আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৪-০৩-২০১৯, সময়: ১৪:১৩ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে গিয়ে ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখানে একবার এসেছিলাম, সেটা ৫৬ বা ৫৭ সালে। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাসহ সবাই এসেছিলেন। দীর্ঘ সময় এখানে ছিলেন। এই স্কুলটা, হাসপাতাল সব ঘুরে ঘুরে দেখেছেন তারা। খুব ছায়ার মতো আমার এইটুকু স্মৃতি মনে আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে আছে এই জায়গা এতো সুন্দর দেখে বাবা বলেছিলেন আমাকে এই কুমুদিনী স্কুলে ভর্তি করে দেবেন। তবে হোস্টেলে রেখে পড়ানো আমার মায়ের খুব একটা মনোপুত ছিল না। তাছাড়া এরপর ৫৮ সালে মার্শাল ল হয়। আমার বাবাকে জেলে নিয়ে যায়। আমাদের পড়াশোনা এমনিতেই বন্ধ। পরে আর আসা হয়নি। তবে ৮১ সালে দেশে ফেরার পর আমি অনেকবারই এসেছি।’

মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক প্রদান এবং জেলার ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে টাঙ্গাইলে যান প্রধানমন্ত্রী। স্বর্ণপদক প্রদানের পর তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। কুমুদিনী পরিবার ২০১৫ সালে রণদা প্রসাদ স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আজ সত্যি নিজেকে ধন্য মনে করছি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল, মা বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল, সেই একাত্তর সালেই ৭ মে হানাদাররা নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। তাদের পরিবার আর কখনোই তাদের ফিরে পায়নি। স্বজন হারানোর বেদনা যে কত কঠিন, এই বেদনা যে কত যন্ত্রণাদায়ক সেটা আমরা বুঝতে পারি।’

দারবীর রণদা প্রসাদ সাহা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি এক হাতে অর্থ উপার্জন করেতেন, আরেক হাতে বিলিয়ে দিতেন। মেয়েদের শিক্ষায়, চিকিৎসায় তিনি অর্থদান করেছেন। মানুষকে মানুষের মতো বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। কুমুদিনী ট্রাস্ট্রের মাধ্যমে অনেক কাজ করা হচ্ছে। জনগণের সেবায় সবসময় আমাদের সহযোগিতা থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু। একটাই আলো ছিল, জনগণের ভালোবাসা। সেটা নিয়েই কাজ করেছি। মনে রেখেছি বাবা কী করতে চেয়েছিলেন। মনে রেখেছি তার কাজের একটুকুও যদি আমি করতে পারি সেটাই হবে আমার বড় সাফল্য। বাংলাদেশকে এখন বিশ্ব উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে দেখে। আমরা আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই।’

উল্লেখ্য, এবছর যে চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক দেওয়া হলো তারা হলেন- পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), নজরুল গবেষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহবুদ্দীন আহমেদ। সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে বঙ্গবন্দু কন্যা শেখ রেহেনা এবং জাতীয় কবির পক্ষে কবির নাতনি খিলখিল কাজী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে রাশেদ সোহরাওয়াদী পুরস্কার নিতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি কিছুদিন আগে মৃত্যুবরণ করেন। তাই শেখ রেহানা তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা ডিসপ্লে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রদর্শন করে। বিকালে একই স্থানে তিনি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সফর শেষে বিকাল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হবেন।

আরও খবর

  • যে অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে
  • যেসব কারণে রোযা কাফফারা ওয়াজিব হয়
  • যেসব কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় (২য় পর্ব)
  • ক্ষেতে ২৭ প্রকার নতুন ধান
  • রাজশাহীতে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হবে ১০০ টন
  • রাজশাহীর ৮৩ শতাংশ স্কুলের পাশেই বিক্রি হচ্ছে তামাকপণ্য
  • বর্ষার বাবাকে পিটিয়ে দাঁত ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন মোহনপুরের ওসি
  • ‘ধানের দাম নিয়ে খুবই চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী’
  • রাজশাহীতে ইউপি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে শিবির কর্মী
  • ‘মাদকের চেয়েও সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি মারাত্মক’
  • রাজশাহীর বাজারে ‘বোম্বাই’ লিচু
  • বরেন্দ্রের মাটিতে নতুন ফল
  • যেসব কারণে রোযা ভেঙ্গে যায়
  • যেসব কারণে রোযা ভাঙ্গেনা (পর্ব-২)
  • যে কারণে আত্মহত্যা করে মোহনপুরের স্কুলছাত্রী বর্ষা



  • উপরে