ধেয়ে আসছে বুলবুল

ধেয়ে আসছে বুলবুল

প্রকাশিত: ০৮-১১-২০১৯, সময়: ২১:৪৫ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে দেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তদসংলগ্ন এলাকায় ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে দেশের প্রধান নৌ-বন্দর চট্টগ্রামে জারি করা হয়েছে ৬ নম্বর সতর্কতা সংকেত।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবুল কালাম মল্লিক এ সতর্কতা জারি করেন। এর আগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ক্রমেই শক্তি সঞ্চার করে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুরুর দিকে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার। যা শুক্রবার দুপুর থেকে ক্রমশই শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়া ‘বুলবুল’ এখনই উপকূলে আঘাত হানলে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে বহু সংখ্যক ঘরবাড়ি। কেননা, এরইমধ্যে এর গতিবেগ বেড়ে হয়েছে ১৩০ কিলোমিটার।

একে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় চট্টগ্রামে ৪৭৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

অপরদিকে, ৬ নম্বর সতর্কসংকেত দেয়ার পর বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানামা। জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার জন্য উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়াও সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে ২৮৪টি মেডিকেল টিম। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপথে নৌ-চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

মূলত, গত অক্টোবরের শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় ‘মাতমো’ ভিয়েতনাম হয়ে স্থলভাগে উঠে আসে। সেই ঘূর্ণিঝড়েরই অবশিষ্টাংশ ইন্দোনেশিয়া পাড়ি দিয়ে ভারত মহাসাগরে এসে আবার রূপ নেয় নিম্নচাপে। বারবার দিক বদল করে নিম্নচাপটি আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এসে বুধবার রাতে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। তখনই এর নাম দেয়া হয় ‘বুলবুল’।

Leave a comment

উপরে