থামছেই না শিশু তুবার কান্না

থামছেই না শিশু তুবার কান্না

প্রকাশিত: ২২-০৭-২০১৯, সময়: ১৩:২৮ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গুজবের গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর (৪০) শিশু কন্যা তুবার (৪) কান্না যেন থামছেই না। মায়ের কথা মনে করেই বারবার কান্না করছে সে।

তুবা জানে না তার মা কোথায়? মা ফিরে আসার অপেক্ষায় গত তিনদিন ধরে এখনও সে বসে আছে! কিন্তু রাত পেরিয়ে দিন এলেও মা আসেনি দেখে- ঘুম থেকে উঠেই ফের কাঁদছে। কেউ জিজ্ঞাসা করলেই বলছে, ‘মা ড্রেস আনতে নিচে গেছে’।

কিন্তু মা তো আসছে না, তার কান্নাও থামছে না। অবুঝ শিশুটিকে সান্ত্বনা দেবার ভাষা খোঁজে পাচ্ছে না কেউ। তার কান্নায় শোক ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের মানুষজনের মাঝেও। শোকের মাতম চলছে নিহত তাসলিমা রেনুর স্বজনদের মধ্যেও।

তাসলিমার আত্মীয় নূরজাহান বেগম বলেন, ছোট্ট শিশুর কান্নায় আমরা আর সইতে পারছি না। সে তার নানি ও খালাদের সঙ্গে থাকবে। তবে ভবিষ্যতে কী হয় আল্লাহ-ই ভালো জানেন!

রেনুরা একভাই ও পাঁচবোন। তিনি ছিলেন সবার ছোট। পড়ালেখা শেষ করে ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছেন। টিউশনিও করাতেন। পারিবারিক কলহের কারণে বছর দুয়েক আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে।

বিচ্ছেদের পর ছেলে তাসফিক আল মাহী (১১) বাবার সঙ্গেই থাকছে। আর মেয়ে তাসলিমা তুবাকে (৪) নিয়ে তিনি থাকতেন মহাখালীতে।

মা আসবে এখনো অপেক্ষায় শিশুকিছু ঘটনা ভাষা হারিয়ে দেয় 😢😢😢ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত রেনু বেগমের মেয়ে তুবা অপেক্ষা করসিলো মায়ের জন্য,তুবা, আম্মু কোথায় গেছে? নিচে গেছেকি জন্যে গেছে? ড্রেস আনতে গেছে।এই ড্রেসের অপেক্ষায় কতটা যুগ এভাবে কাটাতে হবে কেউ জানেন কী! তুবার হয়তো জানা হয়ে গেছে মা আর ফিরবেনা, সদা হাসিমুখে থাকা মেয়েটি মা হারানোর কষ্টে ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠসিলো বারবার, 😢ছোট্ট নিস্পাপ এতিম তুবার এই অভিশাপ থেকে আমরা কেউ বাদ যাবোনা! সমাজের এই হায়েনা গুলোর হাতে একজন মায়ের এমন মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। অভিশপ্ত এই জানোয়ার গুলোর মৃত্যুও যেন এভাবে হয়।মানুষ তুই মানহুষ হবি কবে…💔##উন্নত দেশে ব্রিজ তৈরি করতে রড, সিমেন্ট লাগে আর আমাদের দেশে মানুষের মাথা লাগে!!! ঐ শুয়ারদের ধরেও যদি এভাবে পিঠিয়ে মারা হয়, তারপরেও কি বাচ্চাটার মুখের দিকে থাকানো যাবে?? এটা যদি আমার আপনার বেলায় হয়, তখন কি হবে??

Posted by Siddikur Rahman on Sunday, July 21, 2019

স্বজনেরা জানান, আগামী বছরের জানুয়ারিতে বড়ভাই আলী আজগরের কাছে আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল রেনুর। কিন্তু একেবারে পরপারেই চলে গেলেন তিনি। নির্মম মৃত্যু তাকে কেড়ে নিল না ফেরার দেশে।

গত ২০ জুলাই সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে রোববার (২১ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাসলিমা রেনুকে দাফন করা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন তার জানাজায় অংশ নেন। গুজব ছড়িয়ে এই নিরীহ নারীকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

 

উপরে