শিক্ষক আন্দোলনে ‘স্থবির’ রুয়েট

শিক্ষক আন্দোলনে ‘স্থবির’ রুয়েট

প্রকাশিত: ১১-০২-২০১৭, সময়: ১৮:২২ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ‘সীমা লঙ্ঘনকারী’ শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির দাবিতে টানা ছয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পরও তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক সমিতি।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হেড ইঞ্জিন ল্যাবের কনফারেন্স কক্ষে শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আলীম।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজকের সভায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে স্থির রয়েছি। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেটা আগে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন মনিটরিং কমিটি করবে।’
দুই সিরিজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কেনো পুরো বিশ্ববিদ্যালয় স্থবির করে দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আব্দুল আলীম আরো বলেন, ‘এই বিষয়টি আমরা সভায় উত্থাপন করেছিলাম। কিন্তু সাধারণ শিক্ষকদের দাবির মুখে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে অটুট রয়েছি। সাধারণ শিক্ষকদের ক্ষোভের কারণ, শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে এমন সব কথা লিখেছে, যা পড়া যায় না। আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো অনুতাপ নাই। তাদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এটা অব্যহত থাকবে।’
এর আগে ৩৩ ক্রেডিট বাতিলের দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন করে রুয়েটের ২০১৪ ও ২০১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। তবে অন্য সিরিজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক ছিল। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে আবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে ৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় রুয়েট।
এরপরই ওইদিন দুপুর ২টার দিকে রুয়েটের শিক্ষক সমিতি জরুরি এক সাধারণ সভায় আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অসদাচারণের অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সবধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা করে। ফলে প্রায় ১৪ দিন ধরে ‘অচল’ হয়ে আছে রুয়েট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে চাই। আন্দোলনের সময় অনেক কিছুই হয়। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আবার কিছু শিক্ষার্থীও হয়তো কিছু ভুল করে থাকতে পারে। তাই বলে তো, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এর ফল ভোগ করতে পারে না।’
‘তারপরও আমরা শিক্ষকদের আমরা ক্ষমা চেয়েছি, আজকেও আমাদের ক্লাসের সিআরসহ বেশ কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমাদের আশা থাকবে, শিক্ষকরা আমাদের ক্ষমা করে দিয়ে ক্লাসে ফিরে আসবে’ বলেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রুয়েট শাখা ছাত্রলীগ শিক্ষকদেরকে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপু বলেন,‘ শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেকেই সেশনজটের আশঙ্কায় রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছি তারা যেনো ক্লাসে ফিরে আসেন। ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা চালু রেখেও তার সমাধান করা সম্ভব’ বলে মনে করেন তিনি।

উপরে