শিক্ষকদের আন্দোলনে রুয়েটে সেশনজটের শঙ্কা

শিক্ষকদের আন্দোলনে রুয়েটে সেশনজটের শঙ্কা

প্রকাশিত: ০৭-০২-২০১৭, সময়: ১৭:৫২ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : শিক্ষক অবরোধ ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গত শনিবার লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েটে) শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির এ ঘোষণা অনুযায়ী দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার শিক্ষকরা কোন বিভাগেই ক্লাস-পরীক্ষা নেননি। শিক্ষকদের এই কর্মসূচিতে রুয়েটে দীর্ঘ সেশনজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রুয়েট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকদের এই কর্মসূচীর প্রথম দিনেই রুয়েটের ১২ সিরিজের শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সপ্তম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কিনা সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ১৪ সিরিজের পরীক্ষার তারিখ নির্ধরিত থাকলেও শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
১২ সিরিজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যদি স্যারদের কাছে ক্ষমা চান তাহলে হয়তো তারা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিবেন। তা নাহলে আমাদের সপ্তম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে। এভাবে চললে আমরা সেশনজটে পড়বো।’
অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘ভিসি স্যার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে ক্লাসে ফিরে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু দাবি মেনে নেওয়ার পরেই স্যারদের এমন সিদ্ধান্তে আমরা অনিশ্চতায় পড়েছি। আমরা স্যারদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি তারপরও কেন এমন সিদ্ধান্ত জানি না।’
এ ব্যাপারে রুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নিরেন্দ্রনাথ মুস্তাফি বলেন, ‘শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে পাঠদান। আমরাও দ্রুত ক্লাস নিতে চাই। কিন্তু শিক্ষক অপমানকারীদের শাস্তি না হলে সেটা সম্ভব না। সেজন্য সেশনজটের সৃষ্টি হলে আমাদের কিছু করার নেই।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে শিক্ষকদের সম্মানহানি ও হেনস্তা করা হয়েছে। শিক্ষকদের যে সম্মান পাওয়ার কথা তাই যদি না থাকে তাহলে আমরা সেই ছাত্রদের ক্লাস হাসিমুখে নিতে পারি না। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করলেই আমরা কর্মসূচী প্রত্যাহার করবো।’
এ ব্যাপারে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করে আসছিল রুয়েটের ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অষ্টম দিন শনিবার শরীরের রক্ত ঢেলে এবং উপাচার্যসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে রবিবার তাদের দাবি মেনে নিয়ে ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে রুয়েট প্রশাসন। এদিকে ওই দিনই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে পরদিন সোমবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় রুয়েট শিক্ষক সমিতি। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবারও রুয়েটের কোর বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দাবি না মানা পর্যন্ত পাঠদান থেকে বিরত থাকার ঘোষণায় অনড় শিক্ষকরা। এতে রুয়েটের ৩ হাজার শিক্ষার্থী পড়েছেন দীর্ঘ সেশনজটের শঙ্কায়।

উপরে