আস্থা থাকুক ভালোবাসায়

আস্থা থাকুক ভালোবাসায়

প্রকাশিত: ২৩-০৭-২০১৯, সময়: ১৬:৫৯ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই নারী-পুরুষের অধিকার এবং পারস্পরিক সম্পকের্র ব্যাপারে প্রতিটি ধমের্ই তাদের দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করেছে বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, ‘একটি গাড়ির দুটি চাকা, গাড়ি চলতে হলে চাকা দুটোকে সমান হতে হবে। একটি চাকা বড় এবং একটি চাকা ছোট হলে গাড়ি চলবে না । নারী পুরুষের বেলায়ও তাই।’ একটি সংসার সুখের হওয়ার জন্য কি প্রয়োজন? আবেগী কেউ হয়তো বলবেন ভালোবাসা? বাস্তববাদীরা হয়তো বলবেন টাকা! শুধু ভালোবাসায় যেমন পেট ভরে না, তেমনি টাকা দিয়েও সুখ বা শান্তি কেনা যায় না…

আস্থা থাকুক ভালোবাসায় জীবনের স্রোতধারার অনিবাযর্ সঙ্গী হলো মানবজাতি ‘নর’ এবং ‘নারী’। মানবজাতির এই জীবনধারাকে প্রবাহমান গতি দিয়েছে সেই সৃষ্টির আদি মানব আদমের যুগ থেকে। বতর্মান বিশ্বের ৬১০ কোটি মানুষ যুগ-যুগান্তের ধারাবাহিক উত্তরাধিকারী এখন।

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই নারী-পুরুষের অধিকার এবং পারস্পরিক সম্পকের্র ব্যাপারে প্রতিটি ধমের্ই তাদের দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করেছে বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, ‘একটি গাড়ির দুটি চাকা, গাড়ি চলতে হলে চাকা দুটোকে সমান হতে হবে। একটি চাকা বড় এবং একটি চাকা ছোট হলে গাড়ি চলবে না । নারী পুরুষের বেলায়ও তাই।’ একটি সংসার সুখের হওয়ার জন্য কি প্রয়োজন? আবেগী কেউ হয়তো বলবেন ভালোবাসা? বাস্তববাদীরা হয়তো বলবেন টাকা! শুধু ভালোবাসায় যেমন পেট ভরে না, তেমনি টাকা দিয়েও সুখ বা শান্তি কেনা যায় না। ধরুন, একটি সংসারে ভালোবাসা ও সচ্ছলতা দুটোই আছে! তবুও সে সংসারে সুখ থাকে না কেন? উত্তর কি? এডজাস্টমেন্টের সমস্যা বা মতের অমিল অথবা বোঝাপড়ার অভাব! ভিন্ন ভিন্ন পরিবারে বড় হওয়া মানুষগুলোই আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের মধ্য থেকেই আমরা আমাদের জীবনসঙ্গী খুঁজে নেই। তাই মতের অমিল হওয়াটা কী অস্বাভাবিক কিছু? যেমন ধরুনÑ অতি আধুনিক সচ্ছল পরিবারের মেয়ে এবং গ্রাম থেকে উঠে আসা শিক্ষিত, ভালো চাকরি করে এমন ছেলের মধ্যে যদি বিয়ে হয় এডজাস্টমেন্টে প্রবলেম হওয়াটাই স্বাভাবিক। সম্পূণর্ দুটি ভিন্ন পরিবেশ থেকে এসে যখন দুটি মানুষ এক হয় তাদের মধ্যে ভালোবাসাতো তৈরি হয়ে যায়, কিন্তু সব বিষয়ে মতের মিল না ও হতে পারে! বিয়ের প্রথম দুয়েএক বছর হেসে খেলে, আনন্দে কেটে যায়। সেই সময়ে একজনকে আরেকজনের যতটুকু জানা হয়, মনে হতে পারে সেটাই পুরোপুরি জানা। কিন্তু না! সেই সময়টায় শুধু সঙ্গীর অভ্যাস, পছন্দ-অপছন্দের জিনিসের নামগুলোই জানা যায়।

যত দিন যায় একটু একটু করে একজন আরেকজনকে জানার পাশাপাশি বুঝতে শিখে আর এমনিভাবে সম্পকর্ পরিণত ও পরিপক্কতা লাভ করে। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনের পরিপক্কতা যেমন আসে তেমনি সম্পকের্র বয়সের বেলায়ও তাই। শুনেছিÑ একটা মানুষকে জানার জন্য একটা পুরো জীবনও নাকি কম হয়ে যায়। বুঝুনÑ মানুষের মন কতটা জটিল! অথার্ৎ সম্পকের্র শুধু আনন্দের সময়টা থেকে যেমন দুঃখ উপলব্ধি করা যায় না তেমনি শুধু দুঃখের সময়টা থেকেও সুখটাকে উপলব্ধি করা যায় না। তাই সম্পকর্টাকে টাইম ও স্পেস দুটোই দিতে হয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পকর্ শুধু সন্তান জন্ম দেয়া আর এক ছাদের নিচে থাকা নয়। এক ছাদের নিচে থাকাটা ঘর বা আশ্রয় হতে পারে, সংসার হতে পারে না। সংসার নামক দীঘর্ পথ আগে-পিছে থেকে পাড়ি দেয়া যায় না, পাশাপাশি হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পকর্ এত মজবুত না যে, দিনের পর দিন একজনের ভুল আরেকজন সহ্য করে নিয়ে একসঙ্গে থেকে যাবে। আবার এতো বেশি নাজুকও না যে, একজনের সামান্য একটু ভুলেই সম্পকের্র ইতি ঘটে যেতে পারে। শুধুমাত্র সন্তানের সঙ্গে পিতমাতার সম্পকর্ ছাড়া পৃথিবীতে আর কোনো সম্পকর্ চিরস্থায়ী না। সুতরাং সম্পকের্ক দুই দিক থেকেই যত্ন করতে হয়।

তিন অন্ধের হাতি দেখার গল্পটা নিশ্চয়ই জানেন। যে যার জায়গা থেকে রাইট। তাই সঙ্গী যখন আপনার বিরুদ্ধে মত দেবে তখন আপনার উচিত একবার হলেও তার দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই জিনিস বিচার করে দেখা। সংসার সুখের করার জন্য প্রয়োজন পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ ধরে রাখা। প্রয়োজন ইগো বিসজর্ন দেয়া। অনেকে ইগোকে আত্মসম্মানের নাম দিয়ে থাকেন। ইগোকে আত্মসম্মানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। দুটো দুই জিনিস।

স্বামী-স্ত্রীর কাছ থেকে কিছু চাওয়ার পরিবতের্ তাকে কোনো কিছু দিতে পারার আনন্দ অনেক বেশি। নিঃশতর্ ভালোবাসা যে সম্পকর্ তৈরি করে, কোনো চাহিদা-চুক্তি-কতৃর্ত্ব সে রকম সম্পকর্ তৈরি করতে পারে না। কাজেই কোনো রকম প্রাপ্তির প্রত্যাশা না করে শুধু দিয়ে যান। তাহলেই সমাজ সংসারে মাথা উঁচু করে থাকতে পারবেন।

উপরে