যে বদ-অভ্যাসগুলো ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য ভালো!

যে বদ-অভ্যাসগুলো ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য ভালো!

প্রকাশিত: ২৮-০৭-২০১৯, সময়: ১৭:৪২ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভালোবাসার সম্পর্ক আরো বেশি মজবুত করতে অনেকেই নানা কিছু করে থাকেন। এই কারণে দুজনে মিলে যথেষ্ট সময় কাটিয়ে থাকেন অনেকেই। মাঝে মধ্যে ঝগড়া করার অভ্যাসগুলোও অদ্ভুতভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে ভালোবাসার গভীরতা। তবে ভালো অভ্যাসের পাশাপাশি কিছু কিছু বদ-অভ্যাসও ভালোবাসা কমানোর বদলে বাড়িয়ে দেয়। আর দীর্ঘদিন সম্পর্ক অটুট রাখতেও এগুলো কাজে দেয়। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই বদ-অভ্যাসগুলো সম্পর্কে-

কিছু কিছু বিরোধ না মেটানো
দুজন মানুষের সব মতামত এক হবে তা ভাবাটাই ভুল। আর আপনাদের মাঝে থাকা সব সমস্যারই সমাধান থাকবে এমন ভাবাটাও ভুল। আপনি ভাবতেই পারেন, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে খোলা মনে আলোচনা করলেই সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। আসলে কিন্তু তা নয়। এমনও সমস্যা থাকতে পারে যা কখনোই মিটবে না। বরং ছোট্ট একটা সমস্যা মেটাতে গিয়েই সম্পর্কে বড় ফাটল ধরতে পারে। এ কারণে এমন ছোটখাটো সমস্যা যেখানে আছে, সেখানেই থাকতে দেয়াটা খারাপ কিছু নয়।

একে ওপরের অনুভূতিতে আঘাত দেয়া
অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন এটা শুনে। কিন্তু অনুভূতিতে এভাবে আঘাত করাটা জরুরি হয়ে পড়ে অনেক ক্ষেত্রে। কারণ মিথ্যা বলে তার মন ভালো করে দেবার চাইতে সত্যি কথা বলে তার মন খারাপ করে দেয়াটা ভালো। যে মানুষটিকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসেন, তার সামনে সত্যি কথাটা বলবেন না তো কার সামনে বলবেন? এতে ভালোবাসা বাড়ে, কমে না।

সম্পর্ক শেষ করে দেবার মনোভাব
প্রেম করলেই সেটা সারাজীবনের জন্য টিকে যাবে, এমনটা ভাবি আমরা। সম্পর্ক বাঁচাতে অনেক সময়েই নিজেকে ছোট করে ফেলি আমরা। নিজেদের চাইতে সঙ্গীর ইচ্ছের মূল্য দেই বেশি। কিন্তু তখন এটা মোটেই সুস্থ একটি সম্পর্ক থাকে না। এক্ষেত্রে অনেক সময়ে নিজের এবং সঙ্গীর ভালোর জন্যই সম্পর্কটাকে শেষ করে দেয়ার দরকার হয়। এতে ভাবার দরকার নেই যে আপনাদের সম্পর্কটা ব্যর্থ। বরং এভাবে চিন্তা করুন, সারা জীবন অতৃপ্ত একটি সম্পর্কে থাকার চাইতে দুজন সুখী হবেন এমন ব্যবস্থা নেয়াই ভালো।

নিজের সঙ্গী ছাড়াও অন্যদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করা
সাধারণত নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকা ছাড়া অন্য কারও দিকে তাকানোই যাবে না- সম্পর্কের একটি অবিসংবাদিত নিয়ম এটা। আমরাও ভাবতে ভালোবাসি যে সঙ্গীটি ছাড়া আর কারও দিকে আমাদের দৃষ্টি যাবে না। কিন্তু প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই অন্যদের প্রতি আমাদের আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। অনেকেই প্রেমিক বা প্রেমিকা ছাড়াও অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন এবং অপরাধবোধে ভোগেন। এতে দুঃখ পাবার কিছু নেই। প্রকৃতির নিয়মেই একাধিক মানুষের প্রতি আমাদের আকর্ষণ থাকতে পারে। কিন্তু আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন প্রেমিক বা প্রেমিকার প্রতি আপনাদের আকর্ষণটাই টিকে থাকছে, অন্য মানুষগুলোর প্রতি আকর্ষণ বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। সুতরাং এতে দুঃখ পাবার কিছু নেই।

আলাদা সময় কাটানো
সারাক্ষণ আঠার মতো একজন আরেকজনের সঙ্গে লেগে থেকে সময় কাটানো মানেই ভালো সম্পর্ক নয়। সম্পর্কে যাবার পর পরই মানুষটি হারিয়ে যায় আড্ডা থেকে। তার বন্ধুরাও এ ব্যাপারে মত দেবেন। এটা ঠিক যে প্রেমে পরার পর ভালোবাসার মানুষেরএ,সঙ্গে সব সময় থাকতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আসলেই সবটা সময় তার সঙ্গে কাটাতে হবে। তার থেকে দূরে কিছুটা সময় থাকাও জরুরি। বিশেষ করে পরিবার, বন্ধু এবং সর্বোপরি নিজের জন্য সময় আলাদা রাখার মাঝে দোষের কিছুই নেই।

তার কিছু ভুল-ত্রুটি মেনে নেয়া
ভালোবাসার মানুষটিও মানুষ তো। তারও কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, ভুল হতে পারে। তার মানে এই নয় যে তার ভালোবাসায় খাদ আছে। তার ত্রুটিগুলোকে ঠিক করার ইচ্ছে থাকতেই পারে। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকবেই, সেগুলো মেনে নিয়ে তাকে ভালোবাসাটাই আসল। যেমন- তিনি হয়তো ঠিক ভাবে চুল গোছাতে পারেন না। এতে বিরক্ত না হয় বরং এলো চুলের মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে নেয়ার মাঝেই সম্পর্কের সফলতা রয়েছে।

উপরে