা আর ফিরবে না। হয়ত কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যাবে!
এ ছাড়াও সারাদিন বাড়ি বসে টিভি, স্মার্টফোন আর কম্পিউটার অ্যাকসেস করার ফলে পড়াশোনার ক্ষতি, ওবেসিটি, চোখখারাপ ইত্যাদি নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। খুদেদের এ ধরনের নানা সমস্যার জন্য কিন্তু আখেরে তার বাবা-মায়েরাই দায়ী। কাজেই সবার আগে বাবা-মায়েদের সতর্ক হতে হবে। ছোটদের সামনে তাদের অতিরিক্ত প্রশংসা না করাই ভাল। এতে তারা ওভার কনফিডেন্ট হয়ে পড়বে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টেকস্যাভি হলেই নজর দিন, কারণ ছোটরা এর অপব্যবহার করতে পারে। আরও মনে রাখবেন, খুদেদের জীবনযাপনে একটা মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা মানেই কিন্তু তাদের সঠিক দেখভাল করা নয়। কারণ আপনার ছেলেমেয়েরা কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ইনভেস্টমেন্ট পলিসি নয় যে আপনি মোটা টাকা ইনভেস্ট করলেই ভাল মুনাফা পাবেন। তার সঙ্গে সময় কাটান। জোর করে নাচ, গান, আঁকার ক্লাস চাপিয়ে দেবেন না, সে ঠিক কী চাইছে, কোনটা তার পছন্দ— সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। শৈশব নিয়ন্ত্রণ করবেন না, তাকে স্বাভাবিক পথে বেড়ে উঠতে দিন।

উপরে