বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সৌদি ফেরত নারী

বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সৌদি ফেরত নারী

প্রকাশিত: ০২-১২-২০১৯, সময়: ১৯:০৬ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিয়ের ৭ মাসের মাথায় স্থানীয় আদম ব্যাপারী মোস্তফা কামালের প্রলোভনে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পাড়ি জমান ২০ বছর বয়সী আছমা (ছদ্মনাম)। তখন তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা বলা হলেও ৪ লাখ টাকায় যৌনকমী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

যৌনকর্মে রাজি না হলে তার ওপর চালানো হত নির্যাতন। একটি অফিসে রেখে প্রতিদিন কয়েকজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করত। এমনকি জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে বুক, স্পর্শকাতর জায়গা ওরা পুড়িয়ে দেয়। তার দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হাত-পা ও উরুতে জখম করে দেয়। দলবেঁধে ৪/৫ জন মিলে ধর্ষণ করত, তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম তিনি।

গত ২৬ নভেম্বর দেশে ফিরে এমন বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সেই তরুণী। ওই তরুণীর বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৯ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নে।

জানা গেছে, নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মূর্ছা যান ওই তরুণী। তখন তাকে শ্রীমঙ্গল মুক্তি মেডিকেয়ারে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা অসামপ্ত রেখেই রোববারই তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই হাসপাতালের প্রধান সেবিকা দীপ্তি দত্ত গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েটার যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষতগুলো সারতে সময় লাগবে।

নির্যাতনের ফলে ওই তরুণী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে হাসপাতলের একজন চিকিৎসক বলেন, মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আবল তাবল বকছে। দ্রুত তাকে মানসিক চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।

এখনও অনেক বিপদগ্রস্ত নারী সৌদি আরবে রয়ে গেছেন জানিয়ে তাদের উদ্ধার করার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানান ওই তরুণী। সেই সঙ্গে ওই চক্রের হোতাদের শাস্তি দাবি করেন।

ওই নারীর স্বামী জানান, বাঁশের কাজ করে অভাব অনটনে কোনো মতে তাদের সংসার চলছিল। আদম ব্যাপারী মোস্তফা তখন তার স্ত্রীকে বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তাতে প্রথমে রাজি না হলে পরে অন্য দালাল দিয়ে প্রচুর টাকা আয়ের লোভ দেখায়।

বলা হয়, মোস্তফা নিজের মেয়ে পরিচয়ে বিদেশে পাঠাবে, সেখানে সে যত্নে থাকবে, পাসপোর্ট-ভিসা সব করে দেওয়া হবে, কোনো টাকা লাগবে না। এতসব প্রলোভবে রাজি হয়ে যান ওই তরুণী আর তার স্বামী।

বিদেশ যাওয়ার পরপরই মেয়েটির ওপর শাররীক নির্যাতন শুরু হয় জানিয়ে তার স্বামী বলেন, প্রথম কয়েকদিন যোগাযোগ করলেও পরে আর তার স্ত্রী যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে এক সৌদি প্রবাসী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আমার স্ত্রীকে নির্যাতনের খবর দেয়। সঙ্গে নির্যাতনের ছবি আর ভিডিও পাঠায়। তারপর সরকারের সহায়তায় গত ২৬ নভেম্বর দেশে ফেরিয়ে আনা হয় তাকে।

এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী ২৫ বছরের কম এবং ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের বিদেশে পাঠানোর কথা নয়। তবে কখনও ১৪ বছরের শিশু, কখনও ৬৫ বছর বয়সীদেরও পাঠানোয় তথ্য থাকায় সম্প্রতি এসব অনিয়মে জড়িত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

Leave a comment

উপরে