ছেলেধরা গুজবে নারীকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল

ছেলেধরা গুজবে নারীকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: ২২-০৭-২০১৯, সময়: ১২:১৬ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাজধানীর ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। শনিবার (২০ জুলাই ) সকালে উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তি করার জন্য স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েছেলেন তিনি। আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

রেনুকে পিটিয়ে হত্যার নৃশংস ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, তাসলিমা বেগম রেনুর এক ভাই ও পাঁচ বোন। মাস্টার্স শেষ করা রেনু সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রাইভেট পড়াতেন।

পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ছেলে বাবার সঙ্গে থাকে। আর মেয়ে মায়ের কাছে থাকতো। লক্ষ্মীপুর শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে নিহত রেনুর গ্রামের বাড়ি রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামে। সে মৃত আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

তাসলিমা বেগম রেনুকে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে রোববার রাতে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

মা আসবে এখনো অপেক্ষায় শিশুকিছু ঘটনা ভাষা হারিয়ে দেয় 😢😢😢ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত রেনু বেগমের মেয়ে তুবা অপেক্ষা করসিলো মায়ের জন্য,তুবা, আম্মু কোথায় গেছে? নিচে গেছেকি জন্যে গেছে? ড্রেস আনতে গেছে।এই ড্রেসের অপেক্ষায় কতটা যুগ এভাবে কাটাতে হবে কেউ জানেন কী! তুবার হয়তো জানা হয়ে গেছে মা আর ফিরবেনা, সদা হাসিমুখে থাকা মেয়েটি মা হারানোর কষ্টে ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠসিলো বারবার, 😢ছোট্ট নিস্পাপ এতিম তুবার এই অভিশাপ থেকে আমরা কেউ বাদ যাবোনা! সমাজের এই হায়েনা গুলোর হাতে একজন মায়ের এমন মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। অভিশপ্ত এই জানোয়ার গুলোর মৃত্যুও যেন এভাবে হয়।মানুষ তুই মানহুষ হবি কবে…💔##উন্নত দেশে ব্রিজ তৈরি করতে রড, সিমেন্ট লাগে আর আমাদের দেশে মানুষের মাথা লাগে!!! ঐ শুয়ারদের ধরেও যদি এভাবে পিঠিয়ে মারা হয়, তারপরেও কি বাচ্চাটার মুখের দিকে থাকানো যাবে?? এটা যদি আমার আপনার বেলায় হয়, তখন কি হবে??

Posted by Siddikur Rahman on Sunday, July 21, 2019

আটককৃতরা হলো, জাফর, বাপ্পী ও শাহীন। বাড্ডা এলাকার আশপাশ থেকেই তাদের আটক করা হয়।

রফিকুল ইসলাম বলেন, রেনুকে পেটানোর ঘটনায় মূল আসামি হিসেবে হৃদয় নামে একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গত শনিবার সকালে উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে রেনু নামে ওই নারীকে পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালে নিহতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাগিনা ও বোন রেহানা।

নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের পর রেনু কিছুটা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।’

এ ঘটনায় শনিবার বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নাসির উদ্দিন।

মামলায় বলা হয়েছে, অতর্কিতভাবে ওই নারীকে স্কুলের অভিভাবক, উৎসুক জনতাসহ অনেকে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত।

একবার ভাবুন আজ তার ছোট বাচ্চাটাকে কে দেখবে ?😭 #এই_মহিলাতার_বাচ্চার_জন্য_স্কুলে গেছিলেন, #তার_কি_অন্যায়_ছিল? রাজধানির বাড্ডায় ছেলেধরা সন্ধেহে নিরপরাধ এই মহিলাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে,এরা কি মানুষ?বিচারের দাবি করছি,ভিডিও ফুটেজ দেখে অন্যায় কারিদের সনাক্ত করে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কল্লা কাটা বলে যারা গুজব ছড়ায় তারাই এ জন্য দায়ী,তাদেরো শাস্তি হওয়া দরকার, কল্লা কাটা বলতে আসলে কিছু নাই,এগুলা গুজব,কিছু পাসন্ড মানুষ গলাকেটে মানুষ হত্যা করেছে তাই বলে সবাইকে এরকম ভাবা ঠিক না,যে লোকটা নেত্রকোনায় শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করছিলো আসলে সে কল্লাকাটা নয়,সে একজন মানুষিক রুগি ছিল নেসাগ্রস্থ,গুজব সুনে সুনে সে হত্যা করেছে,সে একই এলাকার বাসিন্দা ছিল। যাচাই করুন

Posted by অবুস ভালোবাসা on Sunday, July 21, 2019

উপরে