‘শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় ১৯ বার’

‘শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় ১৯ বার’

প্রকাশিত: ১২-১০-২০১৮, সময়: ১৩:৫৮ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বর্বোরচিত এবং জঘন্যতম ঘটনা ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা। বতমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কখনো নিজ বাসভবনে, কখনো জনসভায় আবার কখনো তার গাড়ির বহরে হামলা করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেছেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি প্রতিবারই হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, প্রথম হামলার শিকার হন ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি। সেদিন চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আট দলীয় জোটের মিছিলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য পুলিশ ও বিডিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় সাত জন, আহত হয়েছিল ৫৪ জন। এরপর ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট রাতে ফ্রিডম পার্টির একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা চালায়।

১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় ফিরে বেলা আড়াইটায় গ্রিন রোডের কাছে ধানমন্ডি স্কুলে উপ-নির্বাচনের ভোট প্রদানের পর গ্রিন রোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ভোটের পরিস্থিতি দেখতে যান। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াহিদের নেতৃত্বে বিএনপি কর্মীরা গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোর রেল স্টেশনে প্রবেশের মুখে তাকে বহনকারী রেল গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। ১৯৯৫ সলের ৭ ডিসেম্বর ঢাকায় শেখ রাসেল স্কোয়ারের নিকট সমাবেশে ভাষণ দানরত অবস্থায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপর গুলিবর্ষণ করা হয়।

১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর আকস্মাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হলে ২০ জন আহত হয়।

১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্রকন্যাসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার ই-মেইল করে ইন্টার এশিয়া টিভি মালিক শোয়েব চৌধুরী। ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ও হ্যালিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রেখেছিল। ঘটনাস্থলের কাছে শেখ লুৎফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠের এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাখার কথা ছিল। ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জঙ্গিরা সেখানে বোমা পুঁতে রাখে যা গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে।

২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট গিয়েছিলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে জনসভা স্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। ২০০২ সালের ৪ মার্চ যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায়।

২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালায়। ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান। সেখান থেকে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার ওপর বিএনপি ও যুবদলের যাত্রীবাহী বাস দিয়ে বেরিকেড দিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-বিএনপির ঘাতক চক্র।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই অন্যায়ভাবে বিনা ওয়ারেন্টে সেনাবাহিনী সমর্থিত ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল। তাকে রাখা হয়েছিল জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে। সেসময় শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত বিষ দিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। স্লো পয়জনিং এর কারণে সেখানে আটক থাকাকালে শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

২০১১ সালে শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সাথে বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সেজন্য আগাম পেমেন্টও প্রদান করা হয়। সেসময় সেই আততায়ীদের টিম গাড়ি করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যা পরে ব্যর্থ হয়ে যায়। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা প্রকাশ করে। ২০১৪ সালের শেষে দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুত্থান পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার জঙ্গি শাহানুর আলম ওরফে ডাক্তার।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময়ে কাওরান বাজারে তার গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গি গোষ্ঠী। তখন কাওরান বাজার এলাকায় কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়।

আরও খবর

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তর্জাতিক তিন পুরস্কার হস্তান্তর
  • রাজশাহীতে ভোটে লড়তে চান এক ডজন নারী
  • তরুণদের সঙ্গে কথা বলতে ‘লেটস টক’ এ আসছেন প্রধানমন্ত্রী
  • ভোট পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর
  • স্বতন্ত্র লড়বে জামায়াত, টার্গেট ৩০ আসন
  • মান্দায় দশ বছরে ৬৮ কি.মি. কাচা রাস্তা পাকা
  • আর্থিক সংকটে বিএনপি নেতারা
  • নৌকার টিকিট চান রাবির ৫০ সাবেক ছাত্রনেতা
  • ‘আ.লীগ জোটে আসছে যুক্তফ্রন্ট’
  • ‘নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে’
  • প্রার্থী তালিকা ফাঁস নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড় (তালিকাসহ)
  • রাজশাহী বিভাগে আ.লীগ-বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন যারা
  • ৩০০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন যারা (তালিকাসহ)
  • নওগাঁ-৪ আসনে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ
  • রাজশাহীর ছয়টি আসনের মনোনয়ন তোলার হিড়িক


  • উপরে